জাপানি উদ্যোক্তাদের পছন্দের তালিকায় বাংলাদেশ

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২০

মিরাজ শামস

করোনা সংকটে বিশ্বজুড়ে ধুঁকছে ব্যবসা-বাণিজ্য। এই সংকটের উৎস চীন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে চীনে তৈরি পণ্য রপ্তানিতে শুল্ক্ক অনেক বেশি। এই পরিস্থিতিতে চীন থেকে বিনিয়োগ প্রত্যাহার করতে চাইছে কিছু বহুজাতিক কোম্পানি। তারা অন্য দেশে কারখানা স্থানান্তরের পরিকল্পনা করছে। চীন থেকে বিনিয়োগ প্রত্যাহার করতে চায়, এমন জাপানি কোম্পানিগুলোর বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহ রয়েছে।

সম্প্রতি বেইজিংয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে দেওয়া চিঠিতে জানানো হয়, জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো) আনুষ্ঠানিকভাবে দূতাবাসকে অবহিত করেছে, কিছু কোম্পানি চীন থেকে অন্যত্র স্থানান্তর বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। জেট্রো জানায়, বিনিয়োগবান্ধব অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য বাংলাদেশ। জাপানের দিক থেকে এসব কোম্পানি স্থানান্তরের জন্য বিনিয়োগের গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশ পছন্দের তালিকায় রয়েছে। চীনে ৬৯০টি জাপানি কোম্পানি রয়েছে। সম্প্রতি জাপান সরকারের ঘোষণা করা প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ইতোমধ্যে ৩৪টি কোম্পানি সম্ভাবনাময় স্থানে স্থানান্তরের ঘোষণা দিয়েছে।

বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানিতে চীনে তৈরি তিন হাজার ৮০৫টি পণ্যে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক্ক দিতে হচ্ছে। এ কারণে এই দেশ থেকে কোম্পানিগুলো স্থানান্তরের পরিকল্পনা করছে। চীন থেকে যেসব কোম্পানি স্থানান্তর করতে চায়, তার মধ্যে বেশিরভাগই উচ্চমূল্যের পণ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠানের এখন পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। কোম্পানিগুলোর মধ্যে টয়োটা ও নিশান গাড়ির হেডলাইট প্রস্তুতকারক কইটো ম্যানুফ্যাকচারিং চীনের হুবেই প্রদেশ থেকে স্থানান্তর করতে চায়। উহান থেকে উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ বা এশিয়ায় যেতে চায় হোন্ডা কোম্পানির যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কাছাই কোগোও। সনি করপোরেশন অন্য দেশে বিনিয়োগ করে উৎপাদনে যেতে চায়। এ ছাড়া শার্প, ক্যাসিও, প্যানাসনিকসহ বিভিন্ন কোম্পানি স্থানান্তরের ঘোষণা দিয়েছে।

চীনফেরতসহ বিভিন্ন দেশের কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ টানতে উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এ বিষয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত চার সংস্থা বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা) করোনা-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিনিয়োগ আনার বিষয়ে আলাদা পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জমা দিয়েছে। এসব বিষয়ে পর্যালোচনা করে বিদেশি বিনিয়োগের বিষয়ে মহাপরিকল্পনা প্রণয়নে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবকে সভাপতি এবং বিডার চেয়ারম্যানকে সদস্য সচিব করে একটি কমিটি করা হয়েছে। ওই কমিটি শিগগিরই বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দেবে। এদিকে চীন থেকে কার্যক্রম গোটাতে চায়, এমন জাপানি কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে সম্প্রতি জেট্রোর কাছে চিঠি দিয়েছে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআই। সংগঠনটির সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম একই চিঠি জেট্রো ছাড়াও কনফেডারেশন অব এশিয়া-প্যাসিফিক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিকে দিয়েছেন। বাংলাদেশকে বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে বেছে নেওয়ার জন্য জেট্রো, জাইকা, জাপান দূতাবাস, জাপানের বেসরকারি ফার্ম ও বাংলাদেশে জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চলের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে চিঠি দিয়েছেন বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী। তিনি সমকালকে বলেন, ইতোমধ্যে জাপানের একটি কোম্পানির প্রতিনিধিরা এসে ঘুরে দেখে গেছেন। জুনের মাঝামাঝি পরিস্থিতির উন্নতি হলে ওই কোম্পানির চেয়ারম্যান এ দেশে এসে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।