নুসরাত হত্যা

পিবিআই প্রধানকে তলবের আবেদন নামঞ্জুর

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফেনী ও সোনাগাজী প্রতিনিধি

ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় বাদী ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে আবার আদালতে তলব করা হয়েছে। তবে আদালত পিবিআই প্রধানকে তলবের আবেদন নামঞ্জুর করেছেন। গতকাল রোববার আদালতে নুসরাতের দুই বান্ধবীকে ফের জেরা করা হয়েছে।

সকালে ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে নুসরাতের দুই বান্ধবী নাসরিন সুলতানা ফুর্তি ও নিশাত সুলতানাকে জেরা করেন আসামিপÿের আইনজীবীরা। পরে শুরু হয় পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদারকে আদালতে তলব করা নিয়ে আবেদনের ওপর শুনানি। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা শুনানিতে অংশ নিয়ে আদালতকে  জানান, পিবিআই প্রধান আসামিদের স্বীকারোক্তির আগেই সংবাদ সম্মেলন করে অভিযুক্তরা স্বীকারোক্তি দিয়েছেন বলে দাবি করেন।

আইনজীবীরা আদালতকে আরও বলেন, পিবিআই প্রধানের বক্তব্য ন্যায়বিচারের পরিপন্থি ও এতে তার নিরপেক্ষতা ভঙ্গ হয়েছে। আইনজীবীরা রিফাত শরিফ হত্যা মামলায় আসামিদের স্বীকারোক্তির বিষয়ে বরগুনার পুলিশ সুপারকে হাইকোর্টে সতর্ক ও তলব করার উদাহরণ দেন। তাই আইনজীবীরা পিবিআই প্রধানকে তলব করার জোর আবেদন জানান। জবাবে রাষ্ট্র ও বাদীপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, পিবিআই প্রধানকে তলব করে সময়ক্ষেপণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। দু'পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তলব আবেদনটি নামঞ্জুর করেন।

পিপি হাফেজ আহাম্মদ জানান, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা নুসরাত হত্যার বাদী নিহতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান ও পিবিআইর তদন্ত কর্মকর্তা শাহ আলমের ফের সাক্ষ্য গ্রহণের আবেদন করেছেন। আদালত শুনানি শেষে আবেদন মঞ্জুর করে আজ সোমবার তাদের সাক্ষ্য দেওয়ার দিন ধার্য করেছেন।

এদিকে মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ উপেক্ষা করে এ মামলার আসামি নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা কামরুন নাহার মনিকে গতকালও আদালতে হাজির করা হয়। শুক্রবার তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ড সন্তান প্রসব না হওয়া পর্যন্ত মনিকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দেয়।

মনির আইনজীবী আহসান কবির বেঙ্গল জানান, আদালত তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাজির করার জন্য কারা কর্তৃপক্ষের প্রতি আদেশ দিয়েছেন। তবে কারা কর্তৃপক্ষ বলেছে, অ্যাম্বুলেন্সে আসামিকে আনা-নেওয়ার সক্ষমতা তাদের নেই।

এই আইনজীবী জানান, এ অবস্থায় তাকে আদালতে আনা-নেওয়ার কারণে যে কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। মামলার অভিযোগ গঠনের পর থেকে প্রতি কার্যদিবসে তাকে আদালতে আনা হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে আদালতকে বারবার অবহিত করা হয়েছে। প্রসবের সময় পর্যন্ত তার জামিনের জন্য আবেদন করা হলে আদালত নামঞ্জুর করেন। এমনকি তাকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দিয়ে মামলার বিচারকাজ পরিচালনার আবেদন করা হলেও আদালত তা গ্রহণ করেননি।

গত ৬ এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় একদল দুর্বৃত্ত নুসরাতের শরীরে আগুন দিলে তার মৃত্যু ঘটে। এ ঘটনায় পিবিআই মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষসহ ১৬ জনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দেয়।