'পরিবারতন্ত্র মুক্ত' নেতৃত্ব নির্বাচনে সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ গঠন

সিলেট চেম্বার নির্বাচন

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

সিলেট ব্যুরো

'পরিবারতন্ত্র মুক্ত' নেতৃত্ব নির্বাচনে সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ গঠন

সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নির্বাচন সামনে রেখে রোববার নগরীর সুবহানীঘাটের একটি হোটেলে মতবিনিময়ে সভার পর 'সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ' গঠন করা হয়- সমকাল

সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে 'সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ' গঠিত হয়েছে। এ পরিষদের ব্যানারে অর্ডিনারি, অ্যাসোসিয়েট ও গ্রুপ শ্রেণির প্রার্থীরা ২১ প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। প্রথমে পৃথকভাবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হলেও চেম্বারের নেতৃত্বে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের আনতে তিন শ্রেণির প্রার্থীরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। গতকাল রোববার দুপুরে নগরীর সুবহানীঘাটের একটি হোটেলে মতবিনিময় সভার পর এ পরিষদ গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এ সময় তিন গ্রুপের প্রার্থীরা সিলেট চেম্বারকে 'পরিবারতন্ত্র মুক্ত' করতে সর্বস্তরের ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা চান।

সিলেট চেম্বারের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি শাহ আলমের সভাপতিত্বে ও সাবেক সভাপতি ফারুক আহমদ মিসবাহের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন সাবেক সহসভাপতি দেলওয়ার হোসেন, সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি ও এফবিসিসিআইর সাবেক পরিচালক হিজকিল গুলজার, সাবেক সহসভাপতি ও বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প  ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব জুবায়ের আহমদ চৌধুরী, সিলেট  চেম্বারের সাবেক নির্বাচন কমিশনার বিজিত চৌধুরী, সাবেক পরিচালক এজাজ আহমদ চৌধুরী, ব্যবসায়ী মাহি উদ্দিন আহমদ সেলিম, শিল্প ব্যাংকের পরিচালক ও সিলেট চেম্বারের সাবেক পরিচালক ইফতেখার হোসেন প্রমুখ।

সাবেক সভাপতি ফারুক আহমদ মিসবাহ বলেন, সিলেট চেম্বারকে কুক্ষিগত করে রাখতে সদ্য সাবেক কমিটির সভাপতির নেতৃত্বে জাল ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্তে জাল-জালিয়াতির বিষয় প্রমাণিত হওয়ার পর অনেক জাল ভোটার বাদ পড়েছে। সংশোধিত তালিকায়ও অনেক অসংগতি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একজন চেম্বার প্রশাসকও নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, ব্যবসায়ী নন, এমন একজনকে না জানিয়ে ভোটার করা হয়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি শাহ আলম বলেন, সময়ের প্রয়োজনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।



এ পরিষদের ব্যানারে অর্ডিনারি শ্রেণি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন- আবু তাহের মোহাম্মদ শোয়েব, মো. মামুন কিবরিয়া সুমন, এনামুল কুদ্দুছ চৌধুরী, মুকির হোসেন চৌধুরী, হুমায়ুন আহমদ, ফারুক আহমদ, মো. নজরুল ইসলাম, জুবায়ের রকিব চৌধুরী, আক্তার হোসেন খান, আব্দুল হাদী পাবেল, শহীদ আহমদ চৌধুরী ও মোহাম্মদ আব্দুস সালাম। অ্যাসোসিয়েট শ্রেণিতে এ পরিষদের হয়ে নির্বাচন করছেন- মাসুদ আহমদ চৌধুরী, পিন্টু চক্রবর্তী, চন্দন সাহা, মো. এমদাদ হোসেন, আব্দুর রহমান ও মো. আতিক হোসেন। এ ছাড়া গ্রুপ শ্রেণি থেকে তাহমিন আহমদ, ওয়াহিদুজ্জামান চৌধুরী ও আমিনুজ্জামান জোয়াহির প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

শেষ পর্যায়ে তিনটি শ্রেণিতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের ব্যানারে নির্বাচনের অঙ্গীকার করেন।

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে সিলেট চেম্বারের মতবিনিময় :সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নির্বাচন সামনে রেখে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন প্রশাসক, নির্বাচন বোর্ড ও আপিল বোর্ড। এ সময় সব প্রার্থীর কাছে নির্বাচনী আচরণবিধি সরবরাহ করা হয়। গতকাল দুপুরে চেম্বার ভবনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. নাসির উদ্দিন খান আচরণবিধি মেনে চলা ও শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য সব প্রার্থীর প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ভোটারদের অবশ্যই অর্ডিনারি শ্রেণিতে ১২টি, অ্যাসোসিয়েট শ্রেণিতে ৬টি ও ট্রেড গ্রুপ শ্রেণিতে ৩টি ভোট প্রদান করতে হবে। না হলে বিধি অনুযায়ী ওই ভোটারের ব্যালট পেপার বাতিল বলে বিবেচিত হবে।

আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট একেএম শমিউল আলম বলেন, 'নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে আপিল বোর্ড সদা সচেষ্ট। প্রাথমিক ভোটার তালিকার বিরুদ্ধে উত্থাপিত আপিল থেকে শুরু করে মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে আপিলসহ সব আপিলে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সাবধানতা অবলম্বন করে নিষ্পত্তি করেছি। ভবিষ্যতেও নির্বাচন সংক্রান্ত যে কোনো আপিল যথাযথভাবে নিষ্পত্তি করতে প্রস্তুত।'

সিলেট চেম্বারের প্রশাসক আসাদ উদ্দিন আহমদ বলেন, 'সিলেটের ব্যবসায়ীদের ঐতিহ্যবাহী সংগঠনের কার্যক্রমের ধারাকে অব্যাহত রাখতে যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন একান্ত জরুরি। একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে সাধ্যমতো কাজ করে যাচ্ছি।'

এ সময় নির্বাচন বোর্ডের সদস্য অ্যাডভোকেট সৈয়দ শামীম আহমদ ও অ্যাডভোকেট মো. জুনেল আহমদ এবং আপিল বোর্ডের সদস্য অ্যাডভোকেট মো. রাজ উদ্দিন ও হারুন আল রশিদ দিপু উপস্থিত ছিলেন। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে চারটি শ্রেণিতে মোট ৪১ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদের মধ্যে টাউন শ্রেণিতে একমাত্র প্রার্থী শমসের জামাল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছেন। এ ছাড়া অর্ডিনারি শ্রেণিতে ১২ জন, অ্যাসোসিয়েট শ্রেণিতে ৬ জন ও গ্রুপ শ্রেণিতে ৩ জন নির্বাচিত হবেন।