রোগীর হাসিতেই ঈদ আনন্দ চিকিৎসকদের

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২০

আবদুল্লাহ আল মামুন, চট্টগ্রাম

ইফতেখারুল আলম ফরহাদ। নিয়োগ পেয়েই চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে করোনা রোগীদের সেবায় নিয়োজিত হয়েছেন তিনি। থাকছেন হোটেলে। ঈদেও পাবেন না পরিবারের সান্নিধ্য। এক শহরে থেকেও যেন দূর দেশের বাসিন্দা তারা। তবুও সামনের সারির যোদ্ধা হিসেবে গর্ববোধ করেন তিনি। রংপুর মেডিকেল কলেজ থেকে পাস করা নবীন এ চিকিৎসক বললেন, 'চিকিৎসাসেবা দিয়ে রোগীদের মুখে যদি একটু হাসি ফোটাতে পারি, এর চেয়ে আনন্দের আর কিছুই হতে পারে না। এটাই আমাদের ঈদ আনন্দ।'

শুধু ফরহাদ নন- মা-বাবা, স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানের মায়া ছেড়ে চট্টগ্রামে এক হাজারের অধিক নার্স ও চিকিৎসক করোনা চিকিৎসায় বিশেষ দায়িত্ব পালন করবেন ঈদের সময় চট্টগ্রামের পাঁচটি হাসপাতালে। এদের অনেকেই এক সপ্তাহ থেকে দুই মাস পর্যন্ত পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন।

চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বি সমকালকে জানান, শুরু থেকেই ভয়-আতঙ্ক উপেক্ষা করে চিকিৎসক ও নার্সরা নিরবচ্ছিন্নভাবে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। ঈদের দিনও তারা দায়িত্ব পালন করবেন।

সিভিল সার্জন সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম জেলায় ৭২৪ জন চিকিৎসক ও নার্স দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে চিকিৎসক ৩৯৭ জন ও নার্স ৩৩৫ জন। এ ছাড়া চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি), চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল, চট্টগ্রাম ফিল্ড হাসপাতাল এবং হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতালেও কয়েকশ' চিকিৎসক ও নার্স করোনা চিকিৎসায় সরাসরি দায়িত্ব পালন করবেন।

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার নাথ জানান, 'ঈদের সময়ে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে পালা করে প্রায় ৭০ জন চিকিৎসক ও নার্স দায়িত্ব পালন করবেন।'চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. আবদুর রব মাসুম বলেন, 'করোনাভাইরাস সংক্রমণ মোকাবিলাকে যুদ্ধ হিসেবে নিয়েছি। যুদ্ধকালীন সময়ে ঈদ উৎসব অন্য সময়ের মতো হবে না, এটাই স্বাভাবিক। ঈদের আগে আরও কিছু রোগীকে সারিয়ে তুলতে পারলে সেটাই হবে এবারের ঈদে আমাদের বড় আনন্দ।'

নবীন চিকিৎসকদের ভিন্ন রকম ঈদ : সম্প্রতি জরুরি ভিত্তিতে ৩৯তম বিসিএস থেকে দুই হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়। এর মধ্যে গত ১৬ মে চট্টগ্রামে ৭৩ জন যোগ দিয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ৪২ জন চিকিৎসক নিয়োগ পেয়েছেন চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে। এটি এখন জেলার প্রধান কভিড-১৯ হাসপাতাল। এ ছাড়া বিআইটিআইডিতে ২১ জন, ফিল্ড হাসপাতালে ৩ জন, সাতকানিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন, লোহাগাড়া ও রাউজান স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দু'জন করে নতুন চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করবেন।

চট্টগ্রাম মা ও শিশু মেডিকেল কলেজ থেকে পাস করা নবীন চিকিৎসক মো. ফরহাদ উদ্দিন বলেন, 'বাসায় মা-বাবা ও ভাই আছেন। প্রতিবার তাদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করেছি। ঈদের নামাজের পর দাদা-দাদির কবর জিয়ারত করতাম। বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দে মেতেছি। এবার নতুন চাকরির সঙ্গে এ আনন্দ আরও দ্বিগুণ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনা সব ওলটপালট করে দিয়েছে। তবুও এই সময়টাতে মানুষের পাশে থাকতে পারছি, দেশকে সেবা করতে পারছি- এতে ভালো লাগছে।'