১৫ লাখ টাকা চাঁদা নিয়ে আরও এক কোটি দাবি

অসহায় মোংলা বন্দরের শিপিং ব্যবসায়ী

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

ব্যবসায়ী এইচএম দুলালের কাছ থেকে প্রথম দফায় ১৫ লাখ টাকা চাঁদা নেওয়া হয়। এবার চাচ্ছে আরও এক কোটি টাকা। ভুক্তভোগী দুলাল মোংলা বন্দরের একজন প্রতিষ্ঠিত শিপিং ব্যবসায়ী। একই সঙ্গে তিনি মোংলা পৌর নাগরিক সমাজের সভাপতি। সমাজসেবক হিসেবে রয়েছে তার খ্যাতি। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনিও একজন শিপিং ব্যবসায়ী। তিনি খুলনার ৩ কেডিএ এভিনিউ এলাকার সিগমা শিপিং লাইন্স লিমিটেডের মালিক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মোংলা বন্দর ব্যবহারকারী এইচএম দুলালের মালিকানাধীন মের্সাস নুরু অ্যান্ড সন্স কোম্পানির আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেশ সুনাম রয়েছে। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ থেকেও তিনি কয়েকবার পুরস্কৃত হয়েছেন। এটাই তার জন্য কাল হয়েছে। ঈর্ষান্বিত হয়ে প্রতিপক্ষ ব্যবসায়ীরা তার বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লাগে। ২০১৭ সালে এইচএম দুলাল মোংলা বন্দর জেটির সম্মুখভাগ থেকে রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র পর্যন্ত প্রায় ১৩ কিলোমিটার নদী খননের আন্তর্জাতিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রায়তীকুশাল সি ঈগল ড্রেজিং জেভির সঙ্গে জ্বালানি তেল (ডিজেল/ফার্নেস) সরবরাহে চুক্তিবদ্ধ হন। চুক্তি অনুযায়ী তেলও সরবরাহ করেন তিনি। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তেল সরবরাহের মূল্য হিসেবে ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে এইচএম দুলালের ৩ কোটি ৬৪ লাখ ৯৩ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে। এ টাকার মধ্যে তিন দফায় ৩৬ লাখ ২২ হাজার ৮শ', এক কোটি ৮ লাখ ৫০ হাজার এবং দুই কোটি টাকার চেক দেয় প্রায়তীকুশাল সি ঈগল ড্রেজিং জেভি। কিন্তু ওই চেকের টাকা ছাড় করাতে বাধা হয়ে দাঁড়ান প্রায়তীকুশাল সি ঈগল ড্রেজিং জেভির বাংলাদেশের স্থানীয় এজেন্ট সিগমা শিপিং লাইন্সের মালিক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলুসহ তার সহযোগীরা। তারা দুলালের কাছে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন। এর আগেও ২০১৬ সালে বাবলু জ্বালানি তেল সরবরাহ বাবদ চাঁদা চাইলে ব্যবসায়িক স্বার্থে দুই দফায় দুলাল তাকে ১৫ লাখ টাকা দেন। সম্প্রতি চেকের টাকা ছাড় করাতে আরও এক কোটি টাকা চাইলে দুলাল তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গত ২৬ আগস্ট বেলা ১১টায় প্রকাশ্যে মোংলা বন্দরের ইঞ্জিনিয়ারিং বিল্ডিং চত্বর এলাকায় নুরু অ্যান্ড সন্সের ম্যানেজার সাধন কুমার চক্রবর্তীকে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে ভয়ভীতি দেখান ব্যবসায়ী বাবলু ও তার সহযোগীরা। এক কোটি টাকা না দিলে প্রাণনাশেরও হুমকি দেওয়া হয়। এ সময় সাধনের চিৎকারে আশপাশের লোকজন জড়ো হলে বাবলু তার বাহিনী নিয়ে সটকে পড়েন।

এ ঘটনায় গত ৪ সেপ্টেম্বর আদালতের মাধ্যমে মোংলা থানায় মামলা করেন সাধন চক্রবর্তী। একই দিন এইচএম দুলালের বিরুদ্ধে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে আদালতের মাধ্যমে পাল্টা মামলা করেন অভিযুক্ত বাবলু। পাল্টাপাল্টি দুটি মামলা দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করেন মোংলা থানার ওসি ইকবাল বাহার চৌধুরী।

বন্দরের কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুলালকে জব্দ করতেই বাবলু এ সাজানো মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এইচএম দুলালের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলক এ মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে গতকাল রোববার  সকালে শহরের শেখ আ. হাই সড়ক এলাকায় মানববন্ধন করা হয়। 'আমরা মোংলাবাসী'র ব্যানারে মানববন্ধন ও সমাবেশে বক্তব্য দেন আহসান হাবিব হাসান, হাসান গাজী, শেখ মো. নূর আলম, এমএ মোতালেব, মাওলানা তানভীর আহম্মেদ, শ্রমিক নেতা এরশাদুজ্জামান সেলিম, জাহাঙ্গীর সর্দার, বাবুল সর্দার প্রমুখ।

মোংলা থানার ওসি ইকবাল বাহার চৌধূরী বলেন, চাঁদাবাজির দুটি ঘটনাই আমরা তদন্ত করে দেখছি। তদন্ত শেষ হলেই বোঝা যাবে কোনটি সঠিক।

অভিযোগ বিষয়ে জানতে ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বাবলুর মোবাইল ফোনে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তিনি স্থানীয় কয়েকটি পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে জানিয়েছেন, তার নামে নুরু অ্যান্ড সন্সের ম্যানেজার সাধন কুমার চক্রবর্তী মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেছেন। তিনি কোনো সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত নন।