ব্যবসায়ীরাও সহায়তার হাত বাড়িয়েছেন

দৈনিকভিত্তিক শ্রমিকদের জন্য তহবিল গঠন

প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২০

হকিকত জাহান হকি

করোনাভাইরাসের কারণে সারাদেশে সৃষ্ট নাজুক পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহায়তার হাত বাড়িয়েছে বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন এফবিসিসিআই। তারা ইতোমধ্যে তাদের সদস্যভুক্ত চেম্বার, অ্যাসোসিয়েশনগুলোর মাধ্যমে কাজ শুরু করেছে দেশের সর্বত্র। বিভিন্ন স্থানে বেকার হওয়া দৈনিকভিত্তিক শ্রমিকদের বাঁচিয়ে রাখতে চেম্বার, অ্যাসোসিয়েশনগুলো নিজেদের উদ্যোগে তহবিল গঠন করেছে। এই কার্যক্রমের পরিধি বাড়ানো হবে আরও।

দেশের উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের করণীয় ও ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চাইলে এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম সমকালকে ওইসব কথা বলেন।

সূত্র জানায়, বিগত দিনেও দেশের দুর্যোগকালীন দেশকে রক্ষা করতে ব্যবসায়ী সম্প্রদায় এগিয়ে এসেছে। সহায়তার হাত বাড়িয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপনের অতীত রয়েছে তাদের। এবারও ভয়ানক করোনা থেকে দেশকে রক্ষার কাজ শুরু করেছে নীরবে। এফবিসিসিআই সভাপতি বলেছেন, সংকট মোকাবিলায় মৌলিক কাজটি করাই জরুরি। এটি প্রচারের বিষয় নয়।

এফবিসিসিআই মনে করে, সবাই মিলে সৃষ্ট নাজুক পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। এই মুহূর্তে মানুষকে আতঙ্কিত না করে, আতঙ্ক না ছড়িয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। এফবিসিসিআই দেশের এই দুর্যোগময় পরিস্থিতি মোকাবিলায় দায়িত্বশীল মৌলিক ভূমিকা রাখতে কাজ শুরু করেছে।

এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, 'প্রতিদিন পরিস্থিতির পরিবর্তন হচ্ছে। যখন যেভাবে আমাদের কাছে খবর আসছে, আমরা তখন সেভাবে ব্যবস্থা নিচ্ছি। এই সময়ে একজন আরেকজনের পাশে দাঁড়ানো খুবই প্রয়োজন। এখন আমরা সবাই একই নৌকার যাত্রী। এই সময়ে এফবিসিসিআই অন্তর্ভুক্ত সবাই যে যেভাবে পারছে হাত বাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। আমরা যেখানে পারব না, সেখানে সরকারের সহায়তা চাওয়া হবে।'

বর্তমান পরিস্থিতিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন যাতে চলমান থাকে, সেদিকে নজর রাখতে সংশ্নিষ্ট ব্যবসায়ীদের নির্দেশনা দিয়েছে এফবিসিসিআই।

এফবিসিসিআই তাদের সদস্যদের মাধ্যমে গত মাস থেকেই কাজ শুরু করেছে। সরকারের স্বাস্থ্য খাত থেকে যে নির্দেশনা আসে, সেটাকে ফলো করা হচ্ছে। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) থেকে যেভাবে নির্দেশনা আসছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সদস্যদের সেভাবে অবহিত করা হচ্ছে।

ব্যবসায়ী নেতা শেখ ফজলে ফাহিম আরও বলেন, এই পরিস্থিতিতে এফবিসিসিআই স্বাস্থ্য খাতে কীভাবে সহায়তা করবে, তার জন্য গত রোববার ঢাকাস্থ চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে নেতৃবৃন্দের  আলোচনা হয়েছে। চীন ডাক্তারদের নিরাপত্তার জন্য যেসব গাউন সরকারকে দিয়েছে এবং তারা যেসব কোম্পানির কাছ থেকে ক্রয় করেছে, তাদের তালিকা সংগ্রহ করেছে এফবিসিসিআই। চীনের ওইসব কোম্পানি থেকে নিরাপত্তামূলক গাউন এনে আইইডিসিআরকে দেওয়া হবে। তারা সরকারকে দশ হাজার দিয়েছে, আরও ৩০ হাজার দেবে।

এটা ছাড়া আমাদের ৬৪ জেলা চেম্বারের অন্তর্ভুক্ত সদস্যদের করোনা প্রতিরোধের জন্য আইইডিসিআরের সতর্কতামূলক নির্দেশনাগুলো সামাজিকভাবে বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে বেশি লোকজন যাতে একসঙ্গে না থাকে, সবক্ষেত্রে লোক সমাগম কমানোর ব্যবস্থা নেওয়া, হাঁচি-কাশির ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।

ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দেওয়ার সুযোগ-সুবিধার জন্য, বিদেশি ক্রেতাদের কেনার আদেশ বাতিলের ক্ষেত্রে, ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির পেমেন্ট ও ওভারডিউর ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের ক্ষতি যাতে না হয়, সেসব বিষয়ে ঋণপ্রবাহ চালু রাখাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে এরই মধ্যে লিখিত আবেদন জানিয়েছে এফবিসিসিআই। এ ব্যাপারে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গেও কথা হয়েছে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে ঋণপ্রবাহ চালু রাখার জন্য গত সপ্তাহে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে একটি সার্কুলার জারি করা হয়।

এফবিসিসিআই জানায়, সোমবার থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক ট্রেজারি বন্ড কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাতে ব্যাংকগুলোর তারল্য বাড়বে। এই সময়ে ব্যাংকগুলোও বেশ চাপে আছে। তাদেরও ফান্ড দরকার। ট্রেজারি বন্ড বিক্রি করে তারা ফান্ড তৈরি করতে পারবে।

এফবিসিসিআই তাদের সদস্য, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দেশের অর্থনীতিবিদদের সঙ্গে আলোচনা করে সরকারের জন্য প্রস্তাব তৈরি করছে। যারা দিনমজুর আছেন, ক্ষুদ্র-মাঝারি ব্যবসায়ী আছেন, তাদের সহযোগিতা দিয়ে টিকিয়ে রাখার কথা ভাবা হচ্ছে। এক্ষেত্রে প্রথমে বেসরকারি খাত থেকে সহায়তা দেওয়া হবে। এরপর দিনমজুরসহ ক্ষুদ্র-মাঝারি ব্যবসায়ীদের টিকিয়ে রাখতে সরকারি সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে। চলমান সংকট থেকে দিনমজুর ও ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তাদের রক্ষা করতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করতে হবে।