অর্ডারের চাপে বেসামাল অনলাইন প্রতিষ্ঠান

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২০

সমকাল প্রতিবেদক

করোনাভাইরাসের কারণে এ বছর ঈদের ছোঁয়া লাগেনি দোকানাপাট, বিপণিবিতানে। তবে অনলাইন প্রতিষ্ঠানগুলোর শাপেবর হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে ঘরে বসেই অনলাইনে ব্যাপক কেনাকাটা করেছে মানুষ। হঠাৎ বাড়তি চাপ সামাল দিতে বেকায়দায় পড়েছে অনেক অনলাইন প্রতিষ্ঠান। অনেক প্রতিষ্ঠানই গ্রাহকের চাহিদার সব পণ্য সরবরাহ করতে পারেনি। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানগুলোর সাধ্যের চেয়ে বেশি অর্ডার করেছে ক্রেতারা। তবে প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, পরিস্থিতির কারণে অনেক ক্ষেত্রে পণ্য উৎপাদন সম্ভব হয়নি। আবার সরবরাহও ঠিকমতো করা যায়নি।

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) সূত্রে জানা গেছে, দেশের বড় দুটি অনলাইন মার্কেট প্লেস দারাজ ও ইভ্যালি দুই লাখ অর্ডার সরবরাহ করতে পারেনি। এগুলো তারা ঈদের পরে সরবরাহ করার আশ্বাস দিয়েছে। ছোট অনেক প্রতিষ্ঠানও প্রচুর অর্ডার এভাবে অনিষ্পন্ন রেখেছে। এদিকে করোনাভাইরাসের কারণে সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর এ পর্যন্ত সারাদেশে নতুন করে দুই হাজার ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান চালু হয়েছে। যারা মূলত ফেসবুক পেজ খুলে পণ্য বেচাকেনা করছে।

অনলাইন প্রতিষ্ঠানগুলোর পণ্য সরবরাহকারী কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানগুলো ই-ক্যাবকে জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহ ধরে শুধু রাজধানীতে দৈনিক ঈদকেন্দ্রিক পণ্যের ৫০ হাজার অর্ডার সরবরাহ করেছে তারা। এ ছাড়া ১৫ থেকে ২০ হাজার অর্ডারের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, ওষুধ, অন্যান্য জরুরি পণ্য সরবরাহ হচ্ছে। ই-কুরিয়ার, রেড এক্স, পাঠাও, হাংরি নাকি, ফুডপান্ডাসহ বেশকিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা শুধু অনলাইন প্রতিষ্ঠানের পণ্য সরবরাহ করে। এই বিশেষায়িত কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানগুলোর বাইরেও অনেক কুরিয়ার এসব পণ্য সরবরাহ করছে। ফলে এই হিসাবটাই শেষ নয়।

লকডাউনের শুরুতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, ওষুধ ও অন্যান্য জরুরি পণ্যের চাহিদা ছিল অনলাইন প্রতিষ্ঠানগুলোতে। রমজান শুরুর পর থেকে অনলাইনে পোশাক-পরিচ্ছদ কেনাকাটার চাপ বেড়েছে। ইভ্যালি, দারাজ, প্রিয়শপ, বাগডুম ডটকম, আজকের ডিলের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রচুর অর্ডার করেছেন ক্রেতারা। এ ছাড়া ফেসবুক পেজ খুলে যারা ব্যবসা করেন, তারাও পর্যাপ্ত অর্ডার পেয়েছেন। অনলাইনে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দেশের প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে যারা এতদিন অনলাইনে সামান্য পণ্য সরবরাহ করত, এ বছর তারাও বেশি অর্ডার নিয়েছে। অনেকে নতুন করে অনলাইনে এসেছে। আড়ং, সেইলর, অঞ্জন'স, দেশাল, ক্যাটস আই, জেন্টল পার্ক, ইয়োলো, লা রিভ, বাটা, অ্যাপেক্সসহ কিছু দেশীয় ব্র্যান্ডশপ অনলাইনে বেচাকেনা করছে। তারাও ভালো সাড়া পেয়েছে।

ই-ক্যাবের পরিচালক আসিফ আহনাফ বলেন, মার্কেট খুলে দেওয়া হলেও সচেতন নাগরিকরা মার্কেটে যাননি। ফলে অনলাইন প্রতিষ্ঠানগুলো প্রচুর অর্ডার পেয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠানের পুরো স্টক শেষ হয়ে গেছে। আবার অনেকে বহু অর্ডার পেন্ডিং রেখেছে। আড়ংয়ের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মোহাম্মাদ আশরাফুল ইসলাম বলেন, অনলাইনে খুব ভালো সাড়া পাওয়া গেছে। এটা আড়ংয়ের জন্য নতুন দ্বার উন্মোচন করল।

অনলাইনে কেনাকাটা করেছেন এমন কয়েকজনের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, সংক্রমিত হওয়ার ভয়ে তারা ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। ফলে মার্কেট খুললেও তারা যাননি। সুমাইয়া সুমি নামের একজন ক্রেতা বলেন, বাইরে বের হওয়াটাই এখন ঝুঁকিপূর্ণ। এ জন্য অনলাইন থেকেই যথাসম্ভব প্রয়োজনীয় সব পণ্য কিনছেন তিনি।