সাভারে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় ঘর ও নলকূপ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে এলাকার হতদরিদ্র মানুষের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। প্রতারক আল আমিন এরই মধ্যে অন্তত তিন কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে। তার বাড়ি পটুয়াখালী। বাসা ভাড়া নিয়ে থাকত সাভার ওয়াপদা রোডের মালঞ্চ এলাকায়। আল আমিন নিজেকে বঙ্গবন্ধু পক্ষাঘাত ও পেশাজীবী পরিষদের মহাসচিব বলে দাবি করলেও এ সংগঠনের কোনো নিবন্ধন কিংবা অনুমোদন নেওয়া হয়নি বলে জানান উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শিবলীজ্জামান।

সম্প্রতি ওই সংগঠনের সভানেত্রী দাবি করা ঝুমা খান প্রতারণার নানা অভিযোগ তুলে আল আমিনের বিরুদ্ধে উপজেলা চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম রাজীবের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। এতে প্রতারণার বিষয়টি প্রকাশ পায়।

আল আমিন মালঞ্চ এলাকায় প্রতারণার টাকায় গড়ে তুলেছে বিট ফেয়ার ফ্যাশন নামে কারখানা। সেখানকার অফিসে কয়েকবার গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

সাভার উপজেলা পরিষদ চেয়ারমান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম রাজীব সমকালকে জানান, দলের নাম ভাঙিয়ে এলাকায় অনেক ভুঁঁইফোঁড় সংগঠন গড়ে উঠেছে। তারা মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে। আল আমিনের বিরুদ্ধেও প্রতারণার লিখিত অভিযোগ পেয়েছি।

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, আল আমিন প্রথমে সাভারের বিভিন্ন এলাকার জনপ্রতিনিধি, নারী নেত্রীসহ সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে তার সংগঠনে যুক্ত করে। এর পর তাদের মাধ্যমেই এলাকায় যাদের ঘর নেই, তাদের প্রত্যেককে ৫ লাখ টাকা দিয়ে ঘর নির্মাণ করে দেওয়া এবং যাদের নলকূপ নেই তাদের নলকুপ স্থাপন করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। এভাবে সাভারের বিভিন্ন এলাকার প্রায় ১৫০ অসহায় পরিবারের কাছ থেকে অন্তত ৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, উপজেলার বিরুলিয়া ইউপি সদস্য সেলিনা আক্তার ও আশুলিয়া ইউপি সদস্য সালমা আক্তার ঘর দেওয়ার কথা বলে ওইসব ইউনিয়নের প্রায় ৪০টি পরিবারের কাছ থেকে টাকা নেন। এভাবে পরিবারপ্রতি ১ লাখ ৭০ হাজার থেকে ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেওয়া হয়।

প্রতারণার শিকার হাফিজ বলেন, একটি ঘরের জন্য ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা ঋণ তুলে দিই। কথা ছিল, দুটি শয়নকক্ষ, একটি রান্নাঘর, অতিথি কক্ষ ও শৌচাগার নির্মাণ করে দেওয়া হবে। তবে সেলিনা মেম্বার শুধু তিন গাড়ি ইট, এক গাড়ি খোয়া দেন।

এ ব্যাপারে মেম্বার সেলিনা আক্তার বলেন, আশুলিয়া ইউপি সদস্য সালমা আক্তার এনজিও থেকে কয়েকজনকে টাকা নিয়ে দিয়েছেন বলে জানতে পারি। সামনে নির্বাচন। যদি অল্প টাকায় আমিও গরিব-দুঃখীদের ভালো ঘর করে দিতে পারি সে জন্য তার সঙ্গে যোগাযোগ করি। সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে সালমাকে দিই। এখন সালমা আর কাজ করছেন না, টাকাও দিচ্ছেন না।

আশুলিয়া ইউনিয়নের সংরক্ষিত ২ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার সালমা আক্তার বলেন, চারজনের কাছ থেকে ৩০ হাজার করে টাকা নিয়ে ঘর নির্মাণ করে দিয়েছি। তবে সেলিনা মেম্বারের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।

বঙ্গবন্ধু পক্ষাঘাত ও পেশাজীবী পরিষদের সভানেত্রী দাবি করা ঝুমা খান অভিযোগ করেন, প্রতারক আল আমিন ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ঘর ও নলকূপ দেওয়ার কথা বলে তার কাছ ৭০ লাখ টাকা নেয়। পরে সে আত্মগোপনে চলে গেছে।

সাভার উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা একরামুল হক জানান, এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাভারের ইউএনও শামীম আরা নীপা বলেন, বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখব। অনিয়ম পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন