বদলে যাচ্ছে পাবলিক পরীক্ষার গ্রেডিং পদ্ধতি

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে সর্বোচ্চ গ্রেড পয়েন্ট অ্যাভারেজ বা জিপিএ '৫'-এর পরিবর্তে '৪' করা হচ্ছে। এ বিষয়ে দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদদের পরামর্শ নিয়েছে সরকার।

বহির্বিশ্বে জিপিএ ৫ না থাকায় এবং দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও সিজিপিএ ৪-এ ফল প্রকাশ করায় বিদেশে পড়াশোনা এবং চাকরির ক্ষেত্রে বাংলাদেশি ছাত্রছাত্রীদের নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এটা নিরসনেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলতি বছর জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি-জেডিসি) পরীক্ষা থেকেই জিপিএ ৪ পদ্ধতি বাস্তবায়ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গতকাল রোববার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এ সংক্রান্ত এক কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, এনসিটিবি চেয়ারম্যান, নায়েমের বিশেষজ্ঞ, বিভিন্ন কলেজের অধ্যক্ষ এবং বাংলাদেশ পরীক্ষা উন্নয়ন ইউনিটের (বেডু) কর্মকর্তারা।

একটি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান জানান, অষ্টম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা জেএসসি ও জেডিসি, এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৪ প্রবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

২০০১ সালে পাবলিক পরীক্ষায় গ্রেড পদ্ধতি চালু হয়। ৮০-১০০ নম্বরে গ্রেড ৫, ৭০-৭৯ নম্বরে ৪, ৬০-৬৯ নম্বরে ৩.৫০, ৫০-৫৯ নম্বরে ৩, ৪০-৪৯ নম্বরে ২, ৩৩-৩৯ নম্বরে ১ এবং শূন্য থেকে ৩২ নম্বরে গ্রেড পয়েন্ট শূন্য ধরা হয়। লেটার গ্রেডে যথাক্রমে এ প্লাস, এ, এ মাইনাস, বি, সি, ডি এবং এফ গ্রেড। লেটার গ্রেড ১ পেলে পাস এবং এফ গ্রেড পেলে অনুত্তীর্ণ ধরা হয়।

আর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সব বিষয়ে ৮০-এর ওপরে নম্বর পেলে সিজিপিএ ৪, ৭৫-৮০ নম্বরে ৩.৭৫, ৭০-৭৫ নম্বরে ৩.৫০, ৬৫-৭০ নম্বরে ৩.২৫, ৬০-৬৫ নম্বরে ৩, ৫৫-৬০ নম্বরে ২.৭৫, ৫০-৫৫ নম্বরে ২.৫০, ৪৫-৫০ নম্বরে ২.২৫, ৪০-৪৫ নম্বরে ২ এবং ৪০ নম্বরের কম পেলে অনুত্তীর্ণ ধরা হয়। লেটার গ্রেডে যথাক্রমে এ প্লাস, এ, এ মাইনাস, বি প্লাস, বি, বি মাইনাস, সি প্লাস, সি, ডি এবং এফ গ্রেড।

কর্মশালা সূত্র জানায়, পাবলিক পরীক্ষায় নতুন গ্রেডিং নির্ধারণ করা হয়েছে। পুরনো পদ্ধতি জিপিএ ৫-এর পরিবর্তে জিপিএ ৪ নির্ধারণ করার পক্ষেই বেশিরভাগ মতামত এসেছে গতকাল। নতুন পদ্ধতিতে সর্বোচ্চ নম্বর ৮০ থেকে ১০০ পর্যন্ত জিপিএ ৪ নির্ধারণ করা হচ্ছে। ৩২ নম্বর পর্যন্ত প্রাপ্ত পরীক্ষার্থীদের জন্য 'এফ' গ্রেড করা হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জেএসসি পর্যন্ত একই গ্রেডিং  পদ্ধতি হবে।

কর্মশালায় পাবলিক পরীক্ষায় গ্রেড পরিবর্তন কমিটির সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক শাহাদাত হোসেন প্রস্তাবিত নতুন গ্রেড পদ্ধতির ওপর প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এর পর সবার সম্মতিতে খসড়া প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়। তবে এ সংক্রান্ত আরও দুই-একটি সভার আয়োজন করা হবে বলে সভায় উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেন।

গ্রেড পরিবর্তন প্রস্তাবনায় দেখা গেছে, জেএসসি-জেডিসি, এসএসসি-সমমান, এইচএসসি-সমমান পরীক্ষায় নম্বরের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ জিপিএ ৪ নির্ধারণ করা হবে। এ ক্ষেত্রে ৯০ থেকে ১০০ পর্যন্ত এ প্লাস বা জিপিএ ৪, ৮০-৮৯ পর্যন্ত 'এ', ৭০-৭৯ বি প্লাস, ৬০-৬৯ 'বি', ৫০-৫৯ 'সি' প্লাস, ৪০-৪৯ 'সি', ৩৩-৩৯ 'ডি' এবং শূন্য থেকে ৩২ 'এফ' গ্রেড বা অকৃতকার্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সভা শেষে অধ্যাপক শাহাদাত হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রেডিং পদ্ধতির সঙ্গে সমন্বয় রেখে নতুন জিপিএ পদ্ধতি বাস্তবায়ন করা হবে। এতে বহির্বিশ্বের সঙ্গেও সমন্বয় হবে। তিনি বলেন, কর্মশালায় নতুন গ্রেড সংক্রান্ত খসড়া প্রস্তাব প্রকাশের পর এ নিয়ে উপস্থিত সবার মতামত চাওয়া হলে সবাই তাতে ঐকমত্য প্রকাশ করেন।

জানা গেছে, চলতি বছর নভেম্বরে আয়োজিত জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা থেকে নতুন পদ্ধতি কার্যকর করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিজিপিএ ৪-এর সঙ্গে সমন্বয় করে নিচের স্তরের সব পাবলিক পরীক্ষার ফলে জিপিএ ৪ করা হচ্ছে।

সভায় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যেহেতু এটি একটি বড় কর্মযজ্ঞ, তাই এটি চূড়ান্ত করার আগে আরও দু'একটি সভা করা প্রয়োজন। বিশ্বের সঙ্গে সমন্বয় রেখে গ্রেড পদ্ধতিতে পরিবর্তন করা হচ্ছে। গ্রেড পরিবর্তনের ফলে কেউ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। উন্নত বিশ্বের অনেক দেশে একই গ্রেডিং পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। সে বিষয়টির সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে গ্রেড পরিবর্তন করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, অনেক দেশের সঙ্গে আমাদের গ্রেডিং পদ্ধতির কোনো সমন্বয় না থাকায় শিক্ষার্থীরা নানা ধরনের সমস্যায় পড়ছে। নতুন পদ্ধতি বাস্তবায়িত হলে এ সমস্যার নিরসন হবে।

গতকালের কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ গোলাম ফারুক, মাদ্রাসা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সফিউদ্দিন আহমেদ, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক জিয়াউল হক, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক কায়সার আহমেদ প্রমুখ।