যুক্তরাষ্ট্রে আরেক বাংলাদেশি গুলিতে নিহত

বিয়ের আংটি কিনেও দেশে ফেরা হলো না ফিরোজের

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

সমকাল ডেস্ক

 বিয়ের আংটি কিনেও দেশে ফেরা হলো না ফিরোজের

ফিরোজ-উল-আমিন

আসছে ডিসেম্বরে দেশে ফিরে বিয়ে করার কথা ছিল তার। হবু বধূর জন্য তাই কিনেছিলেন পছন্দের স্বর্ণের আংটি। বিয়ের পর মধুচন্দ্রিমায় যাওয়ায় ইচ্ছা ছিল ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপে। যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়া বাংলাদেশি ছাত্র ফিরোজের সব শখ আর ইচ্ছা কেড়ে নিয়েছে দৃর্বুত্তের বুলেট। স্থানীয় সময় শনিবার লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের ব্যাটন রোজ এলাকায় ছিনতাইকারীদের গুলিতে প্রাণ হারান তিনি। নিহত মো. ফিরোজ-উল-আমিন (২৯) লুইজিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে কম্পিউটার সিকিউরিটি বিষয়ে পিএইচডি গবেষণারত ছিলেন। তিনি গাজীপুরের ভাওয়াল বদরে আলম কলেজ সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিশেষ কৃতিত্বের সঙ্গে অনার্সসহ মাস্টার্স করেছেন। এ নিয়ে গত পাঁচ দিনে যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি গুলিতে ও আরেকজন গাড়িচাপায় প্রাণ হারালেন। খবর এনআরবি নিউজের।

লুইজিয়ানার ব্যাটন রোজ পুলিশ জানিয়েছে, লুইজিয়ানার ব্যাটন রোজ এলাকায় বাংলাদেশি শহিদের মালিকানাধীন 'মি. লাকি'স ভেলরো গ্যাস স্টেশনে' খণ্ডকালীন কাজ করতেন ফিরোজ। শনিবার রাতের শিফটে কাজ করার সময় ছিনতাইকারীরা তাকে গুলি করে হত্যা করে এবং ক্যাশবাক্স লুটে নিয়ে যায়। ফিরোজের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে পরিচিত লুইজিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি নেওয়া ড. রিয়াজ শনিবার রাতে এনআরবি নিউজকে জানান, 'আসছে ডিসেম্বরেই বাংলাদেশে যাওয়ার কথা ছিল। সে সময় ফিরোজের বিয়ে হবে। এজন্য কয়েক মাস ধরে ওই ওই গ্যাস স্টেশনে কাজ করছিলেন। গত সপ্তাহেই বিয়ের আংটি কিনেছেন ফিরোজ। কিন্তু ঘাতকের বুলেট সবকিছু তছনছ করে দিল।' তিনি আরও জানান, পিতৃহীন ফিরোজ ছিলেন মায়ের একমাত্র পুত্র সন্তান। এ মৃত্যুর খবর জেনে তার মা ও বোন শোকে ভেঙে পড়েছেন। অনুরোধ জানিয়েছেন ছেলের লাশ দেশে পাঠিয়ে দেওয়ার জন্য।

এ হত্যাকাণ্ডে ব্যথিত লুইজিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটির গণসংযোগ কর্মকর্তা আর্নি ব্যালার্ড জানান, ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স এবং ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রামে পিএইচডি করছিলেন ফিরোজ। ডিজিটাল ফরেনসিক, রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ম্যালওয়্যারে অ্যানালাইসিসে বিশেষভাবে পারদর্শী অধ্যাপক গোল্ডেন জি রিচার্ডের অধীনে ফিরোজ কাজ করছিলেন। ফিরোজ ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। তার এই কোর্স শেষ হওয়ার কথা ২০২৩ সালে। ড. রিয়াজ আরও জানান, ফিরোজের ঘাতকদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে। গ্যাস স্টেশনসহ আশপাশের সিসিটিভি পরীক্ষা করা হচ্ছে।

ফিরোজ হত্যাকাণ্ডের মাত্র পাঁচ দিন আগে অর্থাৎ গত সোমবার ভোরে নিউইয়র্ক সিটির রিচমন্ড হিল এলাকায় দুর্বৃত্তের গুলিতে মো. শাহেদ উদ্দিন (২৭) নামে এক বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু হয়।