শেরপুরে দরিদ্রদের কর্মসূচিতে দুর্নীতি

প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

সরকারের অতিদরিদ্রের কর্মসংস্থান কর্মসূচি বাস্তবায়নে দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বৃহস্পতিবার কমিশনের এনফোর্সমেন্ট টিম শেরপুর জেলায় অভিযান চালিয়ে কর্মসংস্থানমূলক রাস্তা মেরামতের কাজে দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে। এ ছাড়া রাজধানীসহ একাধিক জেলায় অভিযানে অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য পাওয়া গেছে।

দুদক সূত্র জানায়, শেরপুর জেলার সদর উপজেলার চরপক্ষিমারী ইউনিয়নে অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচির ৪০ দিনের প্রকল্পে অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। জেলার নন্দীজোর এলাকার গাজী মেম্বারের বাড়ি থেকে খাসপাড়া হয়ে কামারপাড়া দেলোয়ারের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা মেরামতের জন্য ছয় লাখ ৪০ হাজার টাকার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এতে মোট ৮০ বেকারকে কাজের সুযোগ দেওয়ার কথা থাকলেও মাত্র ১৮ জনকে কাজ দেওয়া হয়। বাকি ৬২ জনকে কাজ না দিয়ে তাদের জন্য বরাদ্দ টাকা আত্মসাৎ করা হয়।

এনফোর্সমেন্ট টিমের অভিযানে দুর্নীতির ওই তথ্য বেরিয়ে এসেছে। এ জেলার আরও চার-পাঁচটি প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে রাজশাহীতে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলার জন্য তাহেরপুর পৌরসভা এলাকায় অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় তাহেরপুর শহররক্ষা বেড়িবাঁধ নির্মাণে দুর্নীতি হয়েছে। এনফোর্সমেন্ট টিমের অভিযানে দেখা যায়, বেড়িবাঁধ প্রকল্পের মোট বরাদ্দ পাঁচ কোটি টাকা। বাঁধটির দৈর্ঘ্য ৪১৫ মিটার। এর মধ্যে ৪০০ মিটারের কাজ হয়েছে অত্যন্ত নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করে। বাকি ১৫ মিটারের কাজ হয়নি। কাজ শেষ হওয়ার তিন মাস যেতে না যেতেই বাঁধের প্রায় ৬০ ভাগ নদীতে বিলীন হয়েছে। বাকি অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে।

এ ছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারের ক্যান্টিনে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি রাখার তথ্য মিলেছে। কারা ফটকের বাইরে অবস্থিত ক্যান্টিনে মূল্য তালিকার বাইরে বিভিন্ন আইটেমে ২০-৪০ টাকা করে বেশি নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, রাজধানীর উত্তরা বিআরটিএতে অভিযানে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান, ফিটনেস প্রদান, নতুন নম্বর প্লেট গ্রহণ ইত্যাদি সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে হয়রানির প্রমাণ মিলেছে।

সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে দালালদের দৌরাত্ম্য প্রকট। সেবাপ্রার্থীরা দুদক টিমের সদস্যদের জানান, তাদের কাজ অনেকদিন ধরে ঝুলে আছে। দিনের পর দিন ঘুরেও কাজ হচ্ছে না। উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের বাইরে যেতে তিন ছাত্রের ড্রাইভিং লাইসেন্স ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে অনেকদিন ধরে। পরে দুদক কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সমস্যা সমাধান করা হয়।

সংশ্নিষ্ট ডাটা এন্ট্রি অপারেটরের বিরুদ্ধে ওই অনিয়ম-দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যায়।