সম্মেলনের ৩ বছরেও হয়নি পূর্ণাঙ্গ কমিটি

প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০১৯

বগুড়া ব্যুরো

বগুড়ায় সম্মেলনের তিন বছরেও আওয়ামী যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন হয়নি। এ কারণে জেলায় আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী ওই সংগঠনটির সাংগঠনিক তৎপরতা আগের তুলনায় পিছিয়ে পড়েছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচি ছাড়া জেলা সদরে যুবলীগের বড় ধরনের কোনো সাংগঠনিক তৎপরতা তেমন চোখে পড়ে না।

নেতাকর্মীরা বলছেন, বগুড়ায় যুবলীগ সাংগঠনিকভাবে বরাবরই শক্তিশালী ছিল। জাতীয় কিংবা স্থানীয় যে কোনো কর্মসূচিতে ওই সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু সর্বশেষ গেল তিন বছরেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন না হওয়ায় দলীয় কর্মসূচিগুলোতে কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি আশানুরূপ হচ্ছে না। জেলায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি থাকায় কোনো কোনো উপজেলায় সংগঠন কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে। কাহালু ও আদমদীঘি উপজেলা চলছে আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে। তাছাড় বগুড়া সদর এবং শহর কমিটিসহ আরও কয়েকটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পথে।

বগুড়ায় যুবলীগের সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৬ সালের ১৫ অক্টোবর। ওই সম্মেলনে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক দুই নেতা শুভাশীষ পোদ্দার লিটন এবং আমিনুল ইসলাম ডাবলু যথাক্রমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তখন বলা হয়েছিল, দ্রুততম সময়ের মধ্যে ১০১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে। কিন্তু ৩৪ মাস পেরিয়ে গেলেও সেটি আর করা সম্ভব হয়নি। এরই মধ্যে গত বুধবার রাতে যুবলীগ বগুড়া জেলা কমিটির সভাপতি শুভাশীষ পোদ্দার লিটনের ব্যক্তিগত অফিসে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে।

ওই হামলার ঘটনায় যুবলীগ থেকে বহিস্কৃত এক নেতার ভাইসহ বেশ কয়েজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। হামলার কারণ সম্পর্কে শুভাশীষ পোদ্দার লিটন জানান, তার সঙ্গে কারও শত্রুতা নেই। তবে তিনি চাঁদাবাজি ও জুয়াসহ অসামাজিক নানা কাজে বাধা দেওয়ার কথা জানিয়ে বলেন, 'আমি সমাজবিরোধীদের বিরুদ্ধে লড়াই করে চলেছি। সেটাও একটা কারণ হতে পারে। তাছাড়া যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত কাউকে অন্তর্ভুক্ত করিনি সে কারণেও হয়তো কেউ আমাকে টার্গেট করে থাকতে পারে।'

দলীয় সূত্রগুলো জানায়, পছন্দের নেতৃত্ব খোঁজা এবং তাদের কাকে কোন পদ দেওয়া যায়- এ নিয়ে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে সৃষ্ট মতভেদের কারণে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া ঝুলে যায়। তবে এ নিয়ে প্রায় আড়াই বছর ধরে অনেক আলোচনা ও লবিংয়ের পর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক একমত হয়ে চলতি বছরের ২৯ এপ্রিল কেন্দ্রে প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ কমিটির জন্য একটি নামের তালিকা জমা দিয়েছেন। তবে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে বিলম্বের ভিন্ন ভিন্ন কারণের কথা বলেছেন সংগঠনটির জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। জেলা কমিটির সভাপতি শুভাশীষ পোদ্দার লিটন জানান, সৎ, দক্ষ এবং ভালো ইমেজ রয়েছে- এমন নেতৃত্ব খুঁজতে একটু সময় লেগেছে। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম ডাবলু জানান, জাতীয় নির্বাচন, সংসদের উপনির্বাচন এবং জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মমতাজ উদ্দিনের মৃত্যু- এমন অনেক কারণে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের কাজটি কিছুটা পিছিয়ে গেছে। অবশ্য তারা দু'জনই জানান, সবার সঙ্গে কথা বলে চলতি বছরের ২৯ এপ্রিল সর্বসম্মতভাবে পূর্ণাঙ্গ কমিটির একটি তালিকা কেন্দ্রে পাঠিয়ে দিয়েছেন। তাদের ধারণা, সম্মেলনের আড়াই বছর পর পাঠানো ওই তালিকা আগামী সেপ্টেম্বর নাগাদ চূড়ান্ত অনুমোদন পেতে পারে।

জেলা যুবলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বলেন, পূর্ণাঙ্গ কমিটি থাকলে সংগঠন আরও গতি পেত এটা ঠিক। তবে তার মানে এই নয় যে, যুবলীগের কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়েছে। উভয় নেতা আগস্ট মাসে শোক দিবসের কর্মসূচি পালনের উদাহরণ দিয়ে বলেন, আমরা জাতীয় কর্মসূচির বাইরেও অনেক কর্মসূচি পালন করেছি।