প্রভাবশালীদের কাছ থেকে ধান কেনার অভিযোগ খতিয়ে দেখবে মন্ত্রণালয়

প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

ভালো ফলনে ধানের দাম না পেয়ে কৃষকের যে ক্ষতি হয়েছে, তা পুষিয়ে দিতে সরকার নিয়মিত ধান-চাল কেনার বাইরেও বাড়তি দুই লাখ ৫০ হাজার টন ধান কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে অভিযোগ উঠেছে, সরাসরি সরকারের কাছে ধান বিক্রি করতে পারছেন না কৃষক। স্থানীয় প্রভাবশালী ও মিলাররাই এ ধান সরবরাহ করছেন। এ অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ডা. মো. আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, আমরা খাদ্য মন্ত্রণালয়কে একটি চিঠি দেব। যেসব চাষির কাছ থেকে ধান কেনা হয়েছে, তাদের তালিকা চাওয়া হবে। যাদের নাম দেওয়া হবে, তাদের কাছ থেকে সত্যিই ধান কেনা হয়েছে কি-না, তা খতিয়ে দেখা হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষি তথ্য সার্ভিস মিলনায়তনে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানান তিনি।

এর আগে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার (স্বর্ণপদক) প্রাপ্তদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন। ১৯৯৬ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত ৪৯ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে প্রথমবারের মতো এ সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে কৃষি তথ্য সার্ভিসের পরিচালক ড. মো নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামান। অনুষ্ঠানের শুরুতে আব্দুর রাজ্জাক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি উদ্বোধন ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় তিনি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে নতুন প্রেস ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং কৃষি যোগাযোগ ও তথ্যসেবা কেন্দ্র এবং এআইএস টিউব (ডিজিটাল আর্কাইভ) উদ্বোধন করেন।

মতবিনিময় অনুষ্ঠানে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, 'চাষিদের নাম দিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালীরা ধান বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কৃষকরা বঞ্চিতই থাকছেন। আমরা শুধু খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ওপর আর

নির্ভর করে থাকতে চাই না। তাদের কাছে কৃষকের তালিকা চাইব, যাদের থেকে ধান কেনা হয়েছে। সেগুলো আবার খতিয়ে দেখব।'

সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে স্বর্ণপদকপ্রাপ্তদের অনেকেই দাবি করেন, ব্যবসা-বাণিজ্যে অবদানের জন্য ব্যবসায়ীদের সিআইপির মর্যাদা দেওয়া হয়। তারা রাষ্ট্রের অনেক সুবিধা পান এবং বিভিন্ন পর্যায়ে সম্মানিত হন। একইভাবে যাতে কৃষিতে অবদানের জন্য রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কৃষিমন্ত্রী বলেন, 'সিআইপিদের মতো কৃষির উন্নয়নে কাজ করে যারা স্বর্ণপদক লাভ করেছেন, তাদেরও এআইপি (এগ্রিকালচার ইমপর্টেন্ট পারসন) সম্মাননা দেওয়া হবে। শিগগিরই বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হবে।'

সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, 'আগামী বোরোতে বা আমনে কোনোভাবেই যেন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা লক্ষ্য রাখা হবে। কৃষি যন্ত্রপাতিতে কৃষককে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত প্রণোদনা দেওয়া হবে।'

বঙ্গবন্ধু কৃষিপদকপ্রাপ্তরা হলেন- এবাদুল হক, আবদুল মজিদ মুন্সি, শেফালী বেগম, শাহজাহান আলী, শান্তি বেগম, আব্দুস সালাম, জি এম মঈনুদ্দীন, কালীময় তঞ্চঙ্গ্যা, শেখ আফিল উদ্দিন এমপি, পাবনা-৩-এর সংসদ সদস্য মকবুল হোসেন এমপি, নাজিম উদ্দিন চৌধুরী, ঊষা রানী গোস্বামী, এম এ মতিন, সাবিকুন নাহার শিউলি, ডা. এস এম আফসারুজ্জামান, লুৎফর রহমান, মামুন উর রশিদ, মাসিং নু মারমা, বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, সামছুদ্দিন, ছাইদুন্নেছা, নূরুন্নাহার বেগম, আবদুল কাইয়ুম মজুমদার, নিভা রানী বিশ্বাস, শক্তি কির্ত্তুনীয়া, সাইফুল ইসলাম চৌধুরী, আবদুল খালেক, বেলি বেগম, আবদুল বাছিত সেলিম, ড. শহীদুর রশিদ ভূঁইয়া, কৃষিবিদ নাজমুন নাহার, ড. রাখা হরি সরকার ও আমিনুল ইসলাম। প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনগুলো হলো- বাংলাদেশ রুলার অ্যাডভান্সমেন্ট কমিটি, প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র, কৃষি তথ্য সার্ভিস, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, পূর্ব বীরকোট আইপিএম মহিলা ক্লাব, গদাখালী ফুলচাষী ও ফুল ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, মৎস্য অধিদপ্তর, আফতাব বহুমুখী ফার্ম, অন্নপূর্ণা সার্ভিস এগ্রো, ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।