খালেদা জিয়াকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে- মির্জা ফখরুল

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও মুক্তির জন্য বুধ ও বৃহস্পতিবার দুই দিনের মানববন্ধনসহ বিভাগীয় শহরে সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

গতকাল রোববার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

এ সময় মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করতেই সরকার তাকে উন্নত চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত করছে।

মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তাকে সুস্থ দেখিয়ে কারাগারে নিয়ে যাওয়ার 'ষড়যন্ত্র' করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলন থেকে আগামী ১১ সেপ্টেম্বর বুধবার ঢাকা মহানগরে এবং ১২ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সারাদেশে মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়। একই দাবিতে বিভাগীয় শহরগুলোর মধ্যে সিলেটে ২১ সেপ্টেম্বর, ময়মনসিংহে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং রাজশাহীতে ২৯ সেপ্টেম্বর জনসভা করবে বিএনপি। এরপর রংপুরেও সমাবেশ করার প্রস্ততি নেওয়া হচ্ছে। দলের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন এ ধরনের কর্মসূচি পালন করবে বলেও জানানো হয়।

খালেদা জিয়ার অসুস্থতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, অবিলম্বে খালেদা জিয়ার আইনগত অধিকার জামিন দেওয়া হোক। কারণ তিনি গুরুতর অসুস্থ। প্রতিদিনই তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে। তাকে বিছানা থেকে ওঠাতে দু'জনকে সাহায্য করতে হয়, হুইল চেয়ারে করে বাথরুমে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও দু'জনের সাহায্য নিতে হয়। তিনি পা ভাঁজ করতে পারেন না। রাতে ঠিকভাবে ঘুমাতে পারেন না। তার দুই কাঁধ ও হাতের পেশি শক্ত হয়ে যাচ্ছে।

'খালেদা জিয়া এখন সুস্থ হয়ে গেছেন'- বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষের এমন বক্তব্যকে 'ষড়যন্ত্র' আখ্যা দিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকারদলীয় নেতা ও মন্ত্রীরা কারাবন্দি অবস্থায় বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিলেও রাজনৈতিক কারণে উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাকে জামিন দেওয়া হচ্ছে না। অথচ জামিনে মুক্তি পেলেও তিনি তার সুবিধামতো দেশে হোক, বিদেশে হোক চিকিৎসা নিতে পারতেন।

এ সময় মির্জা ফখরুল বিএসএমএমইউ হাসপাতালে মেডিকেল প্রতিবেদন পড়ে শোনান, যেখানে তার জটিল রোগের সুচিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।

স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ক্ষেত্রে আইন থেকে রাজনৈতিক বিষয়টা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করে বিএনপির ভাইস ও চেয়ারম্যান বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, একজন চিকিৎসককে ধর্ম, বর্ণ ও রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে রোগীকে সেবা করার শপথ নিতে হয়। কিন্তু এখানে চিকিৎসক হিসেবে নেওয়া শপথ পালন করা হচ্ছে না। রাজনীতি আর চাকরিকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।