মিয়ানমারসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গণহত্যা-নির্যাতনের ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশি-বিদেশি বিশিষ্টজন। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যার জন্য পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

গতকাল শনিবার রাজধানীর বাংলা একাডেমি মিলনায়তনে '১৯৭১ :গণহত্যা বাংলাদেশের সুবর্ণ জয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী' শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজন এসব কথা বলেন। বক্তারা আরও বলেন, পাকিস্তান-মিয়ানমারসহ বিশ্বের যেসব দেশ গণহত্যার মতো নৃশংস ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের বিচার হতে হবে। নয়তো গণহত্যার মতো ঘটনা আরও ঘটবে। এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পের আওতায় তৃতীয়বারের মতো দেশে দু'দিনব্যাপী '১৯৭১ :গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর ট্রাস্ট' এ সম্মেলনের আয়োজন করে। গত শুক্রবার এ সম্মেলন উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ। এবারের সম্মেলনে মুক্তিযুদ্ধ ও গণহত্যা বিষয়ে ইতালি, কম্বোডিয়া, তুরস্ক, মিয়ানমার, যুক্তরাজ্য, ভারতের ১৭ জনসহ বাংলাদেশের শতাধিক গবেষক অংশ নেন। গতকাল সমাপনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি সচিব ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল। বক্তব্য  দেন সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, ভারতের জওহরলাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সঞ্জয় কে ভরদাজ, মুক্তিযুদ্ধের বিদেশি বন্ধু যুক্তরাজ্যের জুলিয়ান ফ্রান্সিস, বাংলাদেশের কাজী সাজ্জাদ আলী জহির বীরপ্রতীক, মিয়ানমারের ড. খিন জ উইন, তুরস্কের ফেরহাত আতিক, কম্বোডিয়ার সোমালি কুম ও বাংলাদেশের ড. চৌধুরী শহীদ কাদের।

অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন বলেন, একাত্তরের গণহত্যার ইতিহাস তুলে ধরার মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মকে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম কতটা যন্ত্রণাদায়ক ছিল, তা উপলব্ধি করাতে হবে। মিয়ানমারকে বয়কট করা উচিত।

শাহরিয়ার কবির বলেন, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত বাংলাদেশকে সহযোগিতা করা। ভারতের সঞ্জয় কে ভরদাজ বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ভিন্ন একটি ইতিহাস। আমেরিকা-চীনের বিরোধিতা সত্ত্বেও তারা স্বাধীনতা লাভ করেছিল।

সভাপতির বক্তৃতায় সংস্কৃতি সচিব ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, আমাদের স্বাধীনতা একদিনে অর্জন হয়নি। দীর্ঘ সংগ্রামের পর এর চূড়ান্ত রূপ পেয়েছে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে। এই ইতিহাস বিকৃতি রোধে এ ধরনের সম্মেলনের প্রয়োজন রয়েছে। আশা করছি, এটা অব্যাহত থাকবে।

মন্তব্য করুন