নেই নির্বাচনী আমেজ বিএনপিও মাঠে নেই

বগুড়া-১ আসনে উপনির্বাচন

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২০

এস এম কাওসার, বগুড়া

করোনা মহামারি, বন্যা ও বিএনপি প্রার্থী মাঠে না থাকায় নির্বাচনী আমেজ নেই বগুড়া-১ আসনের উপনির্বাচনে। জেলার গুরুত্বপূর্ণ সারিয়াকান্দি ও সোনাতলা উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনটির ভোটারদের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে তেমন আগ্রহ নেই। আওয়ামী লীগ প্রার্থী ছাড়া অন্য প্রার্থীদের পোস্টার-ফেস্টুনও নেই। এর মধ্যেই ১৪ জুলাই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আসনটির উপনির্বাচন। এদিকে, বিএনপির পক্ষ থেকে নির্বাচন পেছানোর দাবির পাশাপাশি ব্যালট পেপার থেকে ধানের শীষ প্রতীক বাদ দিতে সর্বশেষ দাবি জানানো হয়।

সারিয়াকান্দি উপজেলার কালীতলা এলাকার বাসিন্দাদের কাছে গতকাল শুক্রবার নির্বাচন সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা বলেন, 'ভোট হবে শুনেছি, ভোট দিবার যাব কি না, তা এখনও বলতে পারছি না।'

ওই আসনের একাধিক ভোটারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, করোনাভাইরাসের কারণে ভোটের প্রতি অনীহা, তার মধ্যে সম্প্রতি এলাকায় শুরু হয়েছে বন্যা; তৃতীয়ত, মাঠে বিএনপির প্রার্থী নেই। এসব কারণে ভোটেরও উত্তাপ নেই এলাকায়।

এদিকে, বিএনপির পক্ষ থেকে করোনা ও বন্যার কথা বিবেচনা করে নির্বাচন পেছানোর জন্য নির্বাচন কমিশনে আবেদন জানালে সেখান থেকেও ইতিবাচক কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। বিএনপির পক্ষ থেকে সর্বশেষ বলা হয়, যদি একান্তই নির্বাচন পেছানো না হয়, তাহলে ব্যালট পেপার থেকে বিএনপি প্রার্থীর ধানের শীষ প্রতীক বাদ দিতে। তবে এটাও সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

গত ৭ জুলাই বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের একটি চিঠি নিয়ে নির্বাচন কমিশনে যান দলের যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও বিএনপিদলীয় বগুড়া-৪ আসনের এমপি মোশারফ হোসেন। তারা বগুড়া-১ আসনের সঙ্গে যশোর-৬ আসনের নির্বাচনও পেছানো ও ব্যালট পেপার থেকে ধানের শীষ প্রতীক বাদ দিতে দাবি জানান। এমপি মোশারফ হোসেন সমকালকে বলেন, বিএনপি মহাসচিবের চিঠি আমরা কমিশন সচিবের হাতে দিয়ে নির্বাচন স্থগিত করে পুনঃতফসিল ঘোষণার আবেদন জানাই। যদি একান্তই নির্বাচন পেছানো না হয়, সে ক্ষেত্রে ব্যালট পেপার থেকে ধানের শীষ প্রতীক বাদ দেওয়ার জন্য বলা হয়। কিন্তু নির্বাচন কমিশন সচিব জানান, এ দুটির কোনোটিই করা হয়তো সম্ভব হবে না।

ওই আসনের আওয়ামী লীগদলীয় এমপি আবদুল মান্নান গত ১৮ জানুয়ারি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে আসনটি শূন্য হয়। পরে শূন্য আসনটিতে নির্বাচনের জন্য ২৯ মার্চ তারিখ নির্ধারণ করে তফসিল ঘোষণা করা হয়। এরপর নির্বাচনের ১০ দিন আগে করোনার কারণে নির্বাচন স্থগিত করা হয়। পরে উপনির্বাচনের তারিখ ১৪ জুলাই পুনর্নির্ধারণ করে নির্বাচন কমিশন ৪ জুলাই প্রজ্ঞাপন জারি করে। সেইসঙ্গে জেলা নির্বাচন অফিসকে ইসির পক্ষ থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেওয়া হয় বলে জানান বগুড়া জেলার সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মাহাবুব আলম শাহ্‌।

ওই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে আছেন প্রয়াত আবদুল মান্নানের স্ত্রী সাহাদারা মান্নান। বিএনপির এ কে এম আহসানুল তৈয়ব জাকির। অপর প্রার্থীরা হলেন- জাতীয় পার্টির অধ্যক্ষ মোকছেদুল আলম, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলের (পিডিপি) মো. রনি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নজরুল ইসলাম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ইয়াসির রহমতুল্লাহ ইন্তাজ। বিএনপি প্রার্থী দলীয় সিদ্ধান্তে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোয় প্রার্থী থাকলেন পাঁচজন। তারা গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। এ আসনে মোট ভোটার তিন লাখ ৩০ হাজার ৮৯২ জন।