রাজধানীর ২৩ এলাকায় সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি

১০ এলাকার প্রতিটিতে ১০০ ছাড়িয়েছে

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২০

বকুল আহমেদ

রাজধানীর ২৩ এলাকায় সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি

প্রতীকী ছবি

কোনোভাবেই করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কমছে না। রাজধানীসহ সারাদেশেই বাড়ছে করোনা সংক্রমিত ব্যক্তির সংখ্যা। প্রথমে দু-চারটি এলাকায় সংক্রমণ থাকলেও পরে ছড়িয়ে পড়ে পুরো রাজধানীতে। ২৩টি এলাকায় করোনা রোগীর সংখ্যা এখন সবচেয়ে বেশি। এই ২৩ এলাকার প্রতিটিতে সর্বনিম্ন ১০৯ জন থেকে সর্বোচ্চ ৬০২ জন পর্যন্ত করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এসব এলাকায় সংক্রমণও ঊর্ধ্বমুখী। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) তথ্য বিশ্নেষণ করে সংক্রমণের এসব চিত্র পাওয়া গেছে।

আইইডিসিআরের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর মধ্যে ২৩ এলাকায় করোনা রোগী সবচেয়ে বেশি। এর মধ্যে চারটি এলাকার প্রতিটিতে ৪০০ রোগী ছাড়িয়েছে। তিন শতাধিক রোগী তিনটি এলাকার প্রতিটিতে। ছয়টি এলাকার প্রতিটিতে দুই শতাধিক ব্যক্তি সংক্রমিত। ১০ এলাকার প্রতিটিতে ১০০ ছাড়িয়েছে।

গতকাল শনিবার পর্যন্ত রাজধানীসহ সারাদেশে করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে মোট ৬৩ হাজার ২৬ জন। এ পর্যন্ত সরকারি হিসাবে মৃত্যুর সংখ্যা ৮৪৬ জন। সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন ১৩ হাজার ৩২৫ জন। আইইডিসিআর গতকাল শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদের ওয়েবসাইটে ৪ জুন পর্যন্ত এলাকাভিত্তিক করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা হালনাগাদ করেছে। ৪ জুন পর্যন্ত রাজধানীতে করোনায় আক্রান্ত ১৯ হাজার ৩২৭ জন। এ তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, একক এলাকা হিসেবে সর্বোচ্চ রোগী মহাখালীতে, ৪৫৭ জন। তবে বৃহত্তর মিরপুরে ৬০২ জন। চার শতাধিক আরও দুই এলাকায়- উত্তরায় ৪৩৩ জন ও মুগদায় ৪২৮ জন। এ ছাড়া মোহাম্মদপুরে ৩৯৪ জন, যাত্রাবাড়ীতে ৩৮৭ জন, কাকরাইলে ৩০০ জন, ধানমন্ডিতে ২৯৪ জন, মগবাজারে ২৫৫ জন, তেজগাঁওয়ে ২৫১ জন, খিলগাঁওয়ে ২১৯ জন, লালবাগে ২০৬ জন, রাজারবাগে ২২১ জন, রামপুরায় ১৯৭ জন, বাড্ডায় ১৯৫ জন, মালিবাগে ১৬৪ জন, গুলশানে ১৬৩ জন, বাবুবাজারে ১৬২ জন, গেণ্ডারিয়ায় ১৪২ জন, ওয়ারীতে ১২৪ জন, বাসাবোই ১২২ জন, বংশালে ১০৯ জন ও আগারগাঁওয়ে ১০৮ জন। এসব এলাকায় সংক্রমণ বেড়েই চলেছে।

এ ছাড়া রোগীর সংখ্যা ৫০ থেকে ১০০-এর মধ্যে রয়েছে রাজধানীর ৩০ এলাকার প্রতিটিতে। এর মধ্যে হাজারীবাগে ৯৯ জন, শ্যামলীতে ৯৮ জন, শাহবাগে ৯৫ জন, বনানীতে ৯৪ জন, আজিমপুরে ৯১ জন, শেরেবাংলা নগরে ৯১ জন, মিরপুর-১-এ ৮৬ জন, আদাবরে ৭৫ জন, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ৮২ জন, চকবাজারে ৮২ জন, শান্তিনগরে ৮০ জন, রমনায় ৭৮ জন, গ্রিন রোডে ৬৯ জন, ইস্কাটনে ৬৮ জন, পল্টনে ৬২ জন, জুরাইনে ৬১ জন, কলাবাগানে ৬১ জন, কল্যাণপুরে ৬০ জন, লালমাটিয়ায় ৬০ জন, ডেমরায় ৬০ জন, বনশ্রী ৫৯ জন, স্বামীবাগে ৫৮ জন, নয়াবাজারে ৫৮ জন, ফার্মগেটে ৫৫ জন, কামরাঙ্গীরচরে ৫৫ জন, মিরপুর-১-এ ৫৫ জন, শাজাহানপুরে ৫৪ জন, ভাটারায় ৫২ জন, চানখাঁরপুলে ৫০ জন ও মানিকনগরে ৫০ জন। ৭৭ এলাকার প্রতিটিতে রোগীর সংখ্যা ১০ থেকে ৪৯ জন। ৯১ এলাকায় একেবারেই কম করোনা রোগীর সংখ্যা। এসব এলাকায় সর্বোচ্চ নয়জন এবং সর্বনিম্ন একজন রোগী শনাক্ত হয়েছে।