ধর্ষণ প্রতিরোধে করণীয়

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২০     আপডেট: ১১ জুলাই ২০২০

আব্দুল্লাহ আল মামুন

বাংলাদেশের ধর্ষণের কারণ অনুসন্ধান করতে চাইলে আমাদের একজন ধর্ষকের ছোট থেকে বেড়ে ওঠা বা সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়াকে লক্ষ্য করতে হবে। এদেশে পরিবার থেকে শিশুদের যৌনতা বিষয়টিকে নিষিদ্ধ হিসেবে চিহ্নিত করে শিক্ষা দেওয়া হয়। এতে সন্তানরা কৌতূহলবশত অনেক কাজ করে ফেলে অভিভাবকদের অগোচরে। পরে শিশুটি যখন বড় হয়, তখন সে যৌন শিক্ষা পায় হয়তো তার কোনো বন্ধুর কাছ থেকে কিংবা ইন্টারনেট থেকে। এ দুটি মাধ্যমের কোনোটিই রুচিশীল কোনো শিক্ষা দিতে পারে না।

আমাদের দেশে এমন অনেক বিষয় আছে, যেগুলো নিষিদ্ধ হিসেবে দেখা হয়। অথচ যুব সমাজ পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রভাবে এসব কাজে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। দেশে ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ধর্ষণ প্রায় একই রেখায় থাকলেও ২০১৯ সালে তা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। এমন ব্যাপক হারে ধর্ষণ বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য আরও যেসব বিষয় প্রভাবক হিসেবে কাজ করে, সেগুলো হলো : পারিবারিক সহিংসতা, বাবা-মার বিচ্ছেদ, মাদকাসক্তি, প্রেমে ব্যর্থতা, মানসিক সমস্যা, অশ্নীল বিনোদনের মাধ্যম, ক্ষমতার অপব্যবহার, বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা, প্রয়োজনীয় নৈতিক শিক্ষার অভাব ইত্যাদি।

বিখ্যাত উপযোগবাদী দার্শনিক ও অপরাধচিন্তক জেরেমি বেন্থাম অপরাধ সংঘটিত হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করার জন্য একটি তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা দেন। এই তত্ত্ব অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি অপরাধ করার আগে মনে মনে মেপে নেয়, অপরাধ করার ফলে সে কতটুকু আনন্দ পাবে এবং অপরাধের জন্য তার শাস্তি কতটুকু হতে পারে। যদি শাস্তির তুলনায় আনন্দ বেশি পাবে বলে তার মনে হয়, তাহলে সে অপরাধটির সঙ্গে যুক্ত হয়। অন্যদিকে, যদি আনন্দের তুলনার শাস্তির পরিমাণ বেশি হয় তাহলে সে অপরাধটি করে না। আমাদের দেশে ধর্ষণ না কমার জন্য একটি কারণ হতে পারে শাস্তির অপর্যাপ্ততা; কারণ দণ্ডবিধি প্রণয়ন করা হয়েছিল ১৮৬০ সালে, যা বর্তমান সময়ের অনেক অপরাধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। দণ্ডবিধির ৩৭৬ ধারা অনুযায়ী ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন বা ১০ বছরের কারাদণ্ড। কিন্তু বর্তমানে ধর্ষণের প্রকোপতার বিচারে সেটি পরিবর্তন করা উচিত।

এ ছাড়াও দেশের প্রতিটি পরিবার থেকে সন্তানকে সঠিক ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা দিতে হবে এবং বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করতে হবে, যাতে করে তারা বিপথে যেতে না পারে। নারীদের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে হবে, তাদের শুধু ভোগ্যপণ্য হিসেবে নয়, সমাজে টিকে থাকার জন্য সহযোদ্ধা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। বিভিন্ন অশালীন সিনেমা, বিজ্ঞাপন, সাহিত্য ও ওয়েবসাইটগুলো নিষিদ্ধ করতে হবে। পুলিশ প্রশাসনকে আরও বেশি এসব ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে। নারীদের কর্মস্থল, আবাসস্থলকে আরও বেশি নিরাপদ করতে হবে। সর্বোপরি আমাদের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সচেতনতা ধর্ষণকে রুখে দিতে পারে।

শিক্ষার্থী, তৃতীয় বর্ষ, অপরাধতত্ত্ব ও পুলিশ বিজ্ঞান বিভাগ, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, টাঙ্গাইল
m.nirob564@gmail.com