রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এনজিওর বিরুদ্ধে পদক্ষেপের কারণ জানল যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত কয়েকটি এনজিওর বিষয়ে সরকারের কঠোর অবস্থানের বিষয়ে জানতে চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল রোববার সচিবালয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে সাক্ষাতে এ কথা জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার।

সকালে সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর দপ্তরে ওবয়াদুল কাদেরের সঙ্গে প্রায় ৪৫ মিনিট কথা বলেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত। সাক্ষাৎ শেষে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কিছু এনজিওর কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপের ব্যাপারে জানতে চেয়েছেন। তাকে জানানো হয়, কিছু এনজিওর কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সরকারের কাছে অভিযোগ এসেছে। এনজিওগুলো মোনাজাত করবে বলে সরকারের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে রাজনৈতিক মহাসমাবেশ করেছে। এই সমাবেশ আয়োজনে কিছু এনজিওর সক্রিয়ভাবে জড়িত থাকার বিষয়ে সরকার অবগত হয়েছে। এ বিষয়গুলো সরকার আরও খতিয়ে দেখছে। বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি রোহিঙ্গা  ক্যাম্পে ৪১টি এনজিওর কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে সরকার।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আলাপকালে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিভিন্ন এনজিওর কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আরও যেসব অভিযোগ এসেছে তাও যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে অবগত করা হয়েছে। অভিযোগ কোনোটা সত্য হতে পারে, নাও হতে পারে। তবে তাদের বিরুদ্ধে যেসব বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে সে সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে তথ্য দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, রোহিঙ্গাদের দীর্ঘসময় ধরে কক্সবাজারে অবস্থানের কারণে যেসব সমস্যা হচ্ছে সে সম্পর্কেও তিনি রাষ্ট্রদূত মিলারকে জানিয়েছেন। বিশেষ করে ১১ লাখ রোহিঙ্গার এই বাড়তি বোঝা বাংলাদেশের পক্ষে আর বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। তাদের কারণে বাংলাদেশ ভৌগোলিক, পর্যটন, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক দিক দিয়ে সমস্যায় পড়ছে। এর জবাবে রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, রোহিঙ্গাদের দ্রুত ফিরিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। একই সঙ্গে বিপন্ন রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও জরুরি সহায়তার ব্যবস্থা করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ যেভাবে পদক্ষেপ নিচ্ছে তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র একমত বলেও জানান তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি নেতাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র দূতের সাক্ষাতের বিষয় ছিল দূতাবাসের 'রুটিন ওয়ার্ক'। এ ব্যাপারে রাষ্ট্রদূতকে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকার বিরোধী দলকে যথেষ্ট স্পেস দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের স্পেস দিতে বলেছেন।

খালেদা জিয়াকে সরকার ইচ্ছা করেই জামিন দিচ্ছে না- বিএনপি নেতাদের এমন অভিযোগের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, তার জামিনের বিষয়টি আইনি বিষয়। তাছাড়া, বিএনপি নেতারা তো বলছেন যে তারা আন্দোলন করেই খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবেন। তারা তাহলে আন্দোলন করেই তাকে মুক্ত করুক, কে নিষেধ করেছে। তারা তো ৫০০ লোকেরও সমাবেশ করতে পারে না। খালেদা জিয়া দেড় বছর ধরে জেলে। দেড় বছরে দেড় মিনিটের আন্দোলনও তারা করতে পারেনি।