ঘাস মারার বিষে ক্ষতিকর প্রভাব যেন না পড়ে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। ফসলের ক্ষেত দ্রুত প্রস্তুতকরণে অনেকেই ঘাস মারতে এক ধরনের বিষ ব্যবহার করে। রাতে ফসলের ক্ষেতে দিয়ে রাখলে পুরো ক্ষেতের ঘাস সকালে দেখা যায় হলুদ হয়ে মরে আছে! এ বিষে প্রাকৃতিক জৈব অর্গান যা রয়েছে, তা কি বেঁচে থাকে? মানুষের পা অনেকটাই স্পর্শকাতর। বিষ দেওয়ার পর এর ওপর দিয়ে হাঁটলে শরীরে এর প্রভাব পড়ে। যখন বিষ দেওয়া হচ্ছে তখন পাখি, পোকামাকড় যা-ই এ বিষের ওপর বসুক বা খাবার গ্রহণ করুক, মৃত্যুঝুঁকি থাকে। এ ধরনের বিষ একাধারে জলজ ও স্থলজ এবং পক্ষিকুলের জন্য হুমকি! টক্সিক কোনো পদার্থ মাটিতে ব্যবহার করলে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। ঘাস মারতে অনেক ধরনের বিষ বাজারে আছে। এগুলো কোনটার গুণাগুণ কী ধরনের তা নিয়ে কৃষি বিভাগের আরও কাজ করা প্রয়োজন। এমনিতেই ধানক্ষেতে আগে যে রকম মাছ পাওয়া যেত, তা আর পাওয়া যায় না। কমে গেছে ব্যাঙ প্রজাতি; হ্রাস পাচ্ছে জলজ প্রাণীর সংখ্যাও।

ঘাস ওষুধ দিয়ে না মেরে লাঙল চাষ করে তা ওপরে ফেলে পরে বেছে নিলে সময় বেশি লাগে বটে, তবে তা প্রাকৃতিক। কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক সফলতা এলেও কীটনাশক, সার ও বিষ ব্যবহারে এখনও কৃষকদের পুরোপুরি সচেতন করা যায়নি। টেকসই কৃষি ব্যবস্থাপনার জন্য রাসায়নিক নিরাপত্তাজনিত আরও প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। এর সঙ্গে সঙ্গে কী কী ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার হচ্ছে, তা বন্ধেও পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তাই ঘাস মারার ওষুধ ব্যবহার বন্ধে পদক্ষেপ গ্রহণে কৃষি বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

শ্রীপুর, গাজীপুর

মন্তব্য করুন