সড়ক পরিবহন আইন কার্যকর স্বল্পতম সময়ে ওবায়দুল কাদের

প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

সড়ক পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে ১১১ দফা সুপারিশ সংবলিত প্রতিবেদন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে এ-সংক্রান্ত কমিটি। কমিটির প্রধান সাবেক নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান গতকাল বৃহস্পতিবার সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের কাছে প্রতিবেদন জমা দেন।

ওবায়দুল কাদের জানান, আগামী ৫ সেপ্টেম্বর সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের সভায় সুপারিশগুলো সংযোজন, পরিবর্তন ও পরিমার্জন করে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে। মন্ত্রী বলেন, বছরখানেক আগে পাস হওয়া সড়ক পরিবহন আইন স্বল্পতম সময়ে কার্যকর হবে। অংশীজনের মতামত নিয়ে বিধিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের ২৬তম সভায় শাজাহান খানকে আহ্বায়ক করে ১৫ সদস্যের কমিটি করা হয় সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর সুপারিশ করতে। গত এপ্রিলে কমিটি ১১১টি সুপারিশ

করে। ২৯ এপ্রিল তা প্রতিবেদন আকারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেওয়া হয়।

ওবায়দুল কাদের বলেন, কমিটির ১১১ সুপারিশের মধ্যে আশু করণীয় ৫০টি, স্বল্পমেয়াদি ৩২টি এবং দীর্ঘমেয়াদি ২৯টি। কমিটি সাতটি সভার মাধ্যমে দুর্ঘটনার কারণ চিহ্নিত করে সুপারিশমালার প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। সুপারিশমালার মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণগুলো উঠে এসেছে। যেমন অদক্ষ চালক, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, চালকের অসতর্কতা, সড়ক নির্মাণে ত্রুটি, যাত্রী ও পথচারীদের অসচেতনতা। মন্ত্রী বলেন, দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে শিগগির টাস্কফোর্স গঠন করা হবে।

সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব ও সড়ক পরিবহন সমিতির সভাপতি মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ, সড়ক পরিবহন সচিব নজরুল ইসলাম, কমিটির সদস্য কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, সংস্কৃতি কর্মী রোকেয়া প্রাচী, হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপুলিশ পরিদর্শক ব্যারিস্টার মাহাবুবুর রহমান প্রমুখ।

'গ্রেনেড হামলার মাস্টারমাইন্ড তারেক রহমান' :এদিকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে মহিলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার ঘটনার মাস্টারমাইন্ড তারেক রহমান- এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। এটা প্রচলিত আদালত ও জনতার আদালতে প্রমাণিত। ইতিহাসের আদালতেও এর প্রমাণ হবে।

তিনি বলেন, ১৫ আগস্টের প্রাইম টার্গেট বঙ্গবন্ধু। ২১ আগস্টের প্রাইম টার্গেট বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। এ দুটি একই ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতা। তিনি বলেন, গ্রেনেড হামলার সময় কারা ক্ষমতায় ছিল? এই হামলাকারী হত্যাকারীদের নেতা হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নান জবানবন্দিতে বলেছে, হাওয়া ভবনের পরিকল্পনায় ও তারেক রহমানের নির্দেশে তারা ২১ আগস্ট হামলা চালিয়েছিল। এ ঘটনায় বিএনপি সরকার জড়িত না থাকলে এফবিআইকে তদন্ত করতে ও স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডকে তদন্তে আসতে কেন বাধা দেওয়া হয়েছিল? মাস্টারমাইন্ড না হলে তারা জর্জ মিয়া চিত্রনাট্য সাজিয়েছিল কেন? কেন সব আলামত নষ্ট করা হয়েছিল? কেন হামলাকারীদের চোখের সামনে দিয়ে চলে যেতে দেওয়া হয়েছিল? এর জবাব কি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেবেন?

মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিয়া খাতুনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা বেগম কৃকের পরিচালনায় এ সভায় আরও বক্তব্য দেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা, অধ্যাপক মেরিনা জাহান কবিতা, পারভীন জামান কল্পনা, শাহে আলম মুরাদ, সাহিদা তারেক দিপ্তি, আসমা জেরিন ঝুমু, শেখ আনার কলি পুতুল, সুরাইয়া বেগম ইভা প্রমুখ।