ধর্ষণ মামলার আসামি ছিনিয়ে নিতে হামলা, চার পুলিশ আহত

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ওসমানীনগর (সিলেট) প্রতিনিধি

সিলেটের ওসমানীনগরে মা-মেয়েকে ধর্ষণ মামলায় গ্রেফতার হওয়া আসামিকে ছিনিয়ে নিতে পুলিশের ওপর হামলা হয়েছে। গত রোববার গভীর রাতে উপজেলার উমরপুর ইউনিয়নের লামাইসবপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। হামলাকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে চার পুলিশ সদস্য এবং পুলিশের শটগানের গুলিতে আসামি খোকন বালি (২৮) আহত হয়েছে। এ ঘটনায় ওসমানীনগর থানায় আহত এসআই সাইফুল মোল্লা বাদী হয়ে পুলিশ অ্যাসল্ট মামলা করেছেন। আহত খোকনকে রাতেই পুলিশ হেফাজতে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খোকন বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার ধনপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর বালির ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, খোকনের বাবা জাহাঙ্গীর বালি ওসমানীনগরের উমরপুর ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামের এক প্রবাসীর বাড়িতে কেয়ারটেকারের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। খোকন পেশায় ট্রাকচালক। গত রোববার খুলনা জেলার দৌলতপুর থানার  পাবলা দফাদারপাড়ায় বসবাসরত এক নারী (৩৪) থানায় এসে অভিযোগ করেন, খোকন খুলনায় অবস্থানকালে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে তাকে অনেকদিন ধর্ষণ করে এবং তার টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেয়। একপর্যায়ে তাকে চাকরির জন্য কৌশলে ঢাকায় পাঠিয়ে গত ঈদুল আজহার পর তার কিশোরী মেয়েকে (১৩) ফুসলিয়ে অপরহণ করে নিয়ে এসে ওসমানীনগরে বাবার ঠিকানায় রেখে ধর্ষণ করে আসছে। মেয়ের কাছ থেকে ঘটনা এবং অবস্থান জেনে ওই নারী ওসমানীনগরে এসে থানায় খোকন বালিকে আসামি করে মামলা করেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে রোববার রাতে কামালপুর গ্রাম থেকে খোকনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর থানায় ফেরার পথে মধ্যরাতে লামাইসবপুর এলাকায় আসামি খোকনকে ছিনিয়ে নিতে পুলিশের ওপর হামলা চালায় তার সহযোগীরা। হামলায় ওসমানীনগর থানার এসআই সাইফুল মোল্লা, এএসআই ইয়াছির আরাফাত চৌধুরী, কনস্টেবল জীবন দেব ও শিমুল আহত হন। এ সময় পুলিশ আত্মরক্ষায় ১১ রাউন্ড শটগানের গুলি ছুড়লে খোকন পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়। আহত পুলিশ সদস্যদের রাতে বালাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। হামলার ঘটনায় আহত এসআই সাইফুল মোল্লা বাদী হয়ে গতকাল সোমবার খোকন ও তার বাবাসহ ১০-১২ জনকে আসামি করে একটি অ্যাসল্ট মামলা দায়ের করেছেন।

ওসমানীনগর থানার ওসি এসএম আল মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় খোকন এবং তার বাবাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য গতকাল ভিকটিম মা ও মেয়েকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে পাঠানো হয়েছে। হামলাকারীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারে পুলিশ তৎপর রয়েছে বলেও জানান তিনি।