রংপুর-৩ উপনির্বাচন

সাদের বিপরীতে চাচাতো ভাই আসিফ

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯      

মেরিনা লাভলী, রংপুর

রংপুর-৩ সদর আসনের উপনির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী রাহাগীর আল মাহি সাদের সঙ্গে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন তার চাচাতো ভাই হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ। এদিকে বিএনপির কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশ পিপলস পার্টির রিটা রহমানকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন বিএনপির মহানগর সহসভাপতি কাওসার জামান বাবলা। অন্যদিকে সব অপপ্রচারকে প্রতিহত করে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রাজু।

গতকাল সোমবার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে রংপুর আঞ্চলিক  নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের পদচারণায় মুখর ছিল। দুপুর ১টায় আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে শুরুতেই এসে মনোনয়নপত্র জমা দেন জাতীয় পার্টির সদ্য প্রয়াত চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ভাতিজা হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ।

পরে আসিফ কার্যালয়ের বাইরে সমবেত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, 'দল কোন বহিরাগতকে মনোনয়ন দিল সেটি দেখার বিষয় নয়। নেতাকর্মীরা চেয়েছেন নির্বাচন করি, তাই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি। রংপুরের মানুষ আমাকে ভালোবেসে তাদের মূল্যবান ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন। জাতীয় পার্টি থেকে সাদ এরশাদকে মনোনয়ন দিলেও রংপুরের মানুষ এখন পর্যন্ত সাদের স্বাদ বোঝেননি। নির্বাচনের পর বুঝবেন সাদ টক, ঝাল নাকি মিষ্টি।'

বিকেলে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ ও জেলা জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিতে আসেন সাদ এরশাদ। তাদের সঙ্গে আরও ছিলেন জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, জাপা নেতা আজমল হোসেন লেবু প্রমুখ।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ বলেন, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের ও বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ ঐকমত্যে পৌঁছে সাদ এরশাদকে রংপুর-৩

সদর আসনে মনোনয়ন দিয়েছেন। রংপুরের জাতীয় পার্টির সব নেতাকর্মী ও ভোটাররা সাদ এরশাদের পক্ষে থেকে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মতো তাকেও বিজয়ী করবে।

মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ বলেন, এ আসনটি মহাজোট থেকে জাপাকে দেওয়া হয়েছিল। এ আসনে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধিত্ব করেছেন। তাই সরকারের কাছে জাপা এ আসনটি চাইবে।

জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাদ এরশাদ বলেন, বাবার আসনে এমপি নির্বাচিত হয়ে তার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করতে চাই।

এদিকে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা না থাকলেও বিএনপির প্রার্থী রিটা রহমান তার কয়েকজন অনুসারীকে নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন।

রিটা রহমান বলেন, বর্তমানে দুঃসময় চলছে। বিএনপির নেতাকর্মীরা সব ভেদাভেদ ভুলে কাজ করবেন বলে আশা করছি। জনগণ একটি পরিবর্তন চায়, তারা বিএনপির প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে চান। যদিও অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে সংশয় রয়েছে।

এরপর আওয়ামী লীগের প্রার্থী অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রাজু জেলা মহানগর আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে শোডাউন করে মনোনয়নপত্র জমা দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, সহসভাপতি সাহাদাত হোসেন বকুল, সাংগঠনিক সম্পাদক মোতাহার হোসেন মণ্ডল মওলা, মহিলাবিষয়ক সম্পাদক লতিফা শওকত, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিউর রহমান সফি, সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মণ্ডল, জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক তৌহিদুর রহমান টুটুল, মহানগর যুবলীগের সভাপতি এমএ বাশার, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান রনিসহ অন্যরা।

অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রাজু বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সদর আসনের ৪ লাখ ৪২ হাজার ভোটারকে নৌকা প্রতীক দিয়েছেন তাদের ভাগ্য বদলের জন্য। নৌকার জয় এবার হবেই হবে।

আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা জিএম সাহাতাব উদ্দিন সমকালকে বলেন, একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। ৯ প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর যাচাই-বাছাই ও ১৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহার শেষে জানা যাবে কোন কোন প্রার্থী নির্বাচনে থাকছেন। এ নির্বাচনের ১৭৫টি কেন্দ্রে ইভিএমের মাধ্যমে ভোট নেওয়া হবে।

রংপুর-৩ সদর আসনের উপনির্বাচনে আরও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন কাজী মো. শহীদুল্লাহ (গণফ্রন্ট), মো. তৌহিদুর রহমান মণ্ডল (খেলাফতে মজলিস), মো. একরামুল হক (বাংলাদেশ কংগ্রেস) ও শফিউল আলম (এনপিপি)।