মহামারিতেও সক্রিয় 'গামছা পার্টি'

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২০

সাহাদাত হোসেন পরশ

করোনা মহামারিও দমাতে পারেনি পাষণ্ডদের। পিকআপ ছিনতাই করে শেষ পর্যন্ত চালককে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে ওরা। গলায় গামছা পেঁচিয়ে পিকআপ চালক সাগর সরকারকে (১৮) খুন করা হয়েছে। হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানার সাতছড়ি জঙ্গলে এই নির্মম ঘটনা ঘটে গত ১৩ মে। গত সোমবার এ ঘটনায় বাবুল মিয়া ও আলাউদ্দিন নামে দু'জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর পরই বেরিয়ে আসে সাগর হত্যার রোমহর্ষক কাহিনি। হত্যায় জড়িতরা 'গামছা পাটির্'র সদস্য।

পুলিশের সংশ্নিষ্ট একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, গত ১৫ মে প্রদীপ সরকার নামে এক ব্যক্তি হবিগঞ্জ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। তিনি জানান- তার ছেলে সাগর একজন পিকআপ চালক। জনৈক কবির মিয়ার পিকআপ চালাতো সে। ১৩ মে বাড়ি থেকে যাওয়ার পর আর ফেরেনি। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার ছেলের সন্ধান মিলছে না। ওই জিডির পর তদন্ত শুরু করে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা ছিল- সাগর হয়তো নিজেই পিকআপটি অন্যত্র বিক্রি করে গা-ঢাকা দিয়েছে। পরে পুলিশ পিকআপটি মাধবপুর থানার মনতলা এলাকা থেকে উদ্ধার করে। পিকআপ উদ্ধারের পরই তদন্ত নতুন দিকে মোড় নেয়। প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে সাগরের বন্ধু বাবুল মিয়াকে (২২) গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সাগর হত্যার ব্যাপারে সে মুখ খুলতে থাকে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যা মিশনে অংশ নেওয়া আলাউদ্দিনকে (২০) গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, অপরাধ চক্রের সক্রিয় সদস্য গাড়িচালক বাবুলের পরিকল্পনা অনুসারেই সাগরের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার গাড়ি ভাড়া নেওয়ার কথা বলা হয়। তারা সাগরকে শায়েস্তাগঞ্জ নিয়ে যায়। সেখান থেকে মাধবপুর নেওয়ার কথা বলে সাতছড়ির রাস্তার পাশে উঁচু টিলার ওপর নিয়ে গিয়ে সাগরকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর লাশ সেখানে গুম করে পিকআপ নিয়ে মনতলা সীমান্তবর্তী এলাকায় চলে যায়। হত্যা মিশনে থাকা দু'জনের তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সাগরের লাশ উদ্ধার করে।

পুলিশ জানায়, বাবুল মিয়া ও আলাউদ্দিন সক্রিয় অপরাধ চক্রের সদস্য। জেলখানায় তাদের মধ্যে পরিচয় হয়। জেলখানা থেকে বেরিয়ে চুরি, ছিনতাই ও দস্যুতার মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ে তারা। ধীরে ধীরে তারা সাতছড়ি এলাকায় সংঘবদ্ধ অপরাধ জগতের নেতৃত্ব দিতে থাকে। এই চক্রে তারা অনেককে জড়ায়।

হবিগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম বলেন, বাবুল ও আলাউদ্দিন টার্গেট করে সাগরকে হত্যার পর পিকআপ নিয়ে পালিয়ে যায়। এ চক্রে আরও কয়েকজন রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। পিকআপ ছিনতাই ছাড়া এ হত্যার পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কিনা তা যাচাই করে দেখা হচ্ছে। চুরিসহ নানা অপরাধের ঘটনায় বাবুল ও আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে আরও মামলা রয়েছে।

সাগরের বাবা প্রদীপ সরকার সমকালকে বলেন, তিন ভাইবোনের মধ্যে সাগর ছিল সবার বড়। সংসারে অভাবের কারণে পড়াশোনা ছেড়ে পিকআপ ভ্যান চালাতে শুরু করে সে। ওই পিকআপই যে তার জীবনের কাল হবে তা কে জানত!