খুলনায় প্রতিদিনই বাড়ছে করোনা রোগী। গত ছয় দিনে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ৩১৪ জন। গতকাল বৃহস্পতিবার শনাক্তের হার ছিল ৩২ দশমিক ২৯ শতাংশ। রোগী বাড়তে থাকায় প্রস্তুতি চলছে করোনা হাসপাতালে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে শুধু খুলনা ২০০ শয্যার করোনা হাসপাতালে করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ২০০ শয্যার হাসপাতালে বর্তমানে ১০৮টি শয্যা প্রস্তুত রয়েছে। গত বছর এ হাসপাতালে সবচেয়ে বড় সংকট ছিল আইসিইউ শয্যা ও অক্সিজেনের। তবে এক বছরেও হাসপাতালে বাড়েনি আইসিইউ শয্যা। সংকট চলছে চিকিৎসক ও নার্সের।

গতকাল বৃহস্পতিবার হাসপাতাল ঘুরে ও সংশ্নিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য গত বছর খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ ভবনে পৃথক হাসপাতাল চালু করা হয়। প্রথমে ১০০ শয্যার থাকলেও পরে ১৩০ শয্যা এবং গত জুনে ২০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। তারপরও হাসপাতালে রোগী সংকুলান করা যায়নি। বিশেষ করে জুন-জুলাই মাসজুড়ে হাসপাতালে রোগী ছিল ২২০ থেকে ২৪০-এর ভেতরে। প্রায় তিন মাস রোগীশূন্য থাকার পর গতকাল হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ১৪ জন।

গত বছর রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় আইসিইউ শয্যার সংখ্যা ১০ থেকে বাড়িয়ে ২০টিতে উন্নীত করা হয়। কিন্তু তাতেও রোগী সংকুলান করা যেত না। প্রায় প্রতিদিনই হাসপাতালের সামনে অ্যাম্বুলেন্সে মুমূর্ষু রোগীরা অপেক্ষা করতেন। বাধ্য হয়ে অনেকেই বেসরকারি ক্লিনিকে চলে যেতেন। তখন থেকে আইসিইউ শয্যা বাড়ানোর দাবি ছিল রোগীদের। এ ছাড়া অক্সিজেন সংকট ছিল তীব্র। অবশ্য গত বছরই ১০ হাজার লিটার ধারণ ক্ষমতার দুটি লিকুইড অক্সিজেন ট্যাঙ্ক স্থাপন করা হয়েছে। এতে অক্সিজেনের সংকট কিছুটা কমেছে। বর্তমানে হাসপাতালের ৭১টি শয্যায় সরাসরি অক্সিজেন সংযোগ রয়েছে।

করোনা হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক, নার্স ও ওয়ার্ডবয় মাসের ১৫ দিন কর্মরত থাকেন এবং বাকি ১৫ দিন কোয়ারেন্টাইনের ছুটিতে থাকেন। এ কারণে হাসপাতালে দ্বিগুণ জনবলের প্রয়োজন হয়।

হাসপাতালটি আইসিইউ, রেড জোন (করোনা আক্রান্ত) ও ইয়োলো জোন (উপসর্গ নিয়ে ভর্তি) তিনটি ওয়ার্ডে ভাগ করা। প্রতিদিন তিন শিফটে হাসপাতালে ২০ থেকে ২২ জন চিকিৎসক প্রয়োজন। অর্থাৎ ১৫ দিনের ছুটিসহ মোট চিকিৎসক প্রয়োজন ৪৫ জন। বর্তমানে চিকিৎসক রয়েছেন ২৮ জন। এর মধ্যে দু'জন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে রয়েছেন। এ ছাড়া নার্স প্রয়োজন কমপক্ষে ১০০ জন। রয়েছেন মাত্র ৩০ জন। অর্থাৎ প্রতিদিন দায়িত্ব পালন করছেন ১৫ জন। দ্রুত নার্সের সংখ্যা না বাড়ালে ১৫ জন নার্স দিয়ে ২০০ শয্যার হাসপাতাল পরিচালনা করা সম্ভব হবে না। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. রবিউল ইসলাম বলেন, চিকিৎসক ও নার্স পদায়নের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, রোগী বাড়লে চিকিৎসক ও নার্সের সংকট কেটে যাবে।

করোনা হাসপাতালের ফোকালপারসন ডা. সুহাস রঞ্জন হালদার সমকালকে বলেন, বর্তমানে হাসপাতালে ২০টি আইসিইউ, ১৬টি এইচডিইউসহ ১০৮টি শয্যা প্রস্তুত রয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা, চিকিৎসক-নার্স ও সম্মুখসারির করোনা যোদ্ধাদের জন্য পৃথক ১০টি কেবিন প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বাকিগুলো স্বল্প সময়ের নোটিশেই প্রস্তুত করা যাবে।

মন্তব্য করুন