চট্টগ্রামে আক্রান্তের ৭৫ ভাগই মহানগরে গ্রামে ২৫ ভাগ

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২০

আহমেদ কুতুব, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামে করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ২২৮ জন। এর মধ্যে ৯২০ জনই মহানগরের বাসিন্দা। যা মোট আক্রান্তের ৭৫ শতাংশ। আর গ্রামে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে মাত্র ৩০৮ জন। যারা মোট আক্রান্তের ২৫ ভাগ। নগরের ২৬টি এলাকা করোনার হটস্পট হয়ে উঠেছে। আর জেলার ১৪ উপজেলার মধ্যে ছয়টি উপজেলায় আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। তবে করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যু ৪ শতাংশ আর সুস্থ হওয়ার সংখ্যা ১১ শতাংশ। ঈদের ছুটিতে শহর থেকে গ্রামে মানুষের স্ট্রোত থামাতে না পারলে গ্রামেও করোনা আক্রান্ত বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্নিষ্টরা।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, 'ঢাকা-নারায়গঞ্জের পর এখন সবচেয়ে বেশি করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে চট্টগ্রামে। এর মধ্যে মহানগরের অবস্থা দিন দিন খুবই খারাপের দিকে যাচ্ছে। মানুষ সরকারের নির্দেশনা না মানার কারণেই আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলছে। যারা আক্রান্ত হচ্ছেন তাদের দুটি সরকারি ও দুটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আশার কথা হচ্ছে- করোনায় এখন সুস্থের সংখ্যা বাড়ছে। মৃত্যু এখনও ৪ শতাংশের নিচে রয়েছে।'

চট্টগ্রামে করোনার দাপট নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে সরকারের নির্দেশনা সকলকে কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। সেই সঙ্গে লকডাউন ছাড়া আর কেউ উপায় নেই বলে মতামত ব্যক্ত করেন তিনি।

চট্টগ্রামে গত ২১ মে পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হন ৯৩৯ জন পুরুষ আর ২৮৯ জন নারী। ২০ থেকে ৪০ বছরের পুরুষ ও নারীরাই সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন। যা মোট আক্রান্তের ৫২ ভাগ।

এ ছাড়া ১৪ উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন পটিয়া উপজেলায় ৫১ জন। তার পরেই রয়েছে লোহাগাড়ায় ৪৩ জন। দিন দিন আক্রান্ত বাড়তে থাকা সীতাকুণ্ড উপজেলায় ৪১ জন, হাটহাজারী উপজেলায় ৩৫ জন, সাতকানিয়া উপজেলায় ৩৪ জন, রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় ২৮ জন, বাঁশখালী উপজেলায় ২১ জন, বোয়ালখালী উপজেলায় ১৪ জন, চন্দনাইশ উপজেলায় ১২ জন, সন্দ্বীপে ১১ জন, মিরসরাই উপজেলায় ছয়জন, রাউজান ও আনোয়ারা উপজেলায় পাঁচজন, ফটিকছড়ি উপজেলায় মাত্র দু'জন আক্রান্ত হয়েছেন। লোহাগাড়া ও সাতকানিয়ায় হঠাৎ করে করোনা রোগী বেড়ে যাওয়ায় উপজেলা প্রশাসন দুটি উপজেলা লকডাউন ঘোষণা করার পর সেখানে করোনার দাপট ধীরে ধীরে কমে আসে বলে জানিয়েছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা।