নূর হোসেনের শ্যালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ

মামলা তুলে না নিলে ছেলেকেও গুমের হুমকি

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

বাবা সোনারগাঁ উপজেলা যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন অপহরণের পর গুম হন ২০১৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি। ওই ঘটনার সাড়ে পাঁচ বছর পর এখন তার ছেলে ইমরান হোসেনকেও অপহরণ করে হত্যার হুমকি দিচ্ছে ইসমাইল হোসেন অপহরণ মামলার আসামি নূর আলম। নূর আলম সাত খুন মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনের শ্যালক। ইসমাইল হোসেন অপহরণ মামলায় জামিনে মুক্ত হয়ে গত ২২ আগস্ট বিকেলে কাঁচপুরের কুতুবপুরে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী জোছনা বেগমকে ডেকে নিয়ে এ হুমকি দেয় নূর আলম ও  তার সহযোগীরা।

গতকাল সোমবার দুপুরে জোছনা বেগম নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদের সঙ্গে তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, হুমকি দেওয়ার পর থেকে নূর আলমের সহযোগীরা জোছনা বেগমের বাড়ির আশপাশে প্রায়ই মহড়া দিচ্ছে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, পূর্বশত্রুতার জেরে ২০১৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি কাঁচপুর এলাকা থেকে র‌্যাব পরিচয়ে ইসমাইল হোসেনকে অপহরণ করা হয়। এরপর সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী র‌্যাব-১১-এর তৎকালীন অধিনায়ক তারেক সাইদ দুই কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। তাদের দাবিকৃত দুই কোটি টাকা দিতে না পারায় এখন পর্যন্ত তিনি তার স্বামী ইসমাইলের সন্ধান পাননি। এ ঘটনায় নূর হোসেন তার শ্যালক নূর আলম খান, র‌্যাবের সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তাসহ অনেকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন।

অভিযোগে তিনি আরও উল্লেখ করেন, নূর হোসেন কারাগারে বন্দি থাকলেও ইসমাইল অপহরণ মামলায় জামিনে মুক্তি পেয়ে তার শ্যালক নূর আলম খান অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। গত ২২ আগস্ট কাঁচপুরে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জাতীয় শোক দিবসের মিলাদ মাহফিল চলার সময় অনেকের সামনে নূর আলম তার সহযোগী মাহবুব, সোহেলসহ কয়েকজন জোছনা বেগমকে ডেকে নিয়ে অপহরণ মামলা তুলে নিতে বলে। অন্যথায় ইসমাইলের মতোই তার ছেলে ইমরানকেও অপহরণ করে হত্যার হুমকি দেয় তারা।

জোছনা বেগম বলেন, পুলিশ সুপার সোনারগাঁ থানার ওসিকে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আমার ধারণা, নূর আলম তার সহযোগী মাহবুব ও সোহেলকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিলে ইসমাইল অপহরণের বিষয়ে তথ্য পাবে পুলিশ। পাঁচ বছর ধরে স্বামীর অপেক্ষায় আছি। এখনও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কেউ ইসমাইলের সন্ধান দিতে পারেনি। আমি আমার স্বামীর সন্ধান চাই।'

নারায়ণগঞ্জ পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক সাজ্জাদ রোমন বলেন, ইসমাইলের স্ত্রীর অভিযোগটি সংশ্নিষ্ট থানার পরিদর্শককে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ সুপার। তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত নূর আলমের মোবাইল ফোন নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।