বহির্বিভাগ চালুর পাঁচ দিনেই ওষুধ সংকট

প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০১৯

সাইফুল হক মোল্লা দুলু, কিশোরগঞ্জ

কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বহির্বিভাগ চালু হয়েছে গত ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে। চালুর এই পাঁচ দিনেই হাসপাতালে ওষুধ সংকট দেখা দিয়েছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ না পেয়ে মন খারাপ করে চলে যাচ্ছেন চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা। সংকটের এখানেই শেষ নয়। হাসপাতালে কর্মরত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বহির্বিভাগে রোগী দেখছেন না। তারা শহরের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল বা ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখছেন। ফলে গরিব রোগীরা উন্নত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। শুরু হওয়ার পর বিশাল এই হাসপাতাল নিয়ে সাধারণ মানুষের যতটা আগ্রহ ছিল, এসব কারণে সেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন তারা। ফলে প্রথম দিনের তুলনায় চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বহির্বিভাগ চালু হওয়ার পর দরিদ্র ও অসহায় রোগীরা হুমরি খেয়ে পড়ছেন। প্রথম দিন এক হাজার তিনজনকে বহির্বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ১৭ আগস্ট দ্বিতীয় দিন ৫৩৭ জন, ১৮ আগস্ট ৪৭৭, ১৯ আগস্ট ৪৮০ ও ২০ আগস্ট গতকাল মঙ্গলবার ৫৭৩ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ওষুধ সংকটের কারণে রোগীদের মাত্র তিন দিনের ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। এ ছাড়া জীবন রক্ষাকারী অনেক ওষুধই হাসপাতালে নেই। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা একাধিক রোগী জানান, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বহির্বিভাগে রোগী না দেখায় জটিল রোগে আক্রান্ত অনেকে চিকিৎসা না নিয়েই চলে যাচ্ছেন। হাওরের ইটনা উপজেলা থেকে আসা রোগী লোকমান আলী বলেন, 'মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রফেসর রোগী দেখবেন, এটাই জানি। দীর্ঘদিন ধরে নানা রোগে ভুগছি। প্রফেসরদের বহির্বিভাগে না পেয়ে চিকিৎসা না নিয়ে ফিরে যাচ্ছি। অনেক আশা নিয়ে মেডিকেল কলেজে এসেছিলাম।'

হাসপাতালে ওষুধ বিতরণ বিভাগে কর্মরত সিনিয়র নার্স শেফালী আক্তার, ইসরাত জাহান, শাহমিনা ও আলপনা বলেন, সংকটের কারণে রোগীদের তারা প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করতে পারছেন না। তবে চিকিৎসকরা ব্যবস্থাপত্রে যে ওষুধ লিখে দেন, তা সরবরাহের চেষ্টা করেন তারা।

গাইনি চিকিৎসক হাফিজা আক্কার ইমা বলেন, দুপুর ১২টার মধ্যে ৩৮ রোগীকে দেখে ব্যবস্থাপত্র দিয়েছি। কিছু ওষুধ হয়তো বাইরে থেকে কিনতে হবে তাদের।

ডা. মোহাম্মদ আবিদুর রহমান জিমি (আরএস মেডিসিন) বলেন, দুপুর ১২টার আগেই ৪০ জন রোগীকে চিকিৎসা দিয়ে ব্যবস্থাপত্র দিয়েছি। নিজের এলাকার মানুষকে সেবা দিতে পেরে খুব ভালো লাগছে। আমি আনন্দিত। নির্ধারিত সময়ের পর রোগী এলেও তাদের চিকিৎসা দেব। তিনি বলেন, কিছুটা মেডিসিন সংকট রয়েছে। এর সঠিক কারণ কর্তৃপক্ষ বলতে পারবে।

সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) স্বাস্থ্যবিষয়ক কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন ফারুকী বলেন, প্রায় ৯ বছর পর সৈয়দ নজরুল মেডিকেল কলেজের বহির্বিভাগ চালু হয়েছে। মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে ওষুধ সংকটের পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বহির্বিভাগে রোগী দেখছেন না। এটা খুবই দুঃখজনক। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান না

হলে মহান ব্যক্তির নামে মেডিকেল কলেজটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হবে।

হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সৈয়দ মো. মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, কৌশলগত কারণে ওষুধের কিছুটা সংকট দেখানো হচ্ছে। অধিকাংশ রোগীকে তিন দিনে ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। তিন দিন পর আবার তারা ওষুধ নিতে পারবেন।

ওষুধ সংকট নিয়ে একই কথা বললেন হাসপাতালের পরিচালক ডা. সাইফুর রহমান। তিনি বলেন, ২০ লাখ টাকার ওষুধ কেনা হয়েছে। এরই মধ্যে আরও ওষুধের জন্য চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। বহির্বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বহির্বিভাগ চালু হয়েছে এক সপ্তাহ হয়নি। আলাপ-আলোচনা চলছে। আশা করছি, শিগগির এ সমস্যারও সমাধান হবে।