দেশের একমাত্র প্রাচীনতম সরকারি সঙ্গীত মহাবিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৬৩ সালে। এটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বিশিষ্ট সঙ্গীতজ্ঞ বারীণ মজুমদার। পরে এটি বর্তমান আগারগাঁওয়ে নিজস্ব ভবনে স্থানান্তরিত হয়। তখন থেকেই দেশের এই অন্যতম ও প্রাচীন সঙ্গীত মহাবিদ্যালয়টিতে সঙ্গীতে বিএ (বিমিউজ) ও এমএ (এমমিউজ) শ্রেণিতে শিক্ষা ও সনদ দেওয়া হচ্ছে। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করলেই এখানে ভর্তির সুযোগ মেলে। শুরুতেই চারটি বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ তৈরি করে দেওয়া হয়। নজরুলসঙ্গীত, রবীন্দ্রসঙ্গীত, ফোক বা লোকসঙ্গীত ও ঊচ্চাঙ্গসঙ্গীতের যে কোনো একটি বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করা যায়। স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত অনেক ব্যাচ বেরিয়ে এসেছে এই সঙ্গীত মহাবিদ্যালয় থেকে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, দেশের এ মহাবিদ্যালয়টি থেকে যে সনদ দেওয়া হচ্ছে তা এখানকার শিক্ষার্থীদের কতটুকু ভবিষ্যৎ ডাল-ভাত আয়ের পথ করে দিচ্ছে?

এখানে এসএসসি পাসের পর আইমিউজ (ইন্টারমিডিয়েট অব মিউজিক) পড়া শুরু করা যায়। এর পর বিমিউজ (ব্যাচেলার অব মিউজিক) ও এমমিউজ (মাস্টার অব মিউজিক) শিক্ষা দেওয়া হয় এখানে। অধিকাংশ শিক্ষার্থী মহাবিদ্যালয়গুলো থেকে মাধ্যমিক পাস করেই এখানে বিমিউজ ও আইমিউজ পড়তে আসে।

সম্প্রতি সঙ্গীতের ওপর সম্মান শ্রেণি খোলা হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হচ্ছে, দেশের সব বিদ্যালয়ে সঙ্গীতের বিষয়টি সংযুক্ত থাকলেও কোনো বিদ্যালয়ে আজ পর্যন্ত এ শিক্ষায়তন থেকে মাস্টার্স করে বের হওয়া কোনো গ্র্যাজুয়েটকেই শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

সম্প্রতি শিল্পকলা একাডেমিতে কয়েকজন কণ্ঠশিল্পীকে দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু সেখানেও যোগ্যতার ঘরে উল্লেখ করা হয়, 'সঙ্গীতের বিষয়ে কমপক্ষে পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা' থাকতে হবে। অথচ দেশের এই সঙ্গীত মহাবিদ্যালয় থেকে যারা সেখানে মিউজিকের ওপর ডিগ্রি ও মাস্টার্স লাভ করেছেন, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হলো না। এই মহাবিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে বের হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য এটি দেশের মধ্যেই একটি অভিশাপ।

তাদের মূল্যায়নের জন্য কয়েকটি সুপারিশমালা দেওয়া হলো। সরকার ও সুধী সমাজ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন আশা করি।

সুপারিশমালা : ১. প্রতিটি বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সঙ্গীত শিক্ষা বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগ দান করতে হবে;

২. সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে শিল্পকলা বিষয়ের ডিগ্রিধারীদেরই নিয়োগ দিতে হবে;

৩. সরকারের জেলা-উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত সব স্তরের সংস্কৃতি কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য অফিস ও দপ্তরগুলোতে সঙ্গীতের বিষয়ে সনদধারীদের অগ্রাধিকতার দিতে হবে;

৪. দেশের অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি শূন্যপদগুলোতে এই সনদধারীদের প্রবেশের সমান সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে হবে।

ঢাকা
ataturk.pasha@yahoo.com

মন্তব্য করুন