বিশ্বব্যাপী গণহত্যার চিত্র তুলে ধরা হবে

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও কম্বোডিয়ার জাদুঘরের চুক্তি

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

সত্তরের দশকে বাংলাদেশ ও কম্বোডিয়ায় সংঘটিত নৃশংস গণহত্যার বিভিন্ন দিক নিয়ে একসঙ্গে কাজ করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও কম্বোডিয়ার ত্যুল স্লেং জেনোসাইড মিউজিয়াম (টিএসজিএম)। চুক্তির আওতায় উভয় দেশের জাদুঘর কর্তৃপক্ষ স্বাধীনতা ও গণহত্যা-সংশ্নিষ্ট তথ্যচিত্র, ডকুমেন্টারি সংরক্ষণ এবং ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন বিষয় আদানপ্রদান করবে। পাশাপাশি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর উপলক্ষে ২০২১ সালে টিএসজিএম কম্বোডিয়ার গণহত্যা-সংশ্নিষ্ট আলোকচিত্র মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে প্রদর্শন করবে। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরও কম্বোডিয়ায় টিএসজিএম-এর ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আগামী বছর সেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণহত্যা-সংশ্নিষ্ট আলোকচিত্র প্রদর্শন করবে। বিশ্বব্যাপী গণহত্যার ভয়াবহতা তুলে ধরতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

রোববার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক, রবিউল হুসাইন, কম্বোডিয়ার ত্যুল স্লেং জেনোসাইড জাদুঘরের পরিচালক চে ভিসোথ, কম্বোডিয়ার সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি সান ফাল্লা। সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় তারা সত্তরের বাংলাদেশ ও কম্বোডিয়ায় সংঘটিত গণহত্যার স্মৃতি সংরক্ষণে যৌথভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণসহ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে কম্বোডিয়ায় ১৯৭৫ সালের ১৭ এপ্রিল থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত খেমার রুজ শাসনামলে সংঘটিত নৃশংস গণহত্যা-সংশ্নিষ্ট তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

সূচনা বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক বলেন, 'উভয় দেশের জাদুঘর কর্তৃপক্ষ চুক্তি স্বাক্ষর করে গণহত্যা-সংশ্নিষ্ট বিষয়ে একসঙ্গে গবেষণা ও তথ্যের আদানপ্রদানের বিষয়ে কাজ করতে সম্মত হয়েছে। দুটি দেশেই সত্তরের দশকে নৃশংস গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে।' তিনি আরও বলেন, 'কম্বোডিয়ায় গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচার আন্তর্জাতিক মহলে আলোচিত হয়েছে। বাংলাদেশেও একইভাবে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু হলে গণহত্যা নিয়ে কম্বোডিয়ার বিচার ব্যবস্থাকে অনুসরণ করা হয়।'

ত্যুল স্লেং জেনোসাইড জাদুঘরের পরিচালক চে ভিসোথ বলেন, 'বাংলাদেশ ও কম্বোডিয়ার গণহত্যার তথ্যচিত্র আমরা বিশ্বব্যাপী জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে চাই। এর মধ্য দিয়ে একটি বার্তা দিতে চাই- বিশ্বব্যাপী আর যেন কোথাও গণহত্যা না ঘটে।' তিনি রোহিঙ্গাদের ওপর সংঘটিত নৃশংস গণহত্যার ভয়াবহতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। চে ভিসোথ জানান, খেমের রাজবংশের সুদীর্ঘ শাসন এবং ১৫ থেকে ১৮ শতকের মধ্যে কয়েকবারই থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের আগ্রাসন থেকে বাঁচতে যুদ্ধ করতে হয়েছে এশিয়ার ছোট দেশ কম্বোডিয়াকে। এর মধ্যে সত্তরের দশকে কম্বোডিয়ায় ১০ লাখের বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল।