সমকাল সুহৃদ সমাবেশের উদ্যোগ

চোখের চিকিৎসা পেল চার জেলার এক হাজার মানুষ

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

মনোজ সাহা, গোপালগঞ্জ

গোপালগঞ্জসহ চার জেলার এক হাজার মানুষকে বিনামূল্যে চোখের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলার চুনখোলা সত্যবিদ্যা নিকেতনে গোপালগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব চক্ষুু হাসপাতাল, সমকাল সুহৃদ সমাবেশ ও অরবিসের উদ্যোগে এ চক্ষু ক্যাম্প হয়।

চোখের আধুনিক চিকিৎসা পেতে সকাল থেকেই গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট, খুলনা ও নড়াইলের বিভিন্ন বয়সের শত শত নারী-পুরুষ বৃষ্টি উপেক্ষা করে ক্যাম্পে আসেন। সমকাল সুহৃদ সমাবেশের সদস্যরা লাইনে দাঁড়ানো রোগীদের রেজিস্ট্রেশন করা, সিরিয়াল নির্ধারণ, চোখের ভিশন পরীক্ষা, প্রয়োজনীয়  তথ্য সরবরাহ, চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া ও ওষুধ বিতরণে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করেন।

চক্ষুু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সাইফুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে ওই হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তারা এ সেবা দেন। পরে ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী রোগীদের হাসপাতালের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে ওষুধ ও চশমা দেওয়া হয়। এ ছাড়া এ ক্যাম্প থেকে ছানি অপারেশনের জন্য ২৫ জনকে বাছাই করা হয়।

বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলার চুনখোলা গ্রামের শামীমা বেগম বলেন, আমার ছেলে কাশেম আলীর বয়স ১৯ দিন। জম্মের পর থেকেই চোখ দিয়ে পানি ঝরছে। চোখে ময়লা আসছে। এ জন্য বিনামূল্যের চক্ষু ক্যাম্পে তাকে নিয়ে এসেছি। চিকিৎসকরা চোখ পরীক্ষা করে ড্রপ দিয়েছেন। একবার ড্রপ দেওয়ার পর তার চোখের পানি পড়া কমেছে।

চিকিৎসাসেবা নেওয়া গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর আচারপাড়া গ্রামের লক্ষণ বিশ্বাস বলেন, আমার ডায়াবেটিস আছে। তাই একসঙ্গে ডায়াবেটিস ও চোখের পরীক্ষা করিয়েছি। এখানে পরীক্ষার পর দেখলাম ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আছে। চোখে কোনো সমস্যা ধরা পড়েনি।

নড়াইলের মুলশ্রী গ্রামের হাবিবুর রহমান বলেন, ৪০ বছর বয়স থেকেই চোখের সমস্যায় ভুগছি। চক্ষু হাসপাতাল ও সমকাল আমাদের পাশের গ্রামে বিনামূল্যের চক্ষুক্যাম্প করেছে। এ সুবাদে গ্রামে বসেই চোখের চিকিৎসা করেছি। চক্ষু পরীক্ষা করে আমাকে বিনামূল্যে চশমা দিয়েছে। এখন চোখে পরিস্কার দেখতে পাচ্ছি।

খুলনার তেরখাদা উপজেলার পাতলা গ্রামের সঞ্জয় বিশ্বাস বলেন, গত ১ বছর ধরে চোখ দিয়ে পানি ঝরছে। সঙ্গে চোখ ও মাথাব্যথা। এ কারণে কোনো কাজ করতে পারি না। এখানে পরীক্ষার পর ড্রপ ও ওষুধ দিয়েছে। এখন ভালো লাগছে।

ক্যাম্পের কো-অর্ডিনেটর দীপক সরকার বলেন, ছানি অপারেশনের জন্য ২৫ রোগীকে বাছাই করা হয়েছে। মঙ্গলবার পবিত্র আশুরার বন্ধ। পরে তাদের হাসপাতালে নিয়ে অপারেশন করা হবে। অপারেশনের সব খরচ আমরা ব্যয় করব। আমাদের নিজস্ব পরিবহনে তাদের আনা-নেওয়া করা হবে।

অধ্যাপক ডা. সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ডায়াবেটিসের কারণে সৃষ্ট চোখের জটিল সমস্যার চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আর ডায়াবেটিসের চিকিৎসার জন্য রোগীদের গোপালগঞ্জ ডায়াবেটিক হাসপাতালে পাঠাচ্ছি। অরবিসের অর্থায়নে এটি করা হচ্ছে। অরবিস যুক্তরাষ্ট্রে বসেই এ সংক্রান্ত ডাটাবেজ তৈরি করছে। তারা এ বৃহৎ চক্ষুক্যাম্পকে আদর্শ হিসেবে দেখছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের আদলে এ ধরনের চক্ষুক্যাম্প আফ্রিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পরিচালনা করবে অরবিস। এতে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মানুষ চোখের জটিল সমস্যা থেকে মুক্তি পাবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের সঙ্গে সমকাল সুহৃদ সমাবেশ আয়োজক হিসেবে বেশ কয়েকটি ক্যাম্প করেছে। সমকালে এ সংক্রান্ত সংবাদ নিয়মিত প্রকাশ হচ্ছে। এতে চক্ষুসেবা নেওয়া ব্যক্তিরা আরও উৎসাহিত হচ্ছেন। প্রতিটি ক্যাম্পে আমরা ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। সমকাল সুহৃদ সমাবেশের সদস্যরাও ক্যাম্প সফল করতে নিরলস পরিশ্রম করছেন।