দ্বিজেন শর্মার স্মরণসভায় বনমন্ত্রী

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে ১ কোটি গাছ লাগানো হবে

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

বন ও পরিবেশমন্ত্রী শাহাব উদ্দিন বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে তার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সারাদেশে এক কোটি গাছ লাগানো হবে। তিনি বলেন, জলবায়ু সমস্যা সমাধানের একমাত্র উপায় হলো বৃক্ষ। বৃক্ষ দ্বারা চারদিক আচ্ছাদিত করলে জলবায়ু সমস্যার সমাধান হবে।

গতকাল রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরে নিসর্গবিদ, উদ্ভিদবিজ্ঞানী, চিন্তাবিদ ও লেখক অধ্যাপক দ্বিজেন শর্মার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে আয়োজিত 'তরুপল্লব দ্বিজেন শর্মা নিসর্গ পুরস্কার-২০১৯' প্রদান ও স্মরণানুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। প্রকৃতি ও পরিবেশবিষয়ক সংগঠন তরুপল্লব এর  আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে শাহাব উদ্দিন বলেন, অধ্যাপক দ্বিজেন শর্মাকে নিয়ে আমরা গর্ববোধ করি। তিনি যে কতটা বৃক্ষকে ভালোবাসতেন, তা তার কাছ থেকে না শুনলে বোঝা যেত না। তিনি বৃক্ষের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ভাবতেন, যা এখন সারাবিশ্ব ভাবছে। কিন্তু এ দেশের মানুষের কাছে বৃক্ষের প্রয়োজনীয়তা বোঝানোর চেষ্টা করেও সরকার পারছে না। বিজ্ঞরা গাছের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে মানুষকে বোঝালে  তা অনেক ফলপ্রসূ হবে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের সহায়তা প্রয়োজন।

শিশু একাডেমির চেয়ারম্যান কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের সভাপতিত্বে এবং শিশুসাহিত্যিক আলী ইমামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন- ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু অধ্যাপক ও জাতীয় জাদুঘরের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক, পাখি বিশেষজ্ঞ ইনাম আল হক এবং আইইউসিএনের সাবেক কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. ইশতিয়াক উদ্দীন আহমদ। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন তরুপল্লবের সাধারণ সম্পাদক মোকাররম হোসেন। এ ছাড়াও দ্বিজেন শর্মার জামাতা মহাবীর পতি চন্দনও স্মৃতিচারণ করেন।

অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান বলেন, দ্বিজেন শর্মার কর্মকাণ্ড মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে। মফিদুল হক বলেন, দ্বিজেন শর্মাকে দেখেই সবাই প্রকৃতিপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়েছিল। ইশতিয়াক আহমদ বলেন, দ্বিজেন শর্মার অনুপস্থিতি প্রকৃতিপ্রেমীদের অভিভাবকহীন করে তুলেছে। মনোয়ার হোসেন বলেন, দ্বিজেন শর্মা ছিলেন মানববৃক্ষ। মহাবীর পতি চন্দন কলেন, দ্বিজেন শর্মার প্রতি আমাদের সম্মান জানানোর একমাত্র উপায় হচ্ছে তার স্বপ্নকে পূরণ।

সভাপতির বক্তব্যে সেলিনা হোসেন বলেন, প্রকৃতিকে পরিচর্যার ব্রত নিয়ে দ্বিজেন শর্মা সারাজীবন কাজ করেছেন। এই ব্রতকে সামনে এগিয়ে নিয়ে গিয়ে তাকে আমাদের মধ্যে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। এতে প্রকৃতিপ্রেমীরা অনুপ্রাণিত হবে।

এবার প্রজাপতি নিয়ে গবেষণার জন্য তরুপল্লব দ্বিজেন শর্মা নিসর্গ পুরস্কারে ভূষিত করা হয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মনোয়ার হোসেনকে। তাকে ক্রেস্ট, উত্তরীয় ও ৫০ হাজার টাকার চেক প্রদান করেন বন ও পরিবেশমন্ত্রী। এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে বৃক্ষপ্রেমী শাহানা চৌধুরী ও লায়লা আহমেদকে 'বৃক্ষসখা সম্মাননা' দেওয়া হয়।