খুলনায় ভুল চিকিৎসায় ছাত্রের মৃত্যুর অভিযোগ

চিকিৎসককে মারধর

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

খুলনা ব্যুরো

খুলনা নগরীর খালিশপুর এলাকায় ভুল চিকিৎসায় রিপন হোসেন নামের এক কলেজছাত্র মারা গেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল রোববার ভোরে নগরীর খালিশপুর ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

রিপন নগরীর মুজগুন্নী এলাকার নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শওকত হোসেনের ছেলে এবং বেসরকারি সিটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অটোমোবাইল বিভাগের সপ্তম সেমিস্টারের  ছাত্র ছিলেন। তিনি এলাকায়  ভালো ক্রিকেটার হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।

এদিকে তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতালের চিকিৎসককে মারধর করেছে নিহত রিপনের স্বজন ও বন্ধুরা। এ

সময় ডা. সুজাউদ্দিনকে জোর করে ধরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ হাসপাতাল থেকে সুজাউদ্দিনকে উদ্ধার করে ওই হাসপাতালে ভর্তি করে। এ সময় দু'জনকে আটক করা হয়।

রিপনের প্রতিবেশী মাসুক হাসান জানান, শনিবার রাতে হঠাৎ পেটে ব্যথা নিয়ে খালিশপুর ক্লিনিকে রিপনকে ভর্তি করা হয়। এ সময় তাকে ১ লিটার ওজনের স্যালাইন পুশ করে ২০ মিনিটের মধ্যে শেষ করে নার্সরা। এত দ্রুত স্যালাইন দেওয়া দেখে বিষয়টি আমরা ডা. সুজাউদ্দিনের কাছে গিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'আপনারা তো ডাক্তার না। বুঝবেন কী?' পরে ভোর ৪টার দিকে রিপন মারা যায়।

এ ব্যাপারে খালিশপুর ক্লিনিকের মালিক ডা. মুজাহিদুল ইসলাম জানান, রাত ১২টার পরে বুকে ব্যথা নিয়ে এক রোগী হাসপাতালে আসেন। তাকে সম্ভাব্য সব চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসা চলাকালীন তার মৃত্যু হয়। কিন্তু রোগীর স্বজনরা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সুজাউদ্দিনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে খুমেক হাসপাতালে নিয়ে যায়। বর্তমানে তিনি আহত অবস্থায় খুমেক হাসপাতালের অর্থোপেডিক ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন।

সোনাডাঙ্গা থানার ওসি মমতাজুল হক জানান, চিকিৎসককে লাঞ্ছিত করায় কায়েস ও কৌশিক নামে দুই যুবককে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।