বিদেশফেরত ৮৭ ভাগ কর্মীর আয়ের উৎস নেই

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২০

সমকাল প্রতিবেদক

করোনা মহামারির কারণে দেশে ফিরে আসা অভিবাসী কর্মীদের ৮৭ শতাংশের এখন কোনো আয়ের উৎস নেই। তাদের মধ্যে নিজের সঞ্চয় দিয়ে তিন মাস বা বেশি সময় চলতে পারবেন, এমন আছেন ৩৩ শতাংশ। ৫২ শতাংশ কর্মী বলেছেন, তাদের জরুরি ভিত্তিতে আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন। বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল শুক্রবার অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান। এ সময় ব্র্যাকের অ্যাডভোকেসি ফর সোশ্যাল চেঞ্জ প্রোগ্রামের পরিচালক কেএএম মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।

এতে জানানো হয়, বিশ্বব্যাপী করোনা সংক্রমণ শুরুর পর দেশে ফিরে এসেছেন এমন ৫৫৮ জন কর্মীর সঙ্গে কথা বলে জরিপ করা হয়। এর মধ্যে ৮৬ শতাংশই ফিরেছেন মার্চে। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৪৫ শতাংশ এসেছে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, ওমান এবং কুয়েত থেকে। অন্যরা মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইতালি, মালদ্বীপসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ফিরেছেন।

জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৪০ শতাংশ বলেছে, করোনার কারণে তারা দেশে ফিরতে বাধ্য হয়েছেন। এ ছাড়া ৩৫ শতাংশ ছুটিতে এসেছিল, ১৮ শতাংশ পারিবারিক কারণে এসেছে। ৭ শতাংশ কর্মী বলেছেন, তাদের ফেরায় করোনার কোনো সম্পর্ক নেই। ৮৪ শতাংশ কর্মী বলেছেন, তারা ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন, ১৪ শতাংশ কোয়ারেন্টাইন ঠিকমতো মানতে পারেনি, ২ শতাংশ এক সপ্তাহ কোয়ারেন্টাইনে ছিল।

জরিপে অংশ নেওয়া কর্মীদের ৩৪ শতাংশ জানায়, তাদের নিজেদের সঞ্চয় আর কিছু নেই। ১৯ শতাংশ জানায়, তাদের সঞ্চয় দিয়ে এক-দুই মাস চলতে পারবে। নিজেদের সঞ্চয় দিয়ে তিন মাস বা তার বেশি সময় চলতে পারবে এমন আছে ৩৩ শতাংশ। ১০ শতাংশ জানায়, নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক এবং অনানুষ্ঠানিক উৎস থেকে ঋণ নিয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের ৭৪ শতাংশ জানিয়েছে, তারা এখন প্রচণ্ড দুশ্চিন্তা, মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও ভীতির মধ্যে রয়েছে। ২৯ শতাংশ অভিবাসী বলেছে, প্রতিবেশী এবং আত্মীয়স্বজনরা তাদের ফিরে আসাকে স্বাভাবিকভাবে নেয়নি এবং তাদের প্রতি সহযোগিতামূলক মনোভাব প্রদর্শন করেনি। তবে ৯৭ শতাংশ বলেছে, পরিবার সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।

শরীফুল হাসান জানান, মোবাইল ফোনে সাক্ষাৎকার গ্রহণের মাধ্যমে এ জরিপ পরিচালিত হয়েছে। বিদেশ ফেরতদের সমস্যা সমাধানে পাঁচটি পরামর্শ দিয়েছে ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচি। এর মধ্যে আছে ফিরে আসা প্রবাসী ও তাদের পরিবারের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ না করে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনা, স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি নিরূপণ করে মনোসামাজিক সহায়তাসহ টেকসই পুনরেকত্রীকরণ কর্মসূচি গ্রহণ করা, দক্ষতা বৃদ্ধি ও আয়বর্ধনমূলক কাজে যুক্ত করতে সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো বন্ধ করা এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তারা যাতে কাজে ফিরতে পারেন সেই উদ্যোগ নেওয়া।