জলবায়ু বাজেট বাস্তবায়নে টাস্কফোর্স গঠনের দাবি

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

জলবায়ু বাজেট বাস্তবায়নে টাস্কফোর্স গঠনের দাবি

জলবায়ু বাজেট নিয়ে রোববার রাজধানীর ডেইলি স্টার সেন্টারে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ ও ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা - সমকাল

জলবায়ু-সংক্রান্ত বাজেট বছর বছর বাড়লেও এর যথাযথ বাস্তবায়ন বিষয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হয় না। এই বাজেট জনজীবনে কতটা প্রভাব ফেলছে, তা পর্যবেক্ষণ ও গবেষণাভিত্তিক বিশ্নেষণে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা যেতে পারে; যা পরবর্তীতে জলবায়ু বাজেট পরিকল্পনায় সহায়ক হবে। পাশাপাশি এ বাজেট বাস্তবায়নে জলবায়ু ও দুর্যোগবিষয়ক গবেষণা এবং জ্ঞান ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন।

'বাংলাদেশ জলবায়ু বাজেট ২০১৯-২০ অর্থবছর : সুশীল সমাজ সংস্থার বিশ্নেষণ ও প্রতিফলন' শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। গতকাল রোববার ডেইলি স্টার সেন্টারে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ এবং ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের যৌথ উদ্যোগে এ অনুষ্ঠান হয়।

ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জের পরিচালক ড. সলিমুল হক বলেন, উন্নত জলবায়ু বাজেট পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে গবেষণা, জ্ঞান তৈরি ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ আরও বাড়ানো প্রয়োজন। দুর্যোগকালীন জরুরি সহায়তার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলোকে মাথায় রেখে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে, যেন পরবর্তী দুর্যোগে ক্ষতির পরিমাণ আরও কমিয়ে  আনা যায়।

ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর ড. মিজানুর রহমান খান বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে জলবায়ু বাজেট ও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এখনও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সেজন্য স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, বিপদাপন্নতার দুটি দিক রয়েছে- ভৌগোলিক এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক। অভিযোজনকে উভয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে হবে এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে হবে।

অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্‌ কবির বলেন, বাংলাদেশ সরকার সুদূরপ্রসারী নানা উদ্যোগ নিচ্ছে। সুচিন্তিত পরিকল্পনা এবং অ্যাডভোকেসির মাধ্যমে আরও বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলোরও জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত বাজেট তৈরি ও নিজ নিজ অবস্থান থেকে পদক্ষেপ নিতে হবে।

অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব এম খালিদ মাহমুদ বক্তব্য দেন। শুরুতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট জাস্টিস ইউনিটের প্রধান তানজীর হোসেন এবং প্রোগ্রাম কর্মকর্তা লামিয়া হোসেন।

এ সময় বলা হয়, জলবায়ু সম্পর্কিত বাজেট আগের চেয়ে একটু বাড়লেও সেটি চলতি অর্থবছরের জিডিপির মাত্র শূন্য দশমিক আট শতাংশ। সে হিসাবে এ-সংক্রান্ত বাজেট বরাদ্দ এবার শূন্য দশমিক ১২ শতাংশ কমেছে।

ধারণাপত্রে বলা হয়, এমন অনেক উন্নয়ন প্রকল্প রয়েছে যা জলবায়ু পরিবর্তনে অবদান রাখছে। তাই ইতিবাচক এবং নেতিবাচক উভয় বিনিয়োগেরই তথ্য আগামী জলবায়ু বাজেট রিপোর্টে উল্লেখ করা প্রয়োজন। এ-সংক্রান্ত বরাদ্দ এবং ব্যয় মানুষের জীবনে কীভাবে প্রভাব বিস্তার করে সে সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা দিতে প্রতিটি প্রকল্প ও কাজের ফলাফল পরিমাপ করা জরুরি। প্রয়োজনে সরকারি কর্মকর্তা, নাগরিক সমাজ সংস্থা এবং বেসরকারি খাতগুলোর সমন্বয়ে যৌথ মনিটরিং টাস্কফোর্স গঠন করতে হবে।