গাজীপুরে দুই রেস্তোরাঁয় বিস্ম্ফোরণ আহত ১৭

তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

গাজীপুর প্রতিনিধি

গাজীপুরে দুই রেস্তোরাঁয় বিস্ম্ফোরণ আহত ১৭

গাজীপুরের বোর্ডবাজার এলাকায় শনিবার রাতে বিস্ম্ফোরণে ধসে যাওয়া ভবনের একাংশ- সমকাল

গাজীপুরের বোর্ডবাজার এলাকায় পাশাপাশি থাকা দুটি রেস্তোরাঁয় বিস্ম্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুটি হোটেলের ভবনের একাংশ ধসে গেছে, ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে রেস্তোরাঁ দুটির ভেতরের অংশ। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ১৭ কর্মচারী। শনিবার রাত ২টার দিকে রাঁধুনী ও তৃপ্তি রেস্তোরাঁয় এ ঘটনা ঘটে। বিস্ম্ফোরণের বিকট শব্দে এলাকার ঘুমন্ত লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

বিস্ম্ফোরণের সঠিক কারণ তাৎক্ষণিক জানা যায়নি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, স্যুয়ারেজ লাইনে গ্যাস জমে বিস্ম্ফোরণ ঘটতে পারে। কারণ জানতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ঘেঁষে মনসুর সুপার মার্কেটের নিচতলায় রাঁধুনী রেস্তোরাঁটি চালান ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান এবং তৃপ্তি নামক রেস্তোরাঁ চালান রেজানুল ইসলাম।

ভবনের দোতলায় আইএফআইসি ও মার্কেন্টাইল ব্যাংকের শাখাসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বিস্ম্ফোরণে ওই সব প্রতিষ্ঠানের কোনো ক্ষতি না হলেও রেস্তোরাঁ দুটির কিছুই অবশিষ্ট নেই।

আহত কর্মচারীরা জানান, রাত ২টার দিকে তারা রেস্তোরাঁ বন্ধ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এমন সময় প্রচণ্ড শব্দে বিস্ম্ফোরণ ঘটে। তবে আগুন লাগেনি। বিস্ম্ফোরণের ঘটনায় দুই রেস্তোরাঁর দেয়াল ভেঙে তারা আহত হন। বিস্ম্ফোরণে ১৭ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত ১৩ জনকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। তারা হলেন- আলমগীর হোসেন, আরিফুল ইসলাম, আল আমীন, সুমন হাসান, জুবায়ের, নাজমুল, জাহিদ, মারুফ, মাসুদ, সুফিয়ান, জাহাঙ্গীর, তুহিন, শুকুর ও রাশেদ।

খবর পেয়ে গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট উদ্ধার কাজে অংশ নেয়। দমকল কর্মীরা জানান, প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ম্ফোরিত হয়েছে। কিন্তু রেস্তোরাঁয় থাকা গ্যাস সিলিন্ডারগুলো অক্ষত রয়েছে। বিস্ম্ফোরণ ঘটলেও অগ্নিকাণ্ড ঘটেনি।

গাছা থানার ওসি মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, দুই হোটেলের মাঝখানে স্যুয়ারেজ লাইন। ওই লাইন ছিল ঢাকনা দেওয়া। এতে সেখানে গ্যাস জমে বিস্ম্ফোরণ ঘটতে পারে। গত রোজায়ও স্যুয়ারেজ লাইনে বিস্ম্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল।

গাজীপুর জেলা প্রশাসক এসএম তরিকুল ইসলাম সমকালকে বলেন, এই বিস্ম্ফোরণের সঠিক কারণ অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শাহিদুর ইসলামকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।