প্রেমের ফাঁদে ধর্ষণ ভিডিও ধারণ

শিকার চার কিশোরী

প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০১৯

সমকাল ডেস্ক

ধর্ষণের শিকার হয়েছে স্কুলছাত্রীসহ চারজন। এর মধ্যে বরিশালে দুই তরুণী, জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে এক কিশোরী ও ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। কয়েকটি ঘটনায় দুর্বৃত্তরা ধর্ষণ করেই ক্ষান্ত হয়নি, মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়েও দিয়েছে। সমকাল ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

বরিশাল :নগরীতে এক তরুণীকে গণধর্ষণ ও প্রেমের ফাঁদে ফেলে আরেক কিশোরীকে ধর্ষণের পর ভিডিওচিত্র ধারণের অভিযোগে পৃথক মামলা হয়েছে। এ গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বুধবার রাতে নগরীর ইসলামপাড়া এলাকায়। সেখানকার ভাড়াটিয়া জুয়েল মল্লিক ও লাকি বেগম দম্পতির বাসায় কিছুদিন আগে শরীয়তপুরের এক তরুণী আশ্রয় নেয়। স্থানীয় কিছু যুবক বুধবার রাতে বাসায় হানা দিয়ে জুয়েল মল্লিককে একটি কক্ষের মধ্যে আটকে রেখে ওই তরুণীকে গণধর্ষণ করে। পরে জুয়েল ও তরুণীকে উলঙ্গ করে ভিডিও ধারণের পর মেয়েটিকে নিয়ে চলে যায় ওই দুর্বৃত্তরা।

কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আসাদুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে ওই রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গণধর্ষণে অভিযুক্তদের একজন ফরিদকে গ্রেফতার করে। বৃহস্পতিবার ওই তরুণীকে উদ্ধার ও আলামিন নামে আরেক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় ওই তরুণী বাদী হয়ে থানায় ছয়জনকে অভিযুক্ত করে ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে দুটি মামলা করেছে। ফরিদ ও আলামিনকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ধর্ষিতাকে শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানো হয়েছে।

অন্য মামলায় সদ্য এসএসসি পাস এক কিশোরী (১৫) অভিযোগ করেছে, তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করেছে নগরীর বিআইপি কলোনি এলাকার বাসিন্দা রায়হান হাসান হাওলাদার।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার এসআই ফিরোজ আল-মামুন জানান, ফেসবুকে কিশোরীর সঙ্গে রায়হানের পরিচয়ের মাধ্যমে তারা প্রেমের সম্পর্কে জড়ায়। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কিশোরীকে ধর্ষণের পর ভিডিওচিত্র ধারণ করে ফেসবুকে পোস্ট করেছে রায়হান। বুধবার রাতে কিশোরী মামলা করলে রায়হানকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

জয়পুরহাট :ক্ষেতলাল উপজেলার আছরাঙ্গা দিঘি এলাকায় এক কিশোরীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ধর্ষণের অভিযোগ

উঠেছে। অভিযুক্ত ইমরান হোসেন কালাই উপজেলার ভাপকি গ্রামের আবু তালেবের ছেলে। ধর্ষক ইমরানের সহযোগী ক্ষেতলালের হেরাকুলা গ্রামের মকবুল হোসেনের ছেলে মতিউর রহমান ধর্ষণের দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে। গত বুধবার সন্ধ্যার এ ঘটনায় ওই কিশোরীর বাবা থানায় মামলা করেন। পুলিশ মামলার পরপরই মতিউরকে গ্রেফতার করেছে। ক্ষেতলাল থানার ওসি শাহরিয়ার খান বলেন, ওই ঘটনার প্রধান আসামি ইমরান হোসেনকে গ্রেফতারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) :কালীগঞ্জে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রী বুধবার সন্ধ্যায় আত্মীয়ের বাড়ি বেড়াতে যাওয়ার পথে ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ রাতেই প্রিন্স ও রাসেল নামে দু'জনকে আটক করেছে। কালীগঞ্জ থানার ওসি ইউনুচ আলী বলেন, বুধবার রাতে ধর্ষণ ঘটনার পরই নির্যাতিতার বাবা বারবাজার ফাঁড়িতে অভিযোগ করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে দু'জনকে গ্রেফতার করে। ধর্ষিতার ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।