মেট্রোরেলের কাজ সংকুচিত করে দিয়েছে শাহবাগ থেকে টিএসসি যাওয়ার রাস্তাটি। জায়গায় জায়গায় তৈরি হওয়া ছোট-বড় গর্ত আর খোলা ডাস্টবিনের কারণে পথটি হেঁটে বা রিকশায় পার হওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। রিকশায় পার হলেও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেটেই থামতে হয় রাস্তাটি বন্ধ থাকায়। উদ্যানের গেটটি একুশে বইমেলার অন্যতম একটি প্রবেশপথ হিসেবে ব্যবহার করা হয় অনেক বছর ধরে। গেট পার হয়ে বাংলা একাডেমিমুখী মূল রাস্তাটিতে টিনের বেড়া দিয়ে পুরোদমে মেট্রোরেলের কাজ চলছে। স্টিলের ঘন কাঠামো বানিয়ে কর্মীরা করছেন ঝালাই দেওয়ার কাজ। অবশ্য পথচারীদের জন্য রাস্তাটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়নি। উদ্যানের দেয়াল ঘেঁষে চার/পাঁচ ফুটের একটি সরু গলি রাখা হয়েছে চলাচলের জন্য। গলিটি পিচের রাস্তায় গিয়ে উঠেছে বাংলা একাডেমির ব্যাংক ভবনের সামনের গেটে। এর ১০ কদম পরেই মেলায় ঢোকার দ্বিতীয় রাস্তাটি, একাডেমির প্রধান ফটকের উল্টোপাশে। বিগত বছরের বইমেলাগুলোতে দেখা গেছে, মূলত উদ্যানের টিএসসির পাশের গেট থেকে একাডেমি পর্যন্ত রাস্তাটিতেই লেখক-পাঠকের ভিড় লেগে থাকে বেশি। এবার এই রাস্তা অতিমাত্রায় সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় মেলায় ঢোকা ও বের হওয়া নিয়ে ভোগান্তির শঙ্কা প্রকাশ করেছেন লেখক, প্রকাশক ও সাধারণ দর্শনার্থীরা। অবশ্য বাংলা একাডেমির দাবি, রাস্তাটি আরও প্রশস্ত করা হলে কোনো ভোগান্তিই হবে না, উল্টো অন্য বছরের তুলনায় এ বছরের বইমেলা আরও সুশৃঙ্খল হবে বলেও আশাবাদ শোনা গেছে।

অমর একুশে বইমেলা-২০২১ পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব এবং বাংলা একাডেমির পরিচালক ড. জালাল আহমেদ সমকালকে বলেন, অন্য বছর বইমেলায় ঢোকার দুটি রাস্তা থাকলেও এবারের বইমেলায় বাড়ানো হয়েছে একটি প্রবেশপথ। অনেক দিনের দাবি অনুযায়ী এবারের বইমেলায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের (আইইবি) পাশ দিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেটটি ব্যবহার করতে দেওয়া হচ্ছে, আগে এটি ছিল না। পূর্বদিক থেকে আসা দর্শনার্থীরা এই পথ ব্যবহার করলে সুবিধা পাবেন। এ ছাড়া যারা শাহবাগ ও নীলক্ষেত হয়ে মেলায় আসবেন, তারা টিএসসির সামনের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেট দিয়ে প্রবেশ করবেন। পুরান ঢাকা থেকে মেলায় এলে ব্যবহার করতে হবে বাংলা একাডেমির উল্টোপাশের গেট। তিনি আরও বলেন, চলাচলের সুবিধার্থে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পাশের গলিপথটির প্রশস্ততা আরও  ১০-১৫ ফুট বাড়ানো হবে। এতে আর কোনো সমস্যা থাকবে না।

শুরু হয়েছে স্টল বানানোর কাজ : সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৯ বছর ধরে ফ্লাস্ক হাতে ঘুরে ঘুরে চা বিক্রি করেন চান মিয়া। তিনি বলেন, 'আমি এইহানে ডেইলি চা বিক্রি করি। ইস্টল বানানোর কাম শুরু হইসে তিন-চাইর দিন আগে। আরও সময় লাগব পুরা বানাইতে।' উদ্যান ও বাংলা একাডেমি চত্বর ঘুরে দেখা গেছে, এখন চলছে বাঁশ দিয়ে স্টলের কাঠামো বানানোর কাজ। কিছু কাঠামো তৈরি হয়ে গেছে আর কিছু জায়গায় বাঁশের খুঁটি বসানোর জন্য গর্ত করে রাখা হয়েছে। মেলার বাকি রয়েছে ১১ দিন, তবে সময়ের মধ্যেই স্টলের কাজ শেষ হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।

এবারের বইমেলায় যেসব নতুনত্ব :স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে এবারের বইমেলার থিম 'হে স্বাধীনতা'। একুশের চেতনা ধারণ করে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং মুজিব জন্মশতবর্ষের সবকিছুই উঠে আসবে এ বইমেলায়। মেলা শুরু হবে ১৮ মার্চ এবং শেষ হবে ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষ ১৪২৮ বরণের মধ্য দিয়ে। প্রবেশপথের সংখ্যা বাড়ানো ছাড়াও এবারের বইমেলায় করা হয়েছে আরও কিছু পরিবর্তন। অন্য বছরের বইমেলায় বইয়ের সব স্টল স্বাধীনতা স্তম্ভের পশ্চিম দিকে রাখা হতো। এনামুল করিম নির্ঝরের নকশায় স্তম্ভের পূর্বদিকে নতুন করে ২৫০টি স্টল বানানো হচ্ছে। নকশাটি এমনভাবে করা হয়েছে, যেন দর্শনার্থীরা উদ্যানের 'ওয়াকিংওয়ে' ধরে পুরো মেলাটি ঘুরতে পারেন। লিটলম্যাগ চত্বরটিও স্থান বদলে এবার চলে গেছে উদ্যানের পূর্বদিকে। চৈত্রের দাবদাহ ও কালবৈশাখীর কথা মাথায় রেখে সাধারণ দর্শনার্থীদের আশ্রয় দিতে দুটি সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ করা হবে বলেও জানা গেছে। এ ছাড়া মোটরসাইকেল ও গাড়ি রাখার জন্য একটি সাময়িক পার্কিং এলাকা বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

অংশ নিচ্ছে সাড়ে পাঁচশ প্রকাশনী ও প্রতিষ্ঠান : এবারের বইমেলায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৭৫০ ইউনিট ও একাডেমি প্রাঙ্গণে ১৫০ ইউনিট স্টল বানানো হয়েছে। গত বছরের ১৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রকাশকদের কাছ থেকে স্টলের আবেদন গ্রহণ করা হয়েছিল। এসব আবেদনের মধ্য থেকে মেলার ৯০০ ইউনিট স্টল সাড়ে পাঁচশ প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বরাদ্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া থাকবে ৩৪টির মতো প্যাভিলিয়ন। আজ বা কাল লটারির মাধ্যমে আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য স্টলের স্থান বরাদ্দ করা হবে। এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে কমিটির সদস্য সচিব জালাল আহমেদ জানান, স্টল পেতে ছয় শতাধিক আবেদন এলেও স্থানের সংকুলান না হওয়ায় আমাদের ৫০-এর বেশি প্রকাশনীকে ফিরিয়ে দিতে হয়েছে।

মন্তব্য করুন