মোশন সিকনেস কাটাবেন যেভাবে

প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০১৯

ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ

সাবেক ডিন

মেডিসিন অনুষদ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

ভ্রমণে বাস, ট্রেন, লঞ্চ, বিমানে উঠলে অনেকেই বমিভাব ও সেইসঙ্গে মাথা ঘোরানোর মতো অস্বস্তি অনুভব করে থাকেন। একে বলা হয় মোশন সিকনেস। অনেকে বাস বা ট্রেনের ঝাঁকুনি, লঞ্চের দুলুনি এবং বিমানের শূন্যতার কারণেই মূলত এ সমস্যায় পড়েন। পেটে অস্বস্তিকর অনুভূতি, মাথা ঘোরানো, কানে ভোঁ ভোঁ করতে থাকা ইত্যাদি সমস্যা হয়। এই মোশন সিকনেস কাটাতে অর্থাৎ বাস বা ট্রেনে উঠলে বমিভাব দূর করার খুবই সাধারণ কিন্তু কার্যকর কিছু উপায় রয়েছে। এগুলো হলো- বাহনে ওঠার আগে কী খাওয়া উচিত, কী খাওয়া উচিত নয় সেদিকে নজর দিন। অতিরিক্ত সফট ড্রিংকস, ঝাল-মসলাযুক্ত খাবার একেবারেই খাবেন না। যারা এ সমস্যায় ভোগেন

তারা প্রয়োজনে কিছু না খেয়েই বাহনে উঠুন। অনেক দূরের পথ হলে হালকা শুকনো কিছু খেয়ে নিন। অতিরিক্ত ঘ্রাণ বা সুগন্ধযুক্ত খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। বাহন চলাকালে কিছু খেতে চাইলে শুকনো চিপস ধরনের খাবার অল্প পরিমাণে খাবেন। পানি পান করবেন। বাহন যেদিক মুখ করে সামনে এগোচ্ছে তার উল্টোদিকে কখনও বসবেন না। উল্টো মোশনের কারণে বমিভাব প্রবল হয়। বাহন যেদিকে এগোচ্ছে, সেদিক মুখ করে বসুন। বাসে বসার ক্ষেত্রে পেছনের দিকের সিটে বসার ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। পেছনের দিকে ঝাঁকুনি বেশি লাগে, যা অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যতটা সম্ভব চলার পথের সমতলে নজর রাখুন। বাইরের দৃশ্য দেখায় মনোযোগ দিন। নিচের দিকে বা ওপরের দিকে তাকিয়ে বসে থাকলেও বমিভাব ও অস্বস্তি হয়। যাদের মোশন সিকনেস রয়েছে, তারা বাহনে উঠে চলার সময় কোনো বই পড়া বা মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপে কিছু দেখার চেষ্টা করবেন না। এতে আরও অস্বস্তি হতে থাকবে। বন্ধ স্থানে আরও বেশি সমস্যা হয়। তাই বাস বা ট্রেনে উঠলে জানালার পাশে বসে তাজা বাতাস গ্রহণ করতে পারলে এই বমিভাব আপনা থেকেই কেটে যায়। বমিভাব দূর করার জন্য বাহনে ওঠার আগেই এজাতীয় ওষুধ খেয়ে নিতে পারেন। যদি আপনার খুব অল্প দূরত্বের জন্য এবং ঘন ঘন এই সমস্যা হতে থাকে তাহলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করুন, সুস্থ থাকুন।