পথে বসে গেছেন খুলনার পুকুর ও ঘের মালিকরা

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২০

হাসান হিমালয়, খুলনা

খুলনার কয়রা উপজেলা সদরের মদিনাবাদ গ্রামের আকবর আলী ৫০ বিঘা জমিতে চিংড়ি চাষ করেছিলেন। তার আরও কিছু মাছের ব্যবসা ছিল। শুধু চিংড়ি ঘের থেকে এই মৌসুমের ১০ লাখ টাকার আয়ের স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু গত বুধবার রাতের বাঁধভাঙা পানিতে ভেসে গেছে সব স্বপ্ন।

আকবর আলী বলেন, নিজের জমানো টাকা এবং কিছু ঋণ নিয়ে পোনা (চিংড়ি) ছেড়েছিলাম। ঘূর্ণিঝড়ে আমার সব শেষ হয়ে গেছে। একদম পথে বসে গেছি। মহারাজপুর ইউনিয়নের জয়পুর গ্রামের ক্ষুদ্র চাষি মতিয়ার রহমান এবার ২৪ বিঘা জমিতে চিংড়ি চাষ করেছিলেন। ঘেরে প্রায় ৫ লাখ টাকার চিংড়ি ছিল। ঘূর্ণিঝড়ে বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় তারও ঘের, পুকুর সব ভেসে গেছে।শুধু আকবর আলী বা মতিয়ার রহমানই নন; ঘূর্ণিঝড় আম্পানে পথে বসে গেছেন খুলনার পাঁচ উপজেলার প্রায় ২০ হাজার চিংড়ি ঘের মালিক ও মাছ ব্যবসায়ী। বাঁধ ভেঙে ও বাঁধ উপচে পানি প্রবেশ করে জেলার ছয় হাজার ৬১০টি চিংড়ি ঘের এবং দুই হাজার ৬৫৮টি পুকুর ও দীঘি ভেসে গেছে। এতে ৯ হাজার ৫৫ হেক্টর জমির প্রায় ৪৭ কোটি টাকার চিংড়ি, সাদা মাছ ও কাঁকড়া ভেসে গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কয়রা উপজেলার চাষিরা। শুধু কয়রাতেই তিন হাজার ১০৫টি ঘের ও পুকুর ভেসে গেছে। মৎস্য অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, আম্পানে খুলনার পাঁচ উপজেলার ৩৫টি ইউনিয়ন কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাঁধ ভেঙে ও বাঁধ উপচে পানি প্রবেশ করে ভেসে গেছে ছয় হাজার ৬১০টি চিংড়ি ঘের। এতে আট হাজার ৪৫০ হেক্টর ঘেরের প্রায় ৪৪ কোটি ১৮ লাখ টাকার চিংড়ি ভেসে গেছে। এ ছাড়া বাঁধ ভেঙে ও জোয়ারের পানিতে দুই হাজার ৬৫৮টি পুকুর ও দীঘির সাদা মাছ ভেসে গেছে। এতে ৬০৪ হেক্টর জমির ১৮ কোটি ৯৭ লাখ টাকার সাদা মাছ ভেসে গেছে। নষ্ট হয়েছে এক কোটি ২৫ লাখ টাকার মাছের পোনা, ৯৫ লাখ টাকার কুঁচিয়া এবং এক কোটি ২৪ লাখ টাকার চিংড়ি পিএল।

খুলনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবু সাঈদ বলেন, ঘূর্ণিঝড় আইলার পর এত বড় ক্ষতি আর হয়নি। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের তালিকা তৈরির চেষ্টা করছি।