এইচআরএফবির সংবাদ সম্মেলন জাতিসংঘ কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নের আহ্বান

প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

চলতি বছরের জুলাইয়ে জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী কমিটির ৬৭তম অধিবেশনে নির্যাতন এবং অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক, মর্যাদাহানিকর আচরণ বা শাস্তিবিরোধী সনদের আওতায় বাংলাদেশের অগ্রগতি বিষয়ে প্রথমবারের মতো পর্যালোচনা করা হয়। পর্যালোচনা শেষে ৯ আগস্ট জাতিসংঘ কমিটি চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণে সরকারের কাছে ৭৭টি সুপারিশ করে। জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী কমিটির সেসব সুপারিশ বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের নেতারা।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানানো হয়। সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের জন্য সরকারকে আহ্বান জানিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ (এইচআরএফবি)।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বিরুদ্ধে নির্যাতন, আটক, হেফাজতে মৃত্যুর মতো গুরুতর অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং মানবাধিকার কর্মী, নাগরিক সংগঠন, গণমাধ্যম কর্মী, সাক্ষী ও ভুক্তভোগী এবং মুক্তচিন্তকদের মত প্রকাশের

স্বাধীনতা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অঙ্গীকার অত্যাবশ্যক।

সভাপতির বক্তব্যে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) চেয়ারপারসন জেড আই খান পান্না বলেন, স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পূর্তি হবে আগামী বছর। মুক্তিযুদ্ধ করে জন্ম নেওয়া বাংলাদেশ মানবাধিকার, জনগণের মুক্তি ও স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে তা সুরক্ষার জন্য পদক্ষেপ নেবে, এটিই আশা। তিনি জাতিসংঘ নির্যাতনবিরোধী কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নের ওপর জোর দিতে সরকারকে আহ্বান জানান।

এ সময় মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, মানবাধিকার কর্মীরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মানবাধিকার-সংক্রান্ত সমস্যা তুলে ধরে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে নয়, সরকারকে সহযোগিতা করতে চান। প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে যাতে সরকার মানবাধিকার সংরক্ষণ ও উন্নয়নে পদক্ষেপ নিতে পারে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে নারী ও শিশু নির্যাতন ব্যাপক হারে বেড়েছে। এর প্রতিকারে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।

অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্মস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (এএলআরডি) নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা বলেন, নির্যাতনবিরোধী কমিটির পর্যালোচনায় আইন, বিচার ও সংসদীয়বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শুধু আমাদের কী ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি কাঠামো আছে, তা তুলে ধরতে পেরেছেন। কিন্তু সেগুলোর বাস্তব প্রয়োগ কতটুকু হচ্ছে, তার চিত্র তুলে ধরতে পারেননি। এ সংক্রান্ত কমিটির সদস্যদেরও প্রশ্নের আশানুরূপ জবাব দিতে পারেননি।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, আসক কর্মী ও এইচআরএফবির সমন্বয়ক তামান্না হক রীতি, নাগরিক উদ্যোগের নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান প্রমুখ।