পরিবেশবান্ধব ঢাকা কতদূর?

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২০     আপডেট: ১১ জুলাই ২০২০

মো. শাহিন রেজা

ঢাকায় কর্মসংস্থানের তাগিদে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ আসছে। ফলে দিন দিন এ শহরে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ছাড়া অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা অবকাঠামো, কলকারখানা, মোটরযানের বিষক্ত ধোঁয়া, বাসাবাড়ি ও রাস্তার ধারের বর্জ্য, গাড়ির হর্ন, ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনায় ত্রুটিসহ নানা কারণে ঢাকা বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠছে। বলা বাহুল্য, দেশের অন্যান্য শহরেও পরিবেশ দূষণের মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব কারণে পরিবেশ দূষণের তালিকায় ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, প্রতিবছর বাংলাদেশে ২৮ শতাংশ মানুষ মৃত্যুবরণ করে পরিবেশ দূষণজনিত বিভিন্ন রোগের কারণে।

সারাবিশ্বের দূষিত বায়ুর শহরগুলোর মধ্যে ঢাকা কখনও প্রথম কখনও বা দ্বিতীয় স্থানে থাকছে। করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে সম্প্রতি ঢাকার বাতাসের মানের উন্নতি হয়েছে। গত ২৫ বছরে বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশ ও ভারতে বায়ুদূষণের পরিমাণ বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। ঢাকা শহরের চার পাশ দিয়ে বয়ে গেছে বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যাসহ বেশ কয়েকটি নদী। যাতায়াত, ব্যবসা-বাণিজ্যের কাজে নদীর গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু নদীগুলো আজ দূষণে সঙ্গীন। শহরের চার পাশে সাত-আট হাজার শিল্পপ্রতিষ্ঠান। ট্যানারি শিল্প, রাসায়নিক কারখানার দূষিত বর্জ্য, পয়ঃবর্জ্য নদীর পানি দূষণ করছে। আমাদের দেশের কারখানাগুলোতে আধুনিক প্রযুক্তিতে বর্জ্য শোধনের ব্যবস্থা না থাকায় দূষিত বর্জ্য সরাসরি নদীর পানিতে মিশে যাওয়ার ফলে জলজ প্রাণী বিপন্ন হচ্ছে। পানির ওপর দিয়ে প্রবাহিত গন্ধযুক্ত ও দূষিত বাতাস নদীর তীরবর্তী অঞ্চলের মানুষের চরম সমস্যায় ফেলছে।

ঢাকা শহরে বনাঞ্চলের পরিমাণ তেমন না থাকায় তাপমাত্রা বেশি থাকে, যা মানবজীবন ও পরিবেশের ওপর প্রভাব ফেলে। ঢাকার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে কৃষি জমিতে অতিরিক্ত পরিমাণে সার ও কীটনাশক ব্যবহারে মাটি ও বায়ু দূষিত হচ্ছে। বিভিন্ন কারণে বাতাসে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় তাপমাত্রা বাড়ছে। এতে দুর্যোগের আশঙ্কা বাড়ছে। পরিবেশ দূষণের কারণে মানুষ নানা ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে, শিশু এবং বয়স্ক মানুষ বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। ঢাকাতে সুপেয় পানির অভাবে মানুষ ডায়রিয়া, জন্ডিস, আমাশয়সহ পানিবাহিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বায়ুদূষণের ফলে ফুসফুসের সমস্যায় ভুগছে অনেকে।

ঢাকা শহরের পরিবেশ দূষণ রোধে বৃক্ষরোপণের পরিমাণ বাড়াতে হবে। অবকাঠামো নির্মাণে পরিবেশের ওপর প্রভাব বিবেচনায় নিতে হবে। শিল্পকারখানা, ইটের ভাটা আবাসিক এলাকা থেকে দূরে নির্দিষ্ট স্থানে পরিকল্পিতভাবে স্থাপন করতে হবে। জৈব সারের ব্যবহার বাড়াতে হবে। নদীদূষণ ও দখল রোধে আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন প্রয়োজন, গার্মেন্ট ফ্যাক্টারিতে বর্জ্য ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপন, প্রশিক্ষিত চালক ও পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবস্থা করাসহ পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন পদ্ধতি গ্রহণ করে ঢাকা শহরকে দূষণমুক্ত শহরে পরিণত করার উদ্যোগ নিতে হবে। করোনাভাইরাসে ঢাকা বলা চলে শান্তিতেই ছিল। এখন আবার শুরু হয়ে গেছে যানজট, ফিরে আসছে আগের চিত্র। তার আগেই ঢাকা রক্ষায় ব্যবস্থা চাই।

শিক্ষক