বিআইডব্লিউটিসির মূলধন উন্নীত হচ্ছে ৫০০ কোটি টাকায়

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ফসিহ উদ্দীন মাহতাব

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) মূলধন ৪৫ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হচ্ছে। এ ছাড়া প্রয়োজনে সরকার সময় সময় অনুমোদিত মূলধন বৃদ্ধি করতে পারবে। সংস্থাটি কোনো কাজ সম্পাদনের জন্য সরকারের অনুমোদন নিয়ে দেশি বা বিদেশি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ বা অনুদান গ্রহণ করে মূলধন বৃদ্ধি করতে পারবে।

এসব বিষয় বাস্তবায়নে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) আইন, ২০১৯ প্রণয়ন করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। আজ সোমবার মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এটি অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হতে পারে। সংশ্নিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বিআইডব্লিউটিসির আইন শাখার ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, এখন সংস্থাটি ১৯৭২ সালের আইন দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। এই আইনের মাধ্যমে করপোরেশনকে ৫ কোটি টাকার মূলধন দেওয়া হয়েছিল। এরপর ১৯৭৯ সালে এক অধ্যাদেশের মাধ্যমে করপোরেশনের মূলধন ৪৫ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত এই মূলধন দিয়েই করপোরেশন পরিচালিত হচ্ছে।

প্রস্তাবিত আইনে অভ্যন্তরীণ নৌপথে চলাচলের জন্য যে ধরনের নৌযান বা সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজন তাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যেমন, অভ্যন্তরীণ নৌপথে কনটেইনারবাহী জাহাজ প্রয়োজন। এটা আগের আইনে ছিল না। এটা প্রস্তাবিত আইনে সংযুক্ত হয়েছে। এ প্রস্তাবনার মাধ্যমে বিআইডব্লিউটিসির বহরে কনটেইনারবাহী জাহাজ যুক্ত করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, সরকার নিয়োজিত একজন চেয়ারম্যানের অধীনে করপোরেশনের একটি পরিচালনা পরিষদ থাকবে। তিনি সরকারের নির্ধারিত মেয়াদে ও শর্তে নিযুক্ত হবেন। তিনিই হবেন করপোরেশনের সার্বক্ষণিক কর্মকর্তা এবং প্রধান নির্বাহী। তবে নৈতিক স্খলনের কারণে ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে সাজাপ্রাপ্ত হলে বা ইতিপূর্বে সরকারি চাকরির জন্য অযোগ্য ঘোষিত হলে বা সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্ত হলে তিনি চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ যোগ্য হবেন না। তাছাড়া সরকার চাইলে আদেশ জারির মাধ্যমে চেয়ারম্যান বা যে কোনো পরিচালককে পরিচালনা পরিষদ থেকে অব্যাহতি দিতে পারবে।

পরিচালক নিয়োগ প্রসঙ্গে আইনে বলা হয়েছে, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে খণ্ডকালীন পরিচালক নিয়োগ করা হবে। পাশাপাশি আরও চারজন পরিচালক নিয়োগ দেবে সরকার। খণ্ডকালীন পরিচালক ব্যতীত অন্যান্য পরিচালক করপোরেশনের সার্বক্ষণিক কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পাবেন। এর সঙ্গে সরকারের নিয়োগ দেওয়া আরও চারজন পরিচালক থাকবেন।

তবে পূর্ণাঙ্গ পরিষদ গঠন না হওয়া পর্যন্ত চেয়ারম্যান করপোরেশনের ক্ষমতা প্রয়োগ, কার্য সম্পাদন এবং দায়িত্ব পালন করবেন। করপোরেশনের পরিচালনা ও এর প্রশাসন পরিষদের ওপর ন্যস্ত থাকবে। চেয়ারম্যানের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী পরিচালনা পর্ষদের সভা হবে এবং অন্তত তিনজন পরিচালকের উপস্থিতিতে সভায় কোরাম গঠনের কথা বলা হয়েছে এতে।

করপোরেশনের কার্যাবলির বিষয়ে আইনে বলা হয়েছে, উপকূলীয় ও অভ্যন্তরীণ নৌপথে দক্ষ ও নিরাপদ নৌযোগাযোগ, নৌপরিবহন সেবা প্রদান, সরকার নির্ধারিত রুটে ফেরি পরিচালনা, বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি করাসহ নৌযোগাযোগ ও নৌপরিবহন সেবার সঙ্গে সংশ্নিষ্ট ও আনুষঙ্গিক সব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবে। এ ছাড়া করপোরেশন, নৌযান সংগ্রহ, ভাড়া করা ও দেওয়া, হস্তান্তর করা, উপকূলীয় ও অভ্যন্তরীণ রুটে তৈলবাহী ট্যাঙ্কার ও কনটেইনার জাহাজ পরিচালনা করতে পারবে। তাছাড়া নৌ নির্মাণশালা ও মেরামত কারখানা স্থাপন, রক্ষণাবেক্ষণ, নৌযান ও অনুরূপ অন্যান্য যান মেরামত, নির্মাণ, পুনঃসচল এবং সংরক্ষণ করতে পারবে।

এদিকে আজ মন্ত্রিসভায় সংবাদকর্মীদের নবম ওয়েজ বোর্ডের প্রস্তাব উঠতে পারে বলে সূত্র জানায়। এটি মন্ত্রিসভায় পাস হলেই গেজেট প্রকাশ করা হবে।