শখে হাসনিার ট্রনেে বোমা হামলা

রামেক হাসপাতালে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি টেনুর মৃত্যু

প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০১৯

রাজশাহী ব্যুরো, পাবনা অফিস ও ঈশ্বরদী প্রতিনিধি

পাবনার ঈশ্বরদীতে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রেনে বোমা ও গুলিবর্ষণ মামলার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি স্থানীয় বিএনপি নেতা আবুল হাকিম টেনু (৫৮) গতকাল বৃহস্পতিবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে মারা গেছেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতালের প্রিজন সেলে তিনি মারা যান বলে পরিবারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়বেটিসসহ নানা রোগে ভুগছিলেন। তিনি স্ত্রী ও তিন মেয়ে রেখে গেছেন।

এ বছর ৩ জুলাই পাবনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক রোস্তম আলী ওই মামলার রায়ে ৯ জনের ফাঁসি, আবুল হাকিম টেনুসহ ২৫ জনের যাবজ্জীবন, ১৩ জনের ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন। পাশাপাশি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের পাঁচ লাখ, যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তদের তিন লাখ এবং ১০ বছর সাজাপ্রাপ্তদের এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। রায় ঘোষণার কয়েকদিন পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ও যাবজ্জীবন দণ্ডাদেশপ্রাপ্তদের রাজশাহী কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। রাজশাহী কারাগারে টেনুর শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে তাকে কারাগারের হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেই গতকাল দুপুরে তিনি মারা যান।

সূত্র জানায়, গত ২১ জুলাই এই দণ্ডের বিরুদ্ধে আসামিদের পক্ষে হাইকোর্টে আপিল আবেদন করা হয়।

২০ আগস্ট মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আটজনসহ মোট ৪৩ জনের আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন বিচারপতি রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি এ এস এম আবদুল মোবিনের বেঞ্চ।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর খুলনা থেকে ট্রেনে ঈশ্বরদী হয়ে সৈয়দপুরের দলীয় কর্মসূচিতে যাচ্ছিলেন তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাকে বহনকারী ট্রেনটি ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশনে প্রবেশের মুহূর্তে শেখ হাসিনার কামরা লক্ষ্য করে বোমা ও গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। পরে ঈশ্বরদী জিআরপি থানার ওই সময়কার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাদী হয়ে তৎকালীন ছাত্রদল নেতা ও বর্তমানে ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুসহ সাতজনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলা দায়েরের পর কোনো সাক্ষী না পেয়ে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয় পুলিশ। কিন্তু আদালত ওই প্রতিবেদন গ্রহণ না করে অধিকতর তদন্তের জন্য তা সিআইডিতে পাঠান। পরে সিআইডি তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। চার্জশিটে নতুনভাবে স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীসহ ৫২ জনকে এ মামলার আসামি করা হয়। মামলা চলাকালে ২৫ বছরে পাঁচ আসামি মৃত্যুবরণ করেন।