ডেঙ্গুতে আরও একজনের মৃত্যু

সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা ৬০

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

চলতি বছর ডেঙ্গুতে লাশের মিছিলে যুক্ত হলো আরও তিনজনের নাম। গতকাল রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) ডেথ রিভিউ কমিটি এই তিনটি মৃত্যু ডেঙ্গুতে হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে। এ নিয়ে সরকারিভাবে ৬০ জনের মৃত্যু ঘোষণা করা হলো। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ১০১ জনের মৃত্যু পর্যালোচনা করে ডেঙ্গুতে ৬০টি মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বাকি ৪১ জনের মৃত্যু ডেঙ্গুতে হয়নি বলে নিশ্চিত হয়েছে ডেথ রিভিউ কমিটি। গতকাল খুলনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা পৌঁছাল ২০০ জনে। সরকারিভাবে সঠিক হিসাব না থাকায় একেক গণমাধ্যমে মৃত্যুর একেক রকম সংখ্যা প্রকাশ পাচ্ছে। ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে এ নিয়ে। ডেথ রিভিউ কমিটির এ ধরনের কার্যক্রম নিয়ে শুরুতেই প্রশ্ন তুলেছিলেন বিশেষজ্ঞরা।

আইইডিসিআর-এর সাবেক পরিচালক ও বর্তমানে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর'বি) উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মাহমুদুর রহমান বলেন, 'হাসপাতাল থেকে ডেঙ্গুতে মৃত্যু ঘোষণার পর নতুন করে পর্যালোচনার কোনো যৌক্তিকতা নেই। কারণ জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ডেঙ্গু শনাক্ত করা হয়েছে। এর পর ওই রোগীর মৃত্যু হলে সেটিকে ডেঙ্গুজনিত কারণই বলতে হবে। সংক্রামক ব্যাধির ক্ষেত্রে এটিই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিয়ম।'

তবে এটি মানতে নারাজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও আইইডিসিআর। হাসপাতাল থেকে মৃত্যু ঘোষণার পর সেটি পর্যালোচনা করে মৃত্যু নিশ্চিত করছে তারা। তাদের এ ধরনের কার্যক্রম নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনেকে বলেছেন, প্রকৃত মৃত্যুর ঘটনা আড়াল করতেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, 'মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার জন্য তিনটি ধাপে কাজ করা হয়। হাসপাতাল থেকে তথ্য পাওয়ার পর মৃত ব্যক্তির সব ক্লিনিক্যাল তথ্য সংগ্রহ করা হয় প্রথমে। এর পর মৃত্যুর কারণ জানার জন্য উপসর্গ ও শারীরিক অবস্থার তথ্য বিচার ও নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তৃতীয় ধাপে ল্যাবে পরীক্ষায় দায়ী ভাইরাস পেলে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর বিষয়টি হিসাব করা হয়। এ কারণে হাসপাতাল থেকে বলা হলেও আমরা সঙ্গে সঙ্গে তা ঘোষণা করি না  এবং দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান সেটি করতে পারে না।'

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৬১ জন। তাদের মধ্যে ঢাকায় ৩১৪ জন এবং ঢাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে ৪৪৭ জন। চলতি মাসের ১ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যথাক্রমে ৯০২ জন, ৮৬৫ জন, ৭৮৩ জন, ৮২০ জন, ৭৮৮ জন, ৭৯৩ জন ও ৬০৭ জন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। চলতি বছর এ পর্যন্ত ৭৬ হাজার ৫১৪ জন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৭৩ হাজার ৯১ জন চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছেন। দেশের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ৩ হাজার ২২৬ জন রোগী ভর্তি আছেন। তাদের মধ্যে রাজধানীর ৪১ সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ১ হাজার ৫৯২ জন এবং ঢাকার বাইরে বিভাগীয় ও জেলা সদর হাসপাতালে ১ হাজার ৬৩৪ জন রোগী চিকিৎসাধীন। তবে ঢাকার বাইরে নতুন রোগী এখনও বেশি ভর্তি হচ্ছেন। ঈদের আগে থেকে ঢাকার বাইরে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে এবং এখন পর্যন্ত তা অব্যাহত আছে।

খুলনা ব্যুরো জানায়, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আশিকুজ্জামান নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রোববার দুপুর ১২টার দিকে মৃত্যু হয় তার। খুলনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শৈলেন্দ্রনাথ বিশ্বাস জানান, রোববার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে আশিকুজ্জামানকে হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। দুপুর ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়। আশিকুজ্জামানের গ্রামের বাড়ি মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলায়।