প্যানক্রিয়াটিক ডায়াবেটিস কী

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ডা. শাহজাদা সেলিম, সহকারী অধ্যাপক, এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

ডায়াবেটিস রোগীর একটি অংশ সরাসরি প্যানক্রিয়াসে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণেই রোগটিতে ভোগে। প্যানক্রিয়াসের বিটা কোষ, যা ইনসুলিন তৈরি করে, এটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে ইনসুলিন উৎপাদন কমে যায় এবং ডায়াবেটিস হয়। এটিকে অপুষ্টিজনিত ডায়াবেটিস হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন হারে এ রোগের উপস্থিতি দেখা যায়। এ রোগটি সাধারণত বয়োসন্ধিকাল বা কৈশোরে শুরু হয়। ক্রনিক প্যানক্রিয়াটাইটিসের লক্ষণ হিসেবেই এটি শুরু হয়। ক্রনিক প্যানক্রিয়াটাইটিসের অন্যতম কারণ হলো অতিরিক্ত মদ্যপান।

কিন্তু এ ক্ষেত্রে রোগটির কারণ শিশু বয়সে আমিষ জাতীয় খাদ্যের অভাব, যা শরীরের অন্য অনেক অঙ্গ  গঠনে অস্বাভাবিকতা তৈরি করার সঙ্গে সঙ্গে প্যানক্রিয়াস বা অগ্ন্যাশয়েরও স্থায়ী কাঠামোগত দুর্বলতা তৈরি করে। ফলে অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত আমিষ খাদ্যের পাচক রসটি (এনজাইম) আক্রান্ত ব্যক্তির অগ্ন্যাশয়ের আমিষ উপাদানকেই হজম করতে থাকে। এ অংশটার সঙ্গে অগ্ন্যাশয়ের বিটা কোষের সহাবস্থান। ফলে বিটা কোষের পরিমাণ কমতে থাকে। ইনসুলিন উৎপাদন হ্রাস পেতে থাকে এবং ডায়াবেটিস হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়। তবে বিশ্বব্যাপী মানুষের পুষ্টিমান উন্নতির কারণে এ রোগটি কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। এ রোগটি অনেক ক্ষেত্রে জিনগত হতে পারে। কাছাভা খাওয়ার সঙ্গে প্যানক্রিয়াটিক ডায়াবেটিসের একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তবে বাড়ন্ত বয়সে মাত্রার তুলনায় খুব কম পরিমাণে আমিষ জাতীয় খাদ্য গ্রহণই এর প্রধানতম পরিবেশগত কারণ। বয়োসন্ধিকালের কাছাকাছি সময়ে পেটের ওপর দিকে ডান পাশে ব্যথা হিসেবে প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিতে পারে। ক্রমশ এ ব্যথা তীব্র হবে। প্রথমদিকে ব্যথানাশক ওষুধে এটি দূর হলেও শেষ পর্যায়ে কষ্টকর হতে পারে। এই রোগীর রক্তের গ্লুকোজ কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় রাখতে মুখে খাবার ওষুধ অধিক কার্যকর। তবে অনেকের ইনসুলিন নেওয়ার প্রয়োজন হয়। এ জন্য এন্ডোক্রাইনোলজিস্টের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করতে হবে। ভালো থাকুন।