ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধন নয়, বাতিল চান গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেছেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন দিয়ে বাকস্বাধীনতা, চিন্তা করার স্বাধীনতাকে আঘাত করা হচ্ছে। সেখান থেকে আমাদের সমাজকে পুরোপুরি মুক্ত করা দরকার। তাই আমরা আইনটি বাদ দেওয়ার পক্ষে।

গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে জহুর হোসেন চৌধুরী হলে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রবীণ এই আইনজীবী এ কথা বলেন। প্রায় এক বছর পর বাসার বাইরে প্রথম সংবাদ সম্মেলন করলেন ড. কামাল। এতে ড. কামাল হোসেনের লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংসদ সদস্য মোকাব্বির খান।

লিখিত বক্তব্যে ড. কামাল হোসেন বলেন, আজ যারা নিজেদের নির্বাচিত দাবি করে দেশ শাসন করছে, তাদের প্রতি জনগণের আস্থা, বিশ্বাস ও সমর্থন নেই। জনবিচ্ছিন্ন এই সরকার জনগণকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করার অপকৌশল হিসেবে বিভিন্ন কালাকানুন জারি করেছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন তারই অংশ।

ড. কামাল বলেন, আজ গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের পরিবর্তে দুর্নীতি ও দুঃশাসনের স্বর্গরাজ্য গড়ে উঠেছে। জনগণের পিঠ দেয়ালে ঠেকেছে। সামনে অগ্রসর হওয়া ছাড়া জনগণের আর কোনো বিকল্প নেই।

চাল-ডাল-তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির জন্য 'দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদ, আমলা ও ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে গঠিত অশুভ সিন্ডিকেট' দায়ী বলে মন্তব্য করেন কামাল হোসেন।

গণফোরাম সভাপতি জানান, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নীতি-আদর্শের ভিত্তিতে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে আসছে রমজান মাসে সারাদেশে গণসংযোগ শুরু করবে গণফোরাম।

গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক রেজা কিবরিয়া পদত্যাগের পর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে কে- জানতে চাইলে ড. কামাল হোসেন বলেন, এখন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আ ও ম শফিকউল্লাহ।

ড. কামাল হোসেন যখন জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভেতরে সংবাদ সম্মেলন করছিলেন, তখন প্রেস ক্লাবের বাইরে যুব গণফোরাম ও ঐক্যবদ্ধ ছাত্র সমাজের ব্যানারে বিক্ষোভ সমাবেশ চলছিল। এতে নেতৃত্ব দেন মোস্তফা মহসিন মন্টু, সুব্রত চৌধুরী, অধ্যাপক আবু সাইয়িদসহ গণফোরামের একটি অংশ। লেখক মুশতাক আহমেদের কারাগারে মৃত্যু ও কার্টুনিস্ট কিশোরের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতনের প্রতিবাদে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে অন্যদের মধ্যে গণফোরামের কেন্দ্রীয় নেতা জগলুল হায়দার আফ্রিক, লতিফুল বারী হামিম, যুব ফোরামের নেতা নাসির হোসেন বক্তব্য দেন।

গণফোরামের একটি অংশ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে পৃথক কর্মসূচি করছে জানালে ড. কামাল হোসেন বলেন, গণফোরাম থেকে কিছু লোক বেরিয়ে গেছেন; বেরিয়ে গিয়ে বক্তব্য রাখতে পারেন। তারা বের হতেই পারেন। বাধ্য করে কাউকে তো রাখা যায় না। তাদের জিজ্ঞাসা করতে পারেন- আপনারা কেন বেরিয়ে গেছেন?

মন্তব্য করুন