লটকনের যত গুণ

প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০১৯

লেখা ও ছবি :মোকারম হোসেন

আপাতদৃষ্টিতে লটকন বর্ষার একটি মুখরোচক ফল হলেও ফলটি পুষ্টিগুণের পাশাপাশি ঔষধিগুণেও অনন্য। লটকনের বেশ কয়েকটি নাম আছে- হাড়ফাটা, ডুবি, বুবি, কানাইজু, লটকা, লটকাউ, কিছুয়ান ইত্যাদি। লটকন খেলে সহজেই বমি বমি ভাব দূর হয়। তৃষ্ণা নিবারণেও সহায়ক হয়। আবার মানসিক চাপ কমাতেও এ ফল ব্যবহূত হয়। লটকন গাছের ছাল ও পাতা চর্মরোগ সারাইয়ে কার্যকর। শুকনো পাতার গুঁড়ো ডায়রিয়া উপশমে বেশ দ্রুত কাজ করে। পাতা ও মূল পেটের পীড়া ও পুরান জ্বর নিরাময় করে। এমনকি গনোরিয়ার ওষুধ হিসেবেও এ ফলের বীজ ব্যবহূত হয়। তবে এ ফল বেশি মাত্রায় খাওয়া উচিত নয়। তাতে ক্ষুধামন্দা

দেখা দিতে পারে। লটকনে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন 'বি'। এতে ভিটামিন বি-১ এবং ভিটামিন বি-২ আছে যথাক্রমে ১০.০৪ মিলিগ্রাম এবং ০.২০ মিলিগ্রাম। পাকা লটকন খাদ্যমানের দিক থেকে খুবই সমৃদ্ধ। প্রতি ১০০ গ্রাম লটকনের কোষে খাদ্যশক্তি থাকে প্রায় ৯২ কিলোক্যালরি। অবাক বিষয় হলো, এতে যে পরিমাণ ক্যালরি আছে তা আমাদের জাতীয় ফল কাঁঠালের প্রায় দ্বিগুণ। লটকনে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন 'সি' আছে। আছে চর্বি, আমিষ, লৌহ ও খনিজ পদার্থ।

লটকন ফল নিয়ে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটেরও নানামাত্রিক গবেষণা রয়েছে। শুধু নরসিংদীতেই নয়, সিলেট, ময়মনসিংহ, গাজীপুর, টাঙ্গাইল ও উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলায়ও এ ফলের চাষ হয়। গাছ ছয় থেকে আট মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। পাতা গাঢ় সবুজ, ডিম্বাকার। বসন্তে গাছের কাণ্ড ও ডালপালাজুড়ে সুদর্শন ফুল ফোটে। তখন পুরুষ আর স্ত্রী ফুলের তফাৎ বোঝা যায়। ফল সুগোল, বড় মার্বেল আকৃতির। কাঁচা ফল সবুজ, পাকলে গোলাপি হলুদ বা বাদামি রঙের। খোসা শক্ত, মসৃণ ও পুরু। ভেতরের খাদ্যাংশ বীজযুক্ত, রসালো ও কোয়ার মতো। বীজের চারপাশে লিচুর মতো শাঁস থাকে। সাদা শাঁসের স্বাদ মিষ্টি-টক ও মুখরোচক, লালচে শাঁস টক। প্রতিটি ফল ১২ থেকে ২০ গ্রাম ওজন হতে পারে। লটকন (ইধপপধঁৎবধ ংধঢ়রফধ) রুচিবর্ধক। কাঁচা ফল স্থানীয়ভাবে সবজি হিসেবে রান্না করে খাওয়া হয়।

এই ফল সরাসরি অথবা জ্যাম তৈরি করে খাওয়া যায়। ছাল থেকে তৈরি রঙ রেশম সুতা রাঙাতে ব্যবহূত হয়। কাঠ নিম্নমানের। ছায়াযুক্ত স্থানে পছন্দ।