রংপুর-৩ আসনে উপনির্বাচন

সাদের মনোনয়নে জাপার একাংশে চাপা ক্ষোভ

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

মেরিনা লাভলী, রংপুর

রংপুর-৩ সদর আসনে উপনির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে সাদ এরশাদ মনোনয়ন পাওয়ায় চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীর একাংশের মাঝে। গতকাল রোববার দুপুরে নির্বাচনে অংশ নিতে নেতাকর্মীদের নিয়ে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন জাতীয় পার্টির যুগ্ম মহাসচিব ও মহানগর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক এসএম ইয়াসির আহমেদ। গতকাল বিকেলে কেন্দ্র থেকে সাদ এরশাদকে মনোনয়ন দিলে জেলা জাতীয় পার্টির নেতা সাফিউর রহমান সাফি, আজমল হোসেন লেবু, নাজিম উদ্দিনসহ অন্য নেতাকর্মীরা সাদ এরশাদের পক্ষে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা জিএম সাহাতাব উদ্দিনের কাছ থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। আর এতেই আশাহত ইয়াসিরের অনুসারীরা।

জাতীয় ছাত্রসমাজ রংপুর মহানগরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফ আলী বলেন, সমঝোতা হওয়ায় জিএম কাদের ও আমরা তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা হেরে গেলাম। তারা বিরোধীদলীয় নেতাও নিল, আবার সাদকে প্রার্থী করল। পরাজিত হলাম আমরা। আগামী ৩০ নভেম্বর কাউন্সিলের মাধ্যমে দলীয় চেয়ারম্যান হবেন রওশন এটি শতভাগ নিশ্চিত।

এসএম ইয়াসির বলেন, উপনির্বাচনে অংশ নিতেই আমি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছি। দলের নেতাকর্মীরা চান আমি নির্বাচনে থাকি। তারা আমাকে নির্বাচিত করে রংপুরের উন্নয়নকে বেগবান করতে চান। যেহেতু দলের পক্ষ থেকে প্রার্থী নির্ধারণ করা হয়েছে। তাই আমি স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করব না-কি করব না, তা দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব। এখন পর্যন্ত আমি নির্বাচনের মাঠে রয়েছি।

এদিকে এরশাদের ভাতিজা হুসেইন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে উপনির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। গতকাল সকালে সর্বপ্রথম তিনিই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। জাতীয় পার্টির রংপুর জেলার সাধারণ সম্পাদক এসএম ফখর-উজ-জামান জাহাঙ্গীরের পক্ষেও মনোনয়নপত্র নিয়েছেন তার কর্মী-সমর্থকরা।

আসিফ বলেন, এরশাদ পরিবারের সদস্য হলেও দল আমাকে মনোনয়ন দেবে না। তাই পার্টির হিসাব না করে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রাজুর পক্ষে গতকাল দুপুরে দলের নেতাকর্মীরা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। এর আগে মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক এমএ মজিদের পক্ষেও মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়। যদিও তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছেন। অপরদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে রিটা রহমানকে মনোনয়ন দিলেও উপনির্বাচনে অংশ নিতে কোমর বেঁধে নেমেছেন মহানগর বিএনপির সহসভাপতি কাওসার জামান বাবলা। গতকাল তিনিও মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।

যারা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেন : অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রাজু (আওয়ামী লীগ), রাহাগীর আল মাহি সাদ এরশাদ (জাতীয় পার্টি), রিটা রহমান (বিএনপি), হুসেইন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ (স্বতন্ত্র), কাজী মো. শহীদুল্লাহ (গণফ্রন্ট), মো. তৌহিদুর রহমান মণ্ডল (খেলাফতে মজলিস), আব্দুল মজিদ (আওয়ামী লীগ), এসএম ফখর-উজ-জামান জাহাঙ্গীর (জাতীয় পার্টি), এসএম ইয়াসির (জাতীয় পার্টি), শফিউল আলম (এনপিপি), কাওসার জামান বাবলা (বিএনপি)।