যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা সার্জেন্ট গোলাম মোস্তফা আর নেই। গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ... রাজিইন)। তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি একাধারে বীরবিক্রম ও বীরপ্রতীক উপাধি লাভ করেন।

গতকাল শুক্রবার সকাল ১১টায় শ্যামলীতে মুক্তিযুদ্ধ টাওয়ার কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রীয় সম্মান শেষে কলেজগেট কেন্দ্রীয় মসজিদে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বাদ জুমা বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে সেখানেই দাফন করা হয়।

গোলাম মোস্তফার গ্রামের বাড়ি ঢাকার দোহার উপজেলার নারিশা ইউনিয়নের ঝনকি গ্রামে। ছোটবেলা থেকেই কিছুটা জেদি ও অভিমানী ছিলেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেওয়ার পর তার বাবা কয়েকবার চেষ্টা করেন তাকে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফিরিয়ে নেওয়ার। এ নিয়ে

বাবার সঙ্গে তার একবার উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ও হয়। বাবাকে জানান, দেশ স্বাধীন না হওয়া পর্যন্ত তিনি লড়াই করবেন।

তিনি নিয়মিত মুক্তিবাহিনীর ১১ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের আলফা কোম্পানিতে ছিলেন। ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চান্দুয়ায় এক যুদ্ধে তিনি আহত হন। সেখানে আত্মসমর্পণের পর পাকিস্তানি সেনারা হঠাৎ গুলি করলে তার দুই পায়েই এলএমজির ব্রাশফায়ারের গুলি লাগে। পরে তার একটি পা কেটে ফেলা হয়।

তার মৃত্যুতে দোহার উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আলমগীর হোসেন, দোহারের মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সভাপতি ও যুদ্ধকালীন কমান্ডার মো. রজ্জব আলী মোল্লাসহ বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক সংগঠন গভীর শোক প্রকাশ করেছে।





মন্তব্য করুন